খোশখবর ডেস্কঃ ধরা যাক রাতের বেলা আপনার ইচ্ছে হল একটু সূর্যের আলোয় নিজেকে ডুবিয়ে নেওয়ার। কোনও এক ধনকুবেরের ইচ্ছে হল মাঝরাতে সূর্যের আলোয় বিয়ে করার। শুনতে কল্পকাহিনির মতো মনে হলেও, এবার চাইলে রাতেও আপনার জন্য সূর্যের আলো এনে দেবার উদ্যোগে নেমেছে এক স্টার্টআপ কোম্পানি।এমনই এক উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক স্টার্টআপ সংস্থা রিফ্লেক্ট অরবিটাল (Reflect Orbital)। যখন দিনের আলো নেই তখন কৃত্রিমভাবে চাহিদামতো সূর্যের আলোকে হাতের নাগালে পাওয়ার কাজে হাত দিয়েছে তারা। এই তথ্য প্রকাশ করেছে বিবিসির সায়েন্স ফোকাস ম্যাগাজিন।
‘রাতে সূর্যের আলো’ ব্যাপারটা কী?
সূর্যাস্তের পর পৃথিবীর একাংশ যখন অন্ধকারে ডুবে যায়, তখন প্রাকৃতিক সীমাবদ্ধতায় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোও হয়ে পড়ে নিথর। সূর্য নেই তো বিদ্যুৎ নেই। কিন্তু যদি এমন কোনো প্রযুক্তি থাকে যা রাতের অন্ধকারেও আপনার সোলার প্যানেলে সূর্যের আলো পৌঁছে দেবে? এই আসলে রিফ্লেক্ট অরবিটালের মূল লক্ষ্য হলো শক্তির চিরাচরিত ধারণাকে বদলে দেওয়া। তারা পৃথিবীকে আলোকিত করার চেয়ে বরং ‘ডিমান্ট অন এনার্জি’ বা চাহিদামতো সৌরশক্তির এক নতুন বাজার তৈরি করতে চায়। এক অসম্ভবকে সম্ভব করার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে মার্কিন স্টার্ট আপ সংস্থা। মহাকাশ থেকে সূর্যের আলো আমদানির এই রোমাঞ্চকর প্রযুক্তি বিশ্বে ব্যাপক কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
এই কোটেশন সাইট আপনাকে পাল্টে দেবে
ঠিক কীভাবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি?
পরিকল্পনা হলো পৃথিবীর কক্ষপথে কৃত্রিম স্যাটেলাইটের পিঠের উপর বিশাল আয়না বসিয়ে মহাকাশ থেকে সূর্যের আলোকে প্রতিফলিত করে সরাসরি পৃথিবীর নির্দিষ্ট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে বা অন্যত্র পাঠানো। প্রতিটি উপগ্রহে থাকবে ১৮ মিটার × ১৮ মিটার আকারের ভাজ করা যাবে এমন বিশাল আয়না। পৃথিবী থেকে ৬০০ কিমি উপর থেকে আয়নাগুলো এমনভাবে তাক করা হবে যাতে তা ভূ-পৃষ্ঠের ৬ কিমি ব্যাসার্ধের এলাকায় আলো ফেলতে পারে।
শুনতে মজার হলেও প্রযুক্তি জটিল
রিফ্লেক্ট অরবিটালের এই প্রযুক্তির এক রোমাঞ্চকর দিক থাকলেও কিছু জটিল বৈজ্ঞানিক সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এখানে কাজ করে ‘অরবিটাল মেকানিক্স’ বা কক্ষপথের গতিবিদ্যা। যেমন পাঠানো স্যাটেলাইটগুলো মহাকাশে স্থির থাকবে না। নিম্ন কক্ষপথে টিকে থাকার জন্য তাদের প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৭.৫ কিলোমিটার বেগে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে হবে। এই প্রচণ্ড গতির কারণে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় এই আয়নাগুলো মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য আলো ধরে রাখতে পারবে।
এছাড়া এই প্রযুক্তি মূলত সূর্যাস্তের ঠিক পর বা সূর্যোদয়ের ঠিক আগের সময়ের জন্যই সবচেয়ে বেশি কার্যকর হবে যখন স্যাটেলাইটগুলো সূর্যের নাগাল পাবে কিন্তু পৃথিবী তখনও অন্ধকারে থাকবে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন মহাকাশে আয়না বসিয়ে আলো আনার চেয়ে পৃথিবীতে আরও বেশি সোলার প্যানেল লাগানো বা সস্তা ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেম তৈরি করা অনেক বেশি সাশ্রয়ী হতে পারে।
রিফ্লেক্ট অরবিটালের ভবিষ্যৎ রোডম্যাপ
প্রাথমিক পদক্ষেপে ২০২৬ সালের মধ্যেই মহাকাশে প্রথম আয়না বসানোর চ্যালেঞ্জ নিয়েছে সংস্থা। ২০৩০ সালের মধ্যে কক্ষপথে প্রায় ৫,০০০টি আয়না বসানো উপগ্রহ পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে ৫০,০০০-এরও বেশি উপগ্রহের একটি পূর্ণাঙ্গ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ভাবনা রয়েছে রিফ্লেক্ট অরবিটালের।
২০৩০ সাল: কক্ষপথে প্রায় ৫,০০০টি উপগ্রহ স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা।
২০৩৫ সাল: ৫০,০০০-এরও বেশি উপগ্রহের একটি পূর্ণাঙ্গ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।
কত উজ্জ্বল হবে ‘মিডনাইট সানশাইন’?
