একনজরে

10/recent/ticker-posts

Alaska is burning ৩,০০০ বছরের রেকর্ড ভেঙে কেন আলাস্কা হয়ে উঠছে ‘ফায়ার জোন’?


খোশখবর ডেস্কঃ আলাস্কায় দাবানলের ভয়াবহতা নতুন রেকর্ড ছুঁয়েছে। বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, আর্কটিক অঞ্চলের এই আগুন গত তিন হাজার বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। একসময় বরফে ঢাকা, ভেজা ও ঠান্ডা ভূমি — যা আগুনের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক সুরক্ষা ছিল — এখন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। শুকিয়ে যাওয়া মাটি ও ঝোপঝাড়ের বেড়ে যাওয়া পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে। আর্থ ডট কম এই তথ্য তুলে ধরেছে।


আর্কটিক আলাস্কার বিস্তীর্ণ তুন্দ্রা অঞ্চল। যেখানে একসময় দাবানল ছিল অত্যন্ত বিরল, সেখানে এখন আগুনের ঘনঘটা। গবেষণায় উঠে এসেছে, মাটির নিচে জমে থাকা ক্ষুদ্র চারকোল কণার আগুন এখন পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে।

গুগলে আরও খোশখবর 


কিন্তু এমনটা হল কেন? বিজ্ঞানীরা বলছেন, ১৯৫০ সালের পর থেকেই নাটকীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। এখন এই তুন্দ্রা এলাকায় দ্রুত বাড়ছে কাঠজাত ঝোপঝাড়। যেখানে আগে ছিল পাতলা ঘাসভূমি, সেখানে এখন ঘন, দাহ্য উদ্ভিদ।ফলে আগুনের জ্বালানি বেড়েছে বহুগুণ।


উত্তর আলাস্কার পিটল্যান্ড বা পিট-সমৃদ্ধ মাটিতে হাজার হাজার বছরের জমা হওয়া ক্ষুদ্র চারকোল কণা আগুনের ইতিহাস ধরে রেখেছে। জার্মানির Goethe University-এর সিনিয়র গবেষক Angelica Feurdean আধুনিক স্যাটেলাইট তথ্যের সঙ্গে এই পিট স্তরের তুলনা করে আগুনের প্রবণতা বিশ্লেষণ করেন। গবেষণায় University of Alaska Fairbanks (UAF)-এর ফিল্ড টিম আলাস্কার Dalton Highway বরাবর প্রায় ২০ ইঞ্চি গভীরতা পর্যন্ত নয়টি মাটির কোর সংগ্রহ করে।

ফলাফল হিসেবে পাওয়া গেছে

প্রথম ২,০০০ বছর: টুন্ড্রা অঞ্চলে আগুন ছিল অত্যন্ত বিরল

খ্রিস্টাব্দ ১০০০-১২০০: সামান্য আগুন বৃদ্ধি

পরবর্তী ৭০০ বছর: আবার দীর্ঘ আগুন-অনুপস্থিতি

১৯৫০ সালের পর: আগুনের তীব্র বৃদ্ধি


পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে এই আগুনের তীব্রতার। আসলে জমাট মাটি গলতে শুরু করলে — জল গভীরে সরে যায়, উপরের স্তর শুকিয়ে যায়। আর আগুন ছড়ানোর জন্য তৈরি হয় অনুকূল পরিবেশ।


আধুনিক স্যাটেলাইট তথ্য এমন ছবি তুলে ধরেছে। ১৯৬০-এর দশকের পর থেকেই আগুনের বৃদ্ধি হলেও বিশেষ করে ১৯৯০-এর দশক ও ২০০০-এর পর আগুনের প্রবণতা স্পষ্টভাবে বেড়েছে। আগুন এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি তাপমাত্রায় জ্বলছে। অতিরিক্ত তাপে উদ্ভিদ সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে।


দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণও বড় চ্যালেঞ্জ। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন আর্কটিক দাবানল আর বিরল নয়, এখন নিয়মিত ঘটনা। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, উন্নত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোই হতে পারে একমাত্র স্থায়ী সমাধান।

পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে


[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]

[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদের সামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।] 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code