খোশখবর ডেস্কঃ মিল্কিওয়ে অর্থাৎ দুধের ব্যাপারটা তো ছিলই, এবার তাতে যোগ হয়ে গেল চিনি। অর্থাৎ বলাই যায় যে জমে ক্ষীর। মজা করে বললেও আসলে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে প্রথমবারের মতো প্রকৃত চিনির অণুর সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। যুগান্তকারী এই আবিষ্কার জীবনের উৎপত্তি নিয়ে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পৃথিবীর বুকে জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদানগুলো কি পৃথিবীর বাইরে মহাকাশেই তৈরি হয়েছিল? এই আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের সেই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নতুন দিশা দেখাচ্ছে।
ঠিক কী আবিষ্কার হয়েছে?
এই প্রথম মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির নক্ষত্রগুলোর মধ্যবর্তী মহাকাশে একটি প্রকৃত চিনির অণু শনাক্ত করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এরিথ্রুলোজ (Erythrulose) নামে পরিচিত এই চার-কার্বনের চিনিটি মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রের কাছে অবস্থিত একটি অত্যন্ত শীতল গ্যাস ও ধূলিকণার মেঘে পাওয়া গেছে। পৃথিবীতে এই একই চিনি প্রাকৃতিকভাবে রাস্পবেরি ফলে পাওয়া যায় এবং প্রসাধনী ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। এরিথ্রুলোজ শনাক্ত হয়েছে মিল্কিওয়ের কেন্দ্র থেকে প্রায় ২৭ হাজার আলোকবর্ষ দূরে G+0.693 নামের একটি ঘন আণবিক মেঘে। এই ধরনের শীতল গ্যাস ও ধূলিকণার মেঘকে গ্যালাক্সির অন্যতম সমৃদ্ধ রাসায়নিক ভাণ্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
গুগলে আরও খোশখবর
কারা আবিষ্কার করলেন মহাকাশে চিনি?
স্পেনের সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোবায়োলজি-এর জ্যোতির্বিজ্ঞানী ইজাসকুন জিমেনেজ-সেরা (Izaskun Jiménez-Serra)-এর নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক গবেষক দল স্পেনের ইয়েবেস (Yebes) ও IRAM রেডিও টেলিস্কোপ ব্যবহার করে এরিথ্রুলোজ খুঁজে পেয়েছেন। গবেষণাটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান পত্রিকা Nature Astronomy-তে প্রকাশিত হয়েছে। সকলের জানার জন্য তা মানুষের কাছে তুলে এনেছে আর্থ ডট কম। বর্তমানে এরিথ্রুলোজই এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া সবচেয়ে বড় শৃঙ্খল আকৃতির (chain-like) অণুগুলোর একটি এবং মহাকাশে আবিষ্কৃত সবচেয়ে জটিল চিনি।
ঢুকে পড়ুন এই আশ্চর্য কোটেশন সাইটে
মিল্কিওয়ে আসলে কি?
মিল্কিওয়ে হল মহাবিশ্বে থাকা প্রায় ২০০ বিলিয়ন বা ২০ হাজার কোটির মধ্যে একটি গ্যালাক্সি। এর পেটের ভেতরে আছে সূর্যের চেয়ে ছোট বা বড় অগুনিত তারা। ধারণা করা হয় এই ছায়াপথে কমপক্ষে ২০০ বিলিয়ন থেকে সর্বোচ্চ ৪০০ বিলিয়ন পর্যন্ত নক্ষত্র রয়েছে। আমরা রাতের আকাশে দুধের সরের মতো যে হালকা সাদা আলোর রেখা দেখতে পাই সেটাই হল মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি।
মিল্কিওয়ে আসলে কি?
মিল্কিওয়ে হল মহাবিশ্বে থাকা প্রায় ২০০ বিলিয়ন বা ২০ হাজার কোটির মধ্যে একটি গ্যালাক্সি। এর পেটের ভেতরে আছে সূর্যের চেয়ে ছোট বা বড় অগুনিত তারা। ধারণা করা হয় এই ছায়াপথে কমপক্ষে ২০০ বিলিয়ন থেকে সর্বোচ্চ ৪০০ বিলিয়ন পর্যন্ত নক্ষত্র রয়েছে। আমরা রাতের আকাশে দুধের সরের মতো যে হালকা সাদা আলোর রেখা দেখতে পাই সেটাই হল মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি।
আসলে অসংখ্য নক্ষত্রের সমাবেশ বলেই রাতের আকাশে তা আলোক রেখা হিসেবে দেখা যায়। এই মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতেই আছে আমাদের সৌরজগৎ। গোটা সৌরজগতকে সঙ্গে নিয়েই সূর্য মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রের চারপাশে ঘুরছে। ছায়াপথের চারপাশে সূর্যের এক পাক ঘুরে আসতে সময় লাগে ২৫০ মিলিয়ন বছর। এই ছায়াপথের কেন্দ্রেই চিনির অণু শনাক্ত করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।
মহাবিশ্বে চিনি কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছে?
আমাদের পৃথিবীতে জীবনের উপাদান কি মহাকাশ থেকেই এসেছিল? বিজ্ঞানীদের মতে ডিএনএ ও আরএনএ-এর গঠনে চিনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু পৃথিবীতে এই চিনির উৎপত্তি কীভাবে হয়েছিল, তা এখনও অন্যতম বড় রহস্য। এর আগে উল্কাপিণ্ড ও গ্রহাণুতে রাইবোজ ও গ্লুকোজ সহ কিছু চিনির সন্ধান মিলেছিল। কিন্তু সেগুলো মহাকাশের আন্তঃনাক্ষত্রিক পরিবেশেই তৈরি হয়েছিল কি না, তা জানা যায়নি। বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, সেই সময় পৃথিবীতে প্রায় পাঁচ লাখ টন থেকে পাঁচ কোটি টন পর্যন্ত এরিথ্রুলোজ এসে থাকতে পারে। বিজ্ঞানীদের আশা, এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে মহাবিশ্বে জীবনের উৎপত্তি এবং অন্য গ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তথ্যঃ আর্থ ডট কম
পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]

0 মন্তব্যসমূহ