একনজরে

10/recent/ticker-posts

Emoji story ইমোজি এল কোথা থেকে? জানুন গোটা বিশ্বের ডিজিটাল ভাষার নানা অজানা দিক

 


খোশখবর ডেস্কঃ আপনি কী কারোর কোনও কাজের প্রশংসা করতে চান, অথচ ঠিকঠাক ভাষায় প্রকাশ করতে পারছেন না। অথবা কারও কোনও যুক্তি বা কাজ আপনার পছন্দ হয় নি? যদিও তার বিরুদ্ধে বেশি কিছু লেখারও ইচ্ছে নেই? এসব ক্ষেত্রে আপনার বিরাট সহায় একটা ইমোজি( emoji )। স্ক্রিনে ভেসে ওঠা একটি ছোট্ট হাসিমুখ কিংবা থাম্বস-আপ বা ব্যাজার করা মুখ প্রায়শই দীর্ঘ এক অনুচ্ছেদ লেখার প্রয়োজনীয়তা দূর করে দেয়। ডিজিটাল যোগাযোগের এই দুনিয়ায় ইমোজি এখন আর কেবল নিছক কোনো চিত্র বা চিহ্ন নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে আমাদের অনুভূতির এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ।



ইমোজির শুরু হল কীভাবে?

ইমোজির শুরু কিন্তু হঠাত করে একদিনে হয় নি। ইমোজির আগে ছিল ইমোটিকন (Emoticon) । বলা হয় ১৯৮২ সালে কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্কট ফাহলম্যানের কিবোর্ডের বিরাম চিহ্ন দিয়ে তৈরি প্রতীক 'ইমোটিকন' (:-) বা :-() ই আসলে ইমোজির পূর্ব ধাপ। ইমোটিকন ছিল কিবোর্ডের বিরাম চিহ্ন দিয়ে তৈরি প্রতীক, আর ইমোজি হলো প্রকৃত চিত্রচিহ্ন। এই দীর্ঘ বিবর্তনই আমাদের আজকের সমৃদ্ধ ডিজিটাল ভাষার ভিত্তি।

১৯৯৭ সালে জাপানি প্রতিষ্ঠান সফটব্যাংক (SoftBank) ৯০টি সাদা-কালো ইমোজির একটি সেট প্রকাশ করেছিল, যার কারিগর কে ছিল তা আজও অজানাই রয়ে গেছে। যদিও আধুনিক ইমোজির ইতিহাসে সফটব্যাংকের অবদানও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। ১৯৯৯ সালে জাপানি ডেভেলপার শিগেতাকা কুরিতা এনটিটি ডোকোমো (NTT DOCOMO)-এর জন্য ১৭৬টি রঙিন প্রতীক তৈরি করেন। তাকেই আধুনিক ইমোজির জনক হিসেবে শ্রদ্ধা জানানো হয়।


ইমোজি কী 'ইমোশন' থেকে এসেছে?

অনেকেই মনে করেন 'ইমোজি' শব্দটি ইংরেজি 'ইমোশন' (Emotion) থেকে এসেছে। তবে ইমোজির সঙ্গে ইংরেজি 'ইমোশন' শব্দের সরাসরি কোনো ভাষাগত সম্পর্ক নেই। এটি মূলত একটি জাপানি শব্দ। জাপানি ভাষায় ‘এ’ (e) শব্দের অর্থ হলো ‘ছবি’ এবং ‘মোজি’ (moji) শব্দের অর্থ হলো ‘লিখিত অক্ষর’। অর্থাৎ আক্ষরিক অর্থে ইমোজি মানে হলো ‘ছবি-অক্ষর’ বা পিক্টোগ্রাম।

আসলে ইমোজি কেবল মনের ভাব প্রকাশের অনুষঙ্গ নয়, বরং এটি আমাদের প্রথাগত লিখিত বর্ণমালার একটি চিত্রভিত্তিক আধুনিক সম্প্রসারণ। এটি শব্দের বিকল্প হিসেবে কাজ করার জন্যই প্রাথমিকভাবে তৈরি করা হয়েছিল। ইমোজি আমাদের লিখিত যোগাযোগে কণ্ঠস্বর, অভিব্যক্তি এবং শরীরী ভাষার যে শূন্যতা ছিল, তা নিখুঁতভাবে পূরণ করছে। এটি যোগাযোগের অস্পষ্টতা দূর করে ভুল বোঝাবুঝির সম্ভাবনা অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।


কেন ১৭ জুলাই ‘বিশ্ব ইমোজি দিবস’?

