খাবার টেবিলে বাড়ছে স্ক্রিন টাইম
সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৭০ শতাংশেরও বেশি পরিবার জানিয়েছে, তারা খাবারের সময় কোনো না কোনো ধরনের ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে। এই তালিকায় রয়েছে স্মার্টফোন, টেলিভিশন, ট্যাবলেট এবং হাতে ধরা গেমিং কনসোল। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, খাবারের টেবিলে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকলেও স্মার্টফোনে ব্যস্ত থাকলে পরিবারের সদস্যরা কার্যত মানসিকভাবে একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। অর্থাৎ, একই টেবিলে বসেও বাস্তব যোগাযোগের পরিবর্তে মনোযোগ চলে যায় ডিজিটাল জগতে।
গুগলে আরও খোশখবর
বাবা-মা ও সন্তান এক জিনিস দেখছেন না
রাতের খাবার টেবিল আরও অবাক করেছে গবেষকদের যখন তাঁরা আশ্চর্যজনকভাবে দেখলেন যে বাবা-মা ও সন্তান এক জিনিস দেখছেন না। গবেষক ম্যাথিউ লাপিয়ের জানান যে এটি আমাদের জন্য বিস্ময়কর ছিল। আমরা ভেবেছিলাম, বাবা-মা ও সন্তানের স্ক্রিন ব্যবহারের মধ্যে মিল থাকবে। ধারণা করা হয়, বাবা-মা যদি খাবারের সময় স্ক্রিন ব্যবহার করেন, তাহলে সন্তানও সেই অভ্যাস অনুসরণ করবে।
গবেষণায় উঠে এসেছে ডিভাইসের ধরন পারিবারিক যোগাযোগে প্রভাব ফেলে। গবেষকদের মতে, টেলিভিশনের মতো বড় স্ক্রিন পরিবারের সবাইকে একই বিষয় দেখার সুযোগ দেয় এবং তা আলোচনার সূত্র হতে পারে। কিন্তু স্মার্টফোন সাধারণত একজনের মনোযোগকে অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
টেবিলে সবাই, কিন্তু মন অন্য কোথাও
অর্থাৎ পরিবারের মধ্যে থেকেও সকলে একা। তবে গবেষকদের ভাবনা, স্ক্রিন ব্যবহারের অর্থ এই নয় যে পারিবারিক খাবারের পরিবেশ সবসময় নেতিবাচক হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে একসঙ্গে কোনো অনুষ্ঠান দেখা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আলোচনার বিষয়ও তৈরি করতে পারে। ফলে বিষয়টি একেবারে সাদা-কালো নয়; এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক—উভয় দিকই রয়েছে।
গবেষকদের মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সচেতনতা। পরিবারের সদস্যরা যদি খাবারের সময় অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন ব্যবহার কমিয়ে একে অপরের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর চেষ্টা করেন, তাহলে পারিবারিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হতে পারে।
খাবার টেবিল হয়ে উঠুক আলোচনার টেবিল
গবেষকদের মতে পারিবারিক খাবারের সময় একটি বিশেষ মুহূর্ত। এটি এমন সময়, যখন পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে বসে খাবার খান, নিজেদের দিনের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন এবং একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত হন। এই সময় একসঙ্গে বসে কথা বলা, দিনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া এবং সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। কিন্তু সেই সময়ে স্ক্রিনের উপস্থিতি মনোযোগকে পরিবার থেকে সরিয়ে অন্যদিকে নিয়ে যায়। তাই তাদের মতে, পরিবারের সদস্যরা যদি খাবারের সময় অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন ব্যবহার কমিয়ে একে অপরের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর চেষ্টা করেন, তাহলে পারিবারিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হতে পারে।
তথ্যঃ আর্থ ডট কম
পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]

0 মন্তব্যসমূহ