খোশখবর ডেস্কঃ মহাবিশ্ব থেকে আসা অত্যন্ত উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করা এবং আইস কিউব নিউট্রিনো অবজারভেটারি ( IceCube Neutrino Observatory) গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য দেওয়া হল এ বছরের নোবেল পুরস্কার। অসাধারণ কাজের স্বীকৃতিতে ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন–ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হ্যালজেন (Francis Halzen)। সুইডেনের রয়াল সুইডিস অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্স ( Royal Swedish Academy of Sciences), হ্যালজেনকে এই পুরস্কার দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
ফ্রান্সিস হ্যালজেন কোন দেশের বিজ্ঞানী?
ফ্রান্সিস হ্যালজেন ১৯৪৪ সালে বেলজিয়ামের টিনেন শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৯ সালে তিনি বেলজিয়ামের এক বিশব্বিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। ৮২ বছর বয়সি হ্যালজেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ উইসকনসিন–ম্যাডিসন ( University of Wisconsin–Madison)-এর সঙ্গে যুক্ত। এই বিশ্ববিদ্যালয়ই দক্ষিণ মেরুতে অবস্থিত IceCube পর্যবেক্ষণাগারের নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠান।
নিউট্রিনো আসলে কী?
নিউট্রিনো হলো অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও রহস্যময় মৌলিক কণা। এরা মহাবিশ্বের প্রায় সর্বত্র রয়েছে। কিন্তু নিউট্রিনোর সবচেয়ে আশ্চর্য বৈশিষ্ট্য হল—এরা প্রায় কোনও কিছুর সঙ্গেই সহজে মেশে না। ফলে প্রতি মুহূর্তে অসংখ্য নিউট্রিনো আমাদের শরীর এবং পৃথিবীর মধ্য দিয়ে চলে গেলেও আমরা তা টের পাই না। বিজ্ঞানীরা নিউট্রিনো যখন অন্য পদার্থের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়, তখন তৈরি হওয়া আলোর ঝলক বা বৈদ্যুতিক চার্জযুক্ত কণার সাহায্যে তাদের অস্তিত্ব শনাক্ত করেন।অত্যন্ত বিরল ক্ষেত্রে এমনটা হয়। নিজের গবেষণার ক্ষেত্রে এই ধারণাকেই কাজে লাগিয়েছিলেন ফ্রান্সিস হ্যালজেন।
এক কিলোমিটার বরফ কিউবের পর্যবেক্ষণাগার
১৯৮০-এর দশক থেকেই দক্ষিণ মেরুর বরফ ব্যবহার করে নিউট্রিনো শনাক্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন হ্যালজেন। পরে তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠে আইস কিউব নিউট্রিনো অবজারভেটারি । বরফের গভীরে সেন্সর বসিয়ে নিউট্রিনোর সংঘর্ষ থেকে তৈরি আলোর সংকেত শনাক্ত করার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। স্বচ্ছ বরফের মধ্যে অসংখ্য আলোক-সংবেদী সেন্সর বসানো হয়। ২০১১ সালে বরফের ঘনক( IceCube) -এর নির্মাণ সম্পূর্ণ হয়। বিশাল এই বরফের পর্যবেক্ষণাগার ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা খুব দ্রুত উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করতে শুরু করেন।
কেন এই আবিষ্কার এত গুরুত্বপূর্ণ?
আগেই বলা হয়েছে নিউট্রিনো অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও রহস্যময় মৌলিক কণা। নিউট্রিনো মহাজাগতিক পথে সহজে দিক পরিবর্তন করে না বা শক্তি হারায় না। ফলে যে উৎস থেকে নিউট্রিনো বেরিয়েছে, তার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তারা সরাসরি পৃথিবীতে পৌঁছে দিতে পারে। বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হ্যালজেনের বৈজ্ঞানিক দূরদৃষ্টি নতুন ধরনের জ্যোতির্বিজ্ঞানের পথ খুলে দিয়েছে। আইস কিউব (IceCube) নিয়মিত যে বিপুল নিউট্রিনো শনাক্ত করছে, তা ভবিষ্যতে মহাবিশ্বের সম্পর্কে এমনকি এখনও অজানা নতুন কোনও মহাজাগতিক ঘটনাও এর মাধ্যমে আবিষ্কৃত হতে পারে।
.jpg)
0 মন্তব্যসমূহ