একনজরে

10/recent/ticker-posts

History of Chocolate আপনার প্রিয় চকোলেট তৈরি হয় কীভাবে? জানুন অবাক করা তথ্য


খোশখবর ডেস্কঃ ছোট থেকে বড়, চকোলেটের জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে বিশ্বজুড়ে। জন্মদিন, উৎসব কিংবা উপহার - সব ক্ষেত্রে এবং প্রায় সব বয়সের মানুষেরই প্রিয় হয়ে উঠেছে এই চকোলেট। যদিও এর সঙ্গে জুড়ে আছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিজ্ঞাপনের মোহময়ী আবেদন সহ আরও অনেক কিছু। কিন্তু কীভাবে এল এই চকোলেট? মুখে দিলেই গলে যাওয়া এই মিষ্টি খাবারটি কীভাবে তৈরি হয়? এর ইতিহাস কত পুরোনো? এসব জানলে আপনাকে অবাক হতে হবে।



চকোলেট এল কেমন করে? 

বলা হয় চকোলেটের ইতিহাস অন্তত দু- হাজার বছরের পুরোনো। ১৮শ শতকে ইউরোপের ধনী সমাজে এটি বিলাসবহুল পানীয় হিসেবে জনপ্রিয় ছিল। অনেকে বলেন এর ব্যবহার শুরু হয়েছিল চার হাজার বছর আগে। বলা হয় ‘চকোলেট’ শব্দটির উৎপত্তি অ্যাজটেকদের ‘জোকোআটল’ শব্দ থেকে, যা কোকো বীজ দিয়ে তৈরি এক ধরনের তেতো পানীয়কে বোঝাত। শিল্পবিপ্লবের পরে সাধারণ মানুষের কাছে চকোলেট সহজলভ্য হয়ে ওঠে।



কীভাবে, কী দিয়ে তৈরি হয় চকোলেটে ?

চকোলেটের মূল উপাদান আসে কোকো গাছ (Theobroma cacao)-এর ফল থেকে। কোকো ফল দেখতে অনেকটা ফুটবলের মতো। প্রতিটি ফলে থাকে প্রায় ৫০টি পর্যন্ত কোকো বীজ, যা সাদা শাঁসে আবৃত থাকে। কাঁচা কোকো বীজের স্বাদ অত্যন্ত তেতো ও শুষ্ক। কিন্তু দীর্ঘ গাঁজন বা ফারমেনটেশন করা, রোদে শুকানো, ভাজা এবং পরে চিনি, দুধ ও অন্যান্য উপাদান মেশানোর মাধ্যমে এটি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় খাদ্যে পরিণত হয়। চকোলেট কারখানায় প্রস্তুতকারকেরা চিনি, কোকো বাটার, দুধ, ভ্যানিলা ও অন্যান্য উপাদান মিশিয়ে বিভিন্ন ধরনের চকোলেট তৈরি করেন।


কোকো ফল হয় কোথায়?

আগেই বলা হয়েছে চকোলেটের মূল উপাদান হল কোকো গাছের ফল। বিষয় হল এই গাছ শুধুমাত্র উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে জন্মায়। বলা হয় এর আদি নিবাস মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা। তবে বর্তমানে ঘানা, কোত দিভোয়ার, নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ব্রাজিল বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ কোকো উৎপাদন করে।


চকোলেট আসলে কত রকম?

ডার্ক চকোলেটঃ কোকো লিকার, কোকো বাটার, চিনি, লেসিথিন ও ভ্যানিলা দিয়ে তৈরি হয়। এই চকোলেটে কোকো লিকার ও কোকোর পরিমাণ বেশি থাকে। এতে চিনি তুলনামূলক কম থাকায় স্বাদ কিছুটা তেতো হলেও এটি স্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত।

মিল্ক চকোলেটঃ এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় চকোলেট হল মিল্ক চকোলেট। ডার্ক চকোলেটের উপাদানের সঙ্গে দুধের চর্বি ও দুধের কঠিন অংশ যোগ করা হয়।

হোয়াইট চকোলেটঃ এতে কোকো বাটার, দুধ, চিনি ও অন্যান্য উপাদান থাকলেও কোকো লিকার থাকে না। এই কারণেই এটি সত্যিকারের চকোলেট কি না, তা নিয়ে বিতর্ক আছে। যদিও মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (FDA) একে আনুষ্ঠানিকভাবে হোয়াইট চকোলেট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

রুবি চকোলেটঃ রুবি চকোলেট বাজারে এসেছে অনেক পরে। এর প্রাকৃতিক গোলাপি রং কোকো বীজ থেকেই আসে। এতে আলাদা কোনও রং বা কৃত্রিম স্বাদ যোগ করা হয় না। স্বাদে এটি মিল্ক চকোলেটের তুলনায় হালকা এবং কম মিষ্টি।



চকোলেট খাওয়া কি আসলেই ভালো?

শুধু ছোটরা নয়, চকোলেটে মজে থাকেন বড়রাও। মিল্ক চকোলেট বা হোয়াইট চকোলেট নয় বিশেষজ্ঞদের মতে পরিমিত পরিমাণে ডার্ক চকোলেট খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, মানসিক চাপ কমানো, মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি বাড়ানো, স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো ইত্যাদিতে সাহায্য করতে পারে। কোকোতে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক, ফসফরাস ও কপারের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদানও রয়েছে। তাই বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ গ্রামের বেশি চকোলেট না খাওয়ার পরামর্শ দেন।


জলবায়ু পরিবর্তন।, কতটা বিপদে চকোলেট?

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে হুমকির মুখে পড়তে চলেছে চকোলেট শিল্প। কারণ আগামী দিনে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কোকো উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় আগামী কয়েক দশকে কোকো চাষের উপযোগী জমির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। সমস্যা মোকাবিলায় বিজ্ঞানীরা নতুন বাগান গড়ে তোলার মতো নানা উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছেন।
 

পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে


[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]

[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code