বিশ্ব ইমোজি দিবসের শুরুটা হয় ২০১৪ সালে। এর শুরু করেন ইমোজিপিডিয়া (Emojipedia)-এর প্রতিষ্ঠাতা জেরেমি বার্জ (Jeremy Burge)। ডিজিটাল যোগাযোগে ইমোজির ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে বিশ্বব্যাপী উদযাপন করার লক্ষ্যেই তিনি এই বিশেষ দিবস চালু করেন।

আসলে ‘বিশ্ব ইমোজি দিবস’ হলো একটি সচেতনতামূলক দিন, যা ইমোজি -র প্রভাবকে সম্মান জানাতে পালিত হয়। মূলত ২০০২ সালে অ্যাপলের iCal ক্যালেন্ডার অ্যাপ্লিকেশন উন্মোচনের দিন ছিল ১৭ জুলাই। বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যবহৃত ক্যালেন্ডার ইমোজিতে ১৭ জুলাই তারিখটি প্রদর্শিত হয়। তা থেকেই প্রতি বছর ১৭ জুলাই এই দিনটি পালন করা হয়।


কেন এত জনপ্রিয় হয়ে উঠল ইমোজি?

যারা ডিজিটাল দুনিয়ায় বিচরণ করেন তাঁরা জানেন যে অনলাইন যোগাযোগে সংক্ষিপ্ত অথচ স্পষ্টভাবে অনুভূতি প্রকাশের জন্য ইমোজি অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, যেখানে অক্ষরের সীমাবদ্ধতা থাকে, সেখানে একটি ইমোজিই অনেক সময় দীর্ঘ বাক্যের কাজ করে। ফলে ভুল বোঝাবুঝির সম্ভাবনাও অনেক কমে যায়। ইমোজি কেবল প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম নয়, বরং আমাদের সময়ের সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিক বিবর্তনের একটি ডিজিটাল আয়নাও। তাই অনেকের কাছেই হাতের কাছের সহজ সমাধান হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ইমোজি।


ভাষার অংশ হয়ে উঠেছে ইমোজি?

প্রথম দিকে অনেকেই রে রে করে তেড়ে এসেছিলেন এই যুক্তি দিয়ে যে ইমোজির ব্যবহার ভাষাকে দুর্বল করছে। তবে সময়ের সঙ্গে ধারণা বদলে যায়। ঘটনাচক্রে একটি ইমোজি হয়ে ওঠে 'বছরের সেরা শব্দ'। ২০১৫ সালে অক্সফোর্ড ডিকশনারিজ কোনো প্রচলিত শব্দকে নয়, বরং "Face with Tears of Joy" ইমোজিকে ‘বছরের সেরা শব্দ’ হিসেবে নির্বাচিত করে।



যা খুশি নয়, ‘ইমোজি’ সামলায় ‘ইউনিকোড কনসোর্টিয়াম’

অনেকের মনে হতেই পারে ‘ইমোজি’র বুঝি কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। যেমন খুশি বানিয়ে দিলেই হল। আসলে তা ঠিক নয়। ইমোজির জন্য নির্দিষ্ট কোড ও মান নির্ধারণ করে ইউনিকোড কনসোর্টিয়াম (Unicode Consortium) নামের একটি অলাভজনক সংস্থা। বৈশ্বিক সামঞ্জস্য বজায় রাখার গুরুদায়িত্ব পালন করে তারা। নতুন ইমোজি অনুমোদন ও প্রকাশের দায়িত্বও তাদের। সবচেয়ে বড় কথা অ্যাপল, গুগল সহ বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এই মান অনুসরণ করেই তাদের ডিভাইসে ইমোজি দেয়। ইউনিকোড কনসোর্টিয়াম প্রতিটি ইমোজির আনুষ্ঠানিক নামও নির্ধারণ করে। যেমন ২০২২ সালের মধ্যে সংস্থাটি ৩,৬০০টিরও বেশি ইমোজিকে মানসম্মত করেছে।

ইমোজি এখন সামাজিক প্রেক্ষাপটে গভীর তাৎপর্য বহনকারী এক জীবন্ত প্রতীক। শুরুতে মানুষের মুখ বা শরীরের অধিকাংশ ইমোজিতে কেবল সাদা বা হলুদ রঙের ত্বক দেখানো হতো। বৈচিত্র্যর কথা মাথায় রেখে ২০১৪ সালে ইউনিকোড কনসোর্টিয়াম পাঁচটি নতুন ত্বকের রঙ অনুমোদন করে।

পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে


[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]

[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code