একনজরে

10/recent/ticker-posts

World Cancer Day ক্যান্সারের সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব, প্রয়োজন শুধু সচেতনতার, বার্তা ‘হু’র


খোশখবর ডেস্কঃ বিশ্ব ক্যান্সার দিবস প্রতি বছর ৪ ফেব্রুয়ারি পালিত হয়। ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মানুষ, সমাজ ও সরকারকে একত্রিত করার লক্ষ্যে এই আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবসটি পালন করা হয়। ইউনিয়ন ফর ইন্টারন্যাশনাল ক্যান্সার কন্ট্রোল (UICC)-এর নেতৃত্বে এই দিনটির মূল উদ্দেশ্য হল ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা, দ্রুত রোগ নির্ণয়ে উৎসাহ দেওয়া এবং বিশ্বজুড়ে সমানভাবে চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করা।

গুগলে আরও খোশখবর 


বিশ্ব ক্যান্সার দিবসের বার্তা হল — সঠিক স্ক্রিনিং ও নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে অনেক ক্যান্সার আগেভাগেই ধরা পড়ে এবং সেগুলি কার্যকরভাবে প্রতিরোধ বা চিকিৎসা করা সম্ভব। তাই এই বিশ্বজোড়া উদ্যোগে চিকিৎসক, রোগী, ক্যান্সারজয়ী মানুষ এবং বিভিন্ন সংগঠন একত্রিত হয়ে জ্ঞান ভাগ করে নেন এবং ক্যান্সারে আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ান।

বিশ্ব ক্যান্সার দিবসের ইতিহাস

বিশ্ব ক্যান্সার দিবস একটি সত্যিকারের বৈশ্বিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। এই ক্যান্সার দিবসের সূচনা হয় ২০০০ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড সামিট অ্যাগেইনস্ট ক্যান্সার ফর দ্য নিউ মিলেনিয়াম-এ। সেখানেই ‘চার্টার অফ প্যারিস অ্যাগেইনস্ট ক্যান্সার’ স্বাক্ষরিত হয়। UNESCO ও UICC-এর সমর্থনে প্রণীত এই সনদের লক্ষ্য ছিল ক্যান্সার গবেষণার প্রসার, প্রতিরোধ ব্যবস্থার উন্নতি, রোগী পরিষেবার মান বৃদ্ধি এবং ৪ ফেব্রুয়ারিকে বিশ্ব ক্যান্সার দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।

প্রতি বছর নানা থিমে বিশ্বজুড়ে অনুষ্ঠান, সচেতনতা অভিযান ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি পালিত হয়—যেমন “I Am, and I Will”, “Close the Care Gap” এবং বর্তমানে “United by Unique”।

ঢুকে পড়ুন  খোশখবরের ইউটিবের দুনিয়ায় 



এবারের ক্যাম্পেন: United by Unique (২০২৫–২০২৭)

ক্যান্সার কোটি কোটি মানুষের জীবনকে বিভিন্নভাবে নাড়িয়ে দেয়। কিন্তু ক্যান্সারই আমাদের পরিচয় নয়। আমরা কেবল একটি রোগ বা পরিসংখ্যানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নই। বিশ্ব ক্যান্সার দিবসের ২০২৫–২০২৭ সালের থিম “United by Unique” মানুষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনকে চিকিৎসার কেন্দ্রে রাখে। এই তিন বছরের যাত্রাপথ সচেতনতা বাড়ানো থেকে শুরু করে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

আরও ভিডিও


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) বার্তা

প্রতি বছর বিশ্বে লক্ষ লক্ষ মানুষ ক্যান্সারে প্রাণ হারান এবং আরও বহু মানুষের জীবন চিরতরে বদলে যায়। অথচ প্রায় অর্ধেক ক্যান্সার প্রতিরোধযোগ্য এবং অনেক ক্ষেত্রেই আগেভাগে শনাক্ত হলে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। এই বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) নিয়মিত তথ্য ও দিকনির্দেশও প্রকাশ করে।  
বিশ্ব ও ভারতের ক্যান্সার চিত্র 

বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর প্রায় এক কোটি মানুষের মৃত্যুর জন্য ক্যান্সার দায়ী, যা এটিকে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ করে তুলেছে। সবচেয়ে বেশি দেখা যায় স্তন, ফুসফুস, কোলোরেক্টাল, প্রোস্টেট, পাকস্থলী ও লিভার ক্যান্সার। এর অনেকগুলির সঙ্গে তামাক খাওয়া, মদ্যপান, স্থূলতা ও সংক্রমণের মতো পরিবর্তনযোগ্য ঝুঁকির কারণ জড়িত।

ভারতেও ক্যান্সারের প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। স্তন, জরায়ুমুখ (সার্ভাইকাল), মুখগহ্বর ও ফুসফুসের ক্যান্সার এখানে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা জোর দিচ্ছেন—HPV ও হেপাটাইটিস বি টিকাকরণ, তামাক নিয়ন্ত্রণ, জনভিত্তিক স্ক্রিনিং কর্মসূচি এবং সাশ্রয়ী চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানোর ওপর। এগুলিই ভারতের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে মনে করা হচ্ছে।

…………………………
তথ্যসূত্র:
worldcancerday.org
United Nations (@UN) – X Handle
metropolisindia.com

পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে


[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]

[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদের সামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।] 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code