হিসেব বলছে প্রাথমিক পর্যায়ে এই আলো খুব বেশি শক্তিশালী হবে না। এর উজ্জ্বলতা হবে অনেকটা পূর্ণিমার চাঁদের আলোর মতো। তবে কাজ সম্পূর্ণ হলে তার চেহারা হবে অন্যরকম। প্রাথমিক পরীক্ষা সফল হলে রিফ্লেক্ট অরবিটাল একটি বিশাল ‘মেগা-কনস্টেলেশন’ তৈরির পথে হাঁটবে। তাদের লক্ষ্য হাজার হাজার উপগ্রহের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা, যখন অনেকগুলো আয়না একসঙ্গে একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রে আলো ফেলবে, তখন সেখানে গোধূলি বা ভোরের আলোর মতো উজ্জ্বলতা তৈরি করা সম্ভব হবে, যা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি যোগাবে। আপনি নিজে বা কোনও কোম্পানি ভালরকম গ্যাঁটের কড়ি খরচ করে অসময়ে প্রয়োজন মত সূর্যের আলো কিনে নিতেই পারেন।
ঠিক কীভাবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি?
পরিকল্পনা হলো পৃথিবীর কক্ষপথে কৃত্রিম স্যাটেলাইটের পিঠের উপর বিশাল আয়না বসিয়ে মহাকাশ থেকে সূর্যের আলোকে প্রতিফলিত করে সরাসরি পৃথিবীর নির্দিষ্ট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে বা অন্যত্র পাঠানো। প্রতিটি উপগ্রহে থাকবে ১৮ মিটার × ১৮ মিটার আকারের ভাজ করা যাবে এমন বিশাল আয়না। পৃথিবী থেকে ৬০০ কিমি উপর থেকে আয়নাগুলো এমনভাবে তাক করা হবে যাতে তা ভূ-পৃষ্ঠের ৬ কিমি ব্যাসার্ধের এলাকায় আলো ফেলতে পারে।
শুনতে মজার হলেও প্রযুক্তি জটিল
রিফ্লেক্ট অরবিটালের এই প্রযুক্তির এক রোমাঞ্চকর দিক থাকলেও কিছু জটিল বৈজ্ঞানিক সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এখানে কাজ করে ‘অরবিটাল মেকানিক্স’ বা কক্ষপথের গতিবিদ্যা। যেমন পাঠানো স্যাটেলাইটগুলো মহাকাশে স্থির থাকবে না। নিম্ন কক্ষপথে টিকে থাকার জন্য তাদের প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৭.৫ কিলোমিটার বেগে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে হবে। এই প্রচণ্ড গতির কারণে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় এই আয়নাগুলো মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য আলো ধরে রাখতে পারবে।
এছাড়া এই প্রযুক্তি মূলত সূর্যাস্তের ঠিক পর বা সূর্যোদয়ের ঠিক আগের সময়ের জন্যই সবচেয়ে বেশি কার্যকর হবে যখন স্যাটেলাইটগুলো সূর্যের নাগাল পাবে কিন্তু পৃথিবী তখনও অন্ধকারে থাকবে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন মহাকাশে আয়না বসিয়ে আলো আনার চেয়ে পৃথিবীতে আরও বেশি সোলার প্যানেল লাগানো বা সস্তা ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেম তৈরি করা অনেক বেশি সাশ্রয়ী হতে পারে।
রিফ্লেক্ট অরবিটালের ভবিষ্যৎ রোডম্যাপ
প্রাথমিক পদক্ষেপে ২০২৬ সালের মধ্যেই মহাকাশে প্রথম আয়না বসানোর চ্যালেঞ্জ নিয়েছে সংস্থা। ২০৩০ সালের মধ্যে কক্ষপথে প্রায় ৫,০০০টি আয়না বসানো উপগ্রহ পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে ৫০,০০০-এরও বেশি উপগ্রহের একটি পূর্ণাঙ্গ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ভাবনা রয়েছে রিফ্লেক্ট অরবিটালের।
২০৩০ সাল: কক্ষপথে প্রায় ৫,০০০টি উপগ্রহ স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা।
২০৩৫ সাল: ৫০,০০০-এরও বেশি উপগ্রহের একটি পূর্ণাঙ্গ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।
কত উজ্জ্বল হবে ‘মিডনাইট সানশাইন’?
হিসেব বলছে প্রাথমিক পর্যায়ে এই আলো খুব বেশি শক্তিশালী হবে না। এর উজ্জ্বলতা হবে অনেকটা পূর্ণিমার চাঁদের আলোর মতো। তবে কাজ সম্পূর্ণ হলে তার চেহারা হবে অন্যরকম। প্রাথমিক পরীক্ষা সফল হলে রিফ্লেক্ট অরবিটাল একটি বিশাল ‘মেগা-কনস্টেলেশন’ তৈরির পথে হাঁটবে। তাদের লক্ষ্য হাজার হাজার উপগ্রহের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা, যখন অনেকগুলো আয়না একসঙ্গে একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রে আলো ফেলবে, তখন সেখানে গোধূলি বা ভোরের আলোর মতো উজ্জ্বলতা তৈরি করা সম্ভব হবে, যা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি যোগাবে। আপনি নিজে বা কোনও কোম্পানি ভালরকম গ্যাঁটের কড়ি খরচ করে অসময়ে প্রয়োজন মত সূর্যের আলো কিনে নিতেই পারেন।
তথ্যঃ সায়েন্স ফোকাস
পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]

0 মন্তব্যসমূহ