খোশখবর ডেস্কঃ দেখে মনে হবে ১০ কি ১১ বছরের এক বালক, যার পিঠে স্কুলব্যাগ থাকাটাই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু সেই বালকের পরিচয় একটু গভীরে গিয়ে জানলেই যে কেউ চমকে উঠতে বাধ্য। তিনি হোউ শিয়াং— চিনের অভিনয় জগতের এক বিস্ময়কর নাম। ৪০ বছর বয়সে এসেও যাঁর শরীরে শৈশব থমকে আছে এক অদ্ভুত মলাটে। সদ্য তাকে নিয়ে হওয়া চর্চার কথা তুলে ধরেছে ‘দি সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’।
আসলে চিনের বেজিংয়ের বাসিন্দা হোউ শিয়াং-এর শারিরীক বিকাশের সিঁড়িটা বিজ্ঞানের ভাষা মেনে উঠতেই চায় নি। জন্মের সময় তিনি অপরিণত অবস্থায় পৃথিবীতে আসেন। গর্ভাবস্থায় তাঁর মা অপুষ্টিতে ভুগছিলেন, যার প্রভাব পড়ে হোউ শিয়াংয়ের শারীরিক বিকাশে। প্রায় ৯ বছর বয়সের পর তাঁর উচ্চতা ও কণ্ঠস্বরের বিকাশ থেমে যায়। ফলে প্রাপ্তবয়স্ক হলেও তাঁকে এখনো অনেকেই স্কুলপড়ুয়া ছেলে বলে ভুল করেন।
গুগলে আরও খোশখবর
হোউ –এর চেহারাকে পৃথিবী ‘অস্বাভাবিক’ বলে মনে করছে। অনেকেই তাকে নিয়ে হাসাহাসি করে। ২০১৩ সালে হোউ তাঁর প্রাক্তন সহপাঠী ঝাও ইন-কে বিয়ে করেন। বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রলের ঝড় ওঠে। অনেকে তাঁদের স্বামী-স্ত্রীর পরিবর্তে ‘মা ও ছেলে’ হিসেবে বিদ্রূপ করতে শুরু করেন।
যদিও পৃথিবীর হাসাহাসিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে হোউ শিয়াং আজ আমাদের জন্য এক অন্য অনুপ্রেরণার নাম। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষকে সারাক্ষণ শিশুর মতো দেখানোর মানসিক যন্ত্রণাকে এড়িয়ে গিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন এক অভিনেতা। বেছে নিয়েছিলেন লড়াইয়ের পথ।
তাঁর বার্তা - অনেকে আমার এই শিশুসুলভ চেহারাকে দুর্বলতা মনে করলেও, আমি একে আমার শক্তিতে রূপান্তর করেছি। নিজের সীমাবদ্ধতাকেই ‘সিগনেচার স্টাইলে’ রূপান্তর করেছেন তিনি। তাঁর এই অদম্য জেদ আমাদের শেখায় যে, জন্মগত সীমাবদ্ধতা মানুষের শেষ গন্তব্য নয়, বরং তা হতে পারে এক নতুন শুরুর সুযোগ।
পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদের সামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]

0 মন্তব্যসমূহ