একনজরে

10/recent/ticker-posts

World Mosquito Day রোনাল্ড রসের ঐতিহাসিক আবিষ্কার, কলকাতা ও মশা দিবস

 


খোশখবর ডেস্কঃ বিশ্ব মশা দিবস বা World Mosquito Day র সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ব্রিটিশ চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী স্যার রোনাল্ড রসের ঐতিহাসিক আবিষ্কার। ব্রিটিশ চিকিৎসক স্যার রোনাল্ড রস ১৮৯৭ সালে আবিষ্কার করেছিলেন যে স্ত্রী অ্যানোফিলিস (Anopheles) মশা মানুষের মধ্যে ম্যালেরিয়া সংক্রমণ ঘটাতে পারে। স্যার রোনাল্ড রসের ঐতিহাসিক আবিষ্কারের স্মরণে ২০ অগস্ট বিশ্ব মশা দিবস হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।



তাঁর এই আবিষ্কার ম্যালেরিয়া সংক্রমণে মশার ভূমিকা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এনে দেয় এবং রোগ প্রতিরোধের নতুন পথ খুলে দেয়। ১৯০২ সালে ম্যালেরিয়া নিয়ে গবেষণার জন্য রোনাল্ড রস চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনিই প্রথম ব্রিটিশ ব্যক্তি যিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই সম্মান পান।



কেন বিশ্ব মশা দিবস

স্যার রোনাল্ড রসের ঐতিহাসিক আবিষ্কারের স্মরণে ২০ অগস্ট বিশ্ব মশা দিবস হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। বিশ্ব মশা দিবস আসলে মশাবাহিত রোগ সম্পর্কে সচেতনতার দিন। একসময় ম্যালেরিয়ার বিপদ ছিল আরও ভয়াবহ। ১৯ শতকে ম্যালেরিয়া ছিল বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর সংক্রামক রোগ। বলা হয় সেই সময় পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক মানুষ ম্যালেরিয়ার বিপদের মধ্যে ছিল। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হারও ছিল যথেষ্ট বেশি। বিশ্ব মশা দিবসের মূল বার্তা হল—মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা, ব্যক্তিগত সুরক্ষা এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা।

গুগলে আরও খোশখবর



রোনাল্ড রসের আবিষ্কার ও কলকাতা

রোনাল্ড রসের গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাটি হয়েছিল তৎকালীন ভারতের সেকেন্দ্রাবাদে, বেগমপেট এলাকার একটি ছোট গবেষণাগারে। সেই গবেষণাগার স্যার রোনাল্ড রস ইনস্টিটিউট অব প্যারাসাইটোলজি নামে পরিচিত। সেখানে রোনাল্ড রস এবং তাঁর ম্যালেরিয়া গবেষণা নিয়ে একটি ছোট সংগ্রহশালাও রয়েছে।


গর্বের বিষয় হলো রোনাল্ড রসের এই যুগান্তকারী আবিস্কারের সূতিকাগার হলো কলকাতার পিজি হাসপাতাল। এই হাসপাতালে বসেই তিনি আবিষ্কার করেছিলেন ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণু প্লাসমোডিয়াম কী ভাবে মশার শরীরের থেকে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে, তার জীবনচক্র। রসই প্রথম বুঝেছিলেন ম্যালেরিয়া রোগের কারণ পরজীবী। যার বৈজ্ঞানিক নাম প্লাসমোডিয়াম ভাইভাক্স।

১৯২৭ সালে তাঁর কাজের প্রতি সম্মান জানিয়ে পিজি হাসপাতালে এক স্মারক স্তম্ভ স্হাপিত হয়। যার আবরণ উন্মোচন করেছিলেন স্যার রোনাল্ড রস নিজেই। পরবর্তী কালে এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের জায়গাকে ঐতিহ্যবাহী বলে সরকারি ভাবে চিহ্নিত করা হয়।


মশা থেকে সাবধান

তথ্য অনুযায়ী পৃথিবীতে মশার প্রজাতির সংখ্যা তিন হাজারেরও বেশি। তবে সব মশা মানুষের জন্য গুরুতর রোগের বাহক না হলেও মশার মাধ্যমে ছড়াতে পারে এমন উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রোগের মধ্যে আক্সহে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু জ্বর, ইয়েলো ফিভার বা হলুদ জ্বর, জিকা ভাইরাস সংক্রমণ, এনসেফালাইটিস ইত্যাদি।


মশার কামড় এড়ানো এবং মশার বংশবিস্তার রোধ করাই মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়।বিশ্ব মশা দিবসে তাই বার্তা একটাই—সচেতন থাকুন, মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ করুন এবং নিজের পাশাপাশি পরিবারকেও সুরক্ষিত রাখুন। 



[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]

[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।] 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code