সিঁড়ি দিয়ে ওঠা কেন উপকারী?
আমরা অনেকেই অপ্রয়োজনেও লিফট ব্যবহার করি। অথচ বিজ্ঞান বলছে, লিফটের বোতাম না চেপে কেবল সিঁড়ি ব্যবহারের অভ্যাসই আপনাকে দিতে পারে একটি সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন। কারণ সিঁড়ি ভাঙার সময় হৃদ্যন্ত্র, ফুসফুস এবং পায়ের পেশিকে তুলনামূলক বেশি পরিশ্রম করতে হয়। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই শরীর কিছুটা বেশি শারীরিক পরিশ্রম করে। এটিই অকাল মৃত্যুর বিপদ যে কমাতে পারে, তা নিয়ে সম্প্রতি এক চমকপ্রদ গবেষণার ফলাফল সামনে এসেছে। গবেষণাটিতে দেখা গেছে, যারা নিয়মিত সিঁড়ি ব্যবহার করেন অথবা সহজে সিঁড়ি উঠতে পারেন, তাদের স্বাস্থ্যগত ফলাফল ভাল। গবেষকদের মতে, কম সিঁড়ি ব্যবহারকারী বা সিঁড়ি উঠতে যাদের সমস্যা হয়, তাদের তুলনায় নিয়মিত সিঁড়ি ব্যবহারকারীদের মৃত্যুর বিপদ কম ছিল। গবেষণার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যারা নিয়মিত সিঁড়ি ব্যবহার করেন, তাদের ক্ষেত্রে হৃদরোগ থেকে মৃত্যুর ঝুঁকি চমকপ্রদভাবে ৩৯ শতাংশ কম।
গুগলে আরও খোশখবর
সিঁড়ি ভাঙলে হৃদরোগে মৃত্যুর বিপদ কমে!
নিয়মিত সিঁড়ি ব্যবহার নিয়ে ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাংলিয়া এবং নরফোক অ্যান্ড নরউইচ ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের গবেষকরা সম্প্রতি প্রায় ৪.৮ লক্ষ মানুষের ওপর এক বিশাল গবেষণা চালিয়েছেন। গবেষকরা মোট ৯টি গবেষণার একটি ‘সিস্টেমেটিক রিভিউ’ এবং ‘মেটা-অ্যানালাইসিস’ করেছেন, যা সম্প্রতি American Journal of Cardiovascular Drugs-এ প্রকাশিত হয়েছে। এই গবেষণাগুলিতে ৩৫ থেকে ৮৪ বছর বয়সী মোট ৪,৮০,৪৭৯ জন প্রাপ্তবয়স্কের তথ্য ছিল। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৫৩ শতাংশ ছিলেন মহিলা।
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সুস্থ মানুষ যেমন ছিলেন, তেমনই হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও ছিলেন। বিভিন্ন গবেষণায় তাঁদের গড়ে প্রায় ১৪ বছর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। গবেষণায় নিয়মিত সিঁড়ি ব্যবহারের সঙ্গে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা হার্ট ফেলিওরের মতো গুরুতর সমস্যার বিপদ কমার একটি শক্তিশালী যোগসূত্র লক্ষ্য করা গেছে।
৬০টি সিঁড়ি ব্যবহার, সেটাই কী ম্যাজিক ধাপ?
দিনে সিঁড়ি দিয়ে ওঠার প্রায় ৬০ ধাপেই কি সবচেয়ে বেশি সুবিধা? গবেষণায় দেখা হয়েছিল, বেশি সিঁড়ি ওঠার সঙ্গে মৃত্যুর বিপদ আরও কমে বা বাড়ে কি না। দেখা গেছে সিঁড়ি ব্যবহারের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে যেকোনও কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি কমার প্রবণতা রয়েছে।
অর্থাৎ গবেষণায় একটি বিশেষ লক্ষমাত্রা বা ‘সুইট স্পট’ খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, হৃদ্রোগজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সম্ভাব্য সুবিধা দেখা গেছে দিনে প্রায় ৬০টি ধাপ ওঠার ক্ষেত্রে। তবে এটি মোটেও সবার জন্য বাধ্যতামূলক লক্ষ্যমাত্রা নয়। যারা অল্প পরিশ্রমে বড় সুফল পেতে চান, তাদের জন্য প্রতিদিন এই সামান্য সিঁড়ি ভাঙা ম্যাজিকের মতো কাজ করতে পারে।
সিঁড়ি ওঠানামার আরও উপকার
পরীক্ষায় দেখা গেছে, অল্প সময়ের সিঁড়ির ব্যবহার হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের ক্ষমতা উন্নত করতে পারে। আমরা সিঁড়ি দিয়ে উঠি, তখন আমাদের হার্ট, ফুসফুস এবং পায়ের মাংসপেশিকে সাধারণ হাঁটার চেয়ে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়। এই বাড়তি পরিশ্রম শরীরের অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ডে ভাল প্রভাব ফেলে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যে মহিলারা সাধারণত খুব একটা শারীরিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত নন, তারা নিয়মিত সিঁড়ি ব্যবহারের ফলে তাদের রক্তে নির্দিষ্ট ধরনের কোলেস্টেরলের মাত্রা প্রায় ৭.৭ শতাংশ কমাতে সক্ষম হয়েছেন। অর্থাৎ, আপনার হৃদযন্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরের মেদ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও সরাসরি প্রভাব ফেলে।
তবে সবার জন্য সিঁড়িভাঙা সঠিক নয়
কিছু ক্ষেত্রে ভাল হলেও সিঁড়ি ব্যবহারের কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। সিঁড়ি ওঠার ফলে হাড়ের জয়েন্টের ওপর কী প্রভাব পড়ে, তা এই গবেষণায় বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা হয়নি। তাই বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন যাঁদের হাঁটুতে অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা গুরুতর জয়েন্টের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য সিঁড়ি ভাঙা সবসময় উপযুক্ত নাও হতে পারে। পাশাপাশি যাঁদের চলাফেরায় চিকিৎসকের নিষেধ আছে, তাঁদের সিঁড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত।
সুস্থ থাকার জন্য আমরা কত কিছুই না করি। তবে জিমে যাওয়া বা সেইরকম বিশাল কোনো পরিকল্পনা না করে অভ্যাসের ছোট ছোট বদল দিয়েই ভাল থাকার পাঠের শুরু করা সম্ভব। আপনার যদি কোনো গুরুতর শারীরিক সীমাবদ্ধতা না থাকে, তবে কাল থেকে লিফট নয়, বরং সিঁড়িকেই আপনার পরম বন্ধু করে নিন।এরকমভাবে ভাবাই যেতে পারে, লিফটের বদলে সিঁড়ি—সহজ অভ্যাস,বড় উপকার।
পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]


.jpg)



0 মন্তব্যসমূহ