খোশখবর ডেস্কঃ অনেক মানুষই এখন বেশ স্বাস্থ্য সচেতন। শরীরে প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ পদার্থের যাতে কম না পড়ে সে দিকে সর্বদাই খেয়াল রাখেন। কিন্তু এ পর্যন্ত কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু দেখা যাচ্ছে বর্তমানে স্বাস্থ্য সচেতনতা এমনই লাগামছাড়া হয়ে উঠছে যে মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণের প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। বাজারের সর্বত্র কৌটো ভর্তি বা প্যাকেটে মোড়া প্রোটিনের ছড়াছড়ি। সিরিয়াল, কফি, বোতলজাত জল থেকে শুরু করে নানা ধরনের খাবারেও অতিরিক্ত প্রোটিন যোগ করা হচ্ছে। আর এক্ষেত্রেই নতুন সতর্কবার্তা শুনিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
বেশি প্রোটিনেই বিপদ?
নানা গবেষণা বিশ্লেষণ করে গবেষকরা বলছেন, অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রোটিনের পরিবর্তে তুলনামূলক কম প্রোটিন গ্রহণই দীর্ঘমেয়াদে বেশি উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রোটিন খাওয়া শরীরের বুড়ো হয়ে যাওয়াকে এগিয়ে নিয়ে আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিচ্ছেন গবেষকরা। Cell Press Blue সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণার তথ্য সাধারণের জন্য তুলে ধরেছেন আর্থ ডট কম।
গুগলে আরও খোশখবর
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন–ম্যাডিসন-এর গবেষক বেইলি নফ এবং ডাডলি ল্যামিং বার্ধক্য ও প্রোটিন গ্রহণের সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশিত ৩৫০টিরও বেশি গবেষণা বিশ্লেষণ করে নানা তথ্য হাতে পান। এই সব গবেষণার বেশিরভাগই মাছি, কৃমি এবং ইঁদুরের মতো প্রাণীর ওপর চালান হয়েছিল। গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে মানুষের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ক্লিনিক্যাল গবেষণা পরিচালনা করা হলে প্রোটিন গ্রহণ ও স্বাস্থ্যকর বার্ধক্যের সম্পর্ক আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে।
কম প্রোটিনেই উপকার বেশি?
মানুষের ওপর করা বিজ্ঞানীদের কয়েকটি স্বল্পমেয়াদি গবেষণায় দেখা গেছে, খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের পরিমাণ কিছুটা কমালে ওজন ও শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমতে পারে। পাশাপাশি রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণও ভালো হতে পারে। মজার বিষয় হলো, এই উপকার হয় অংশগ্রহণকারীরা মোট ক্যালোরি কিছুটা বেশি গ্রহণ করলেও।
কম প্রোটিনে লাভ! কেন এমন হয়?
বিজ্ঞানীদের মতে, এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে FGF21 নামের একটি হরমোন। শরীরে প্রোটিন কম পৌঁছালে এই হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। তখন এটি শরীরের শক্তি খরচ বাড়ায়, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। এছাড়া প্রাণীর ওপর করা গবেষণায় এমনটা দেখা গেলেও মানুষের ক্ষেত্রে একই প্রভাব রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
বিজ্ঞানীদের মতে, এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে FGF21 নামের একটি হরমোন। শরীরে প্রোটিন কম পৌঁছালে এই হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। তখন এটি শরীরের শক্তি খরচ বাড়ায়, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। এছাড়া প্রাণীর ওপর করা গবেষণায় এমনটা দেখা গেলেও মানুষের ক্ষেত্রে একই প্রভাব রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
প্রোটিন ও অ্যামিনো অ্যাসিডের গল্প
প্রোটিন ব্যাপারটা ঠিক কী? আসলে প্রোটিন অনেক ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড দিয়ে তৈরি। এর মধ্যে বিজ্ঞানীরা মেথিওনিন (Methionine), আইসোলিউসিন (Isoleucine) এবং ভ্যালিন (Valine) – এই তিনটি অ্যামিনো অ্যাসিডকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, এই অ্যামিনো অ্যাসিডগুলো অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে শরীরে এমন কিছু গ্রোথ সিগন্যাল সক্রিয় হতে পারে, যা মোটা হয়ে যাওয়া, প্রদাহ এবং বার্ধক্যজনিত কিছু রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, এই অ্যামিনো অ্যাসিডগুলো শরীরের জন্য অপরিহার্য। তাই এগুলো সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া নয়, বরং সুষম পরিমাণে গ্রহণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্ভিজ্জ প্রোটিন কি বেশি উপকারী?
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রোটিন কতটা খাচ্ছেন, তার পাশাপাশি প্রোটিনের উৎসটাও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যারা উদ্ভিজ্জ উৎস (যেমন ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি, সয়াবিন, বাদাম ও বিভিন্ন বীজ) থেকে বেশি প্রোটিন গ্রহণ করেন, তাদের মধ্যে বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম। অন্যদিকে, প্রাণিজ প্রোটিন (যেমন মাংস, মাছ, ডিম) বেশি খাওয়ার ক্ষেত্রে একই ধরনের স্পষ্ট উপকারিতা গবেষণায় পাওয়া যায়নি। গবেষকদের মতে, সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ানো স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী হতে পারে।
তথ্যঃ আর্থ ডট কম
পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]


.jpeg)
0 মন্তব্যসমূহ