খোশখবর ডেস্কঃ পদার্থবিদ্যার ক্ষেত্রে একটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পুরস্কার হল ‘অস্কার ক্লেইন পদক’। সুইডেনের স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয় এবং রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেসের নোবেল কমিটি যৌথভাবে প্রতি বছর এই পদক প্রদান করে। প্রয়াত সুইডিশ তাত্ত্বিক পদার্থবিদ অস্কার ক্লেইনের নাম অনুসারে এই পদকের নামকরণ করা হয়েছে। এই ২০২৬ সালে এই অতি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পদক বা সম্মান পেয়েছেন ভারতীয় বিজ্ঞানী অশোক সেন।
অস্কার ক্লেইন কে?
অস্কার ক্লেইন পৃথিবী বিখ্যাত তাত্ত্বিক সুইডিশ পদার্থবিদ। কোয়ান্টাম বলবিদ্যা, আপেক্ষিকতা তত্ত্ব এবং কসমোলজিতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। কালুজা-ক্লেইন তত্ত্ব (Kaluza-Klein Theory) এবং ক্লেইন-গর্ডন সমীকরণ (Klein-Gordon Equation)-এর জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত। এই তত্ত্বের মাধ্যমে তারা দেখিয়েছিলেন যে অতিরিক্ত মাত্রার সাহায্যে মহাকর্ষ ও তড়িচ্চুম্বকত্বের মতো মৌলিক বলগুলোকে একটি অভিন্ন কাঠামোর মধ্যে আনা সম্ভব।
‘অস্কার ক্লেইন পদক’ কারা দেয়?
অস্কার ক্লেইনের মৃত্যু ১৯৭৭ সালে। এর প্রায় বছর দশেক পর ১৯৮৮ সালে তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যায় যুগান্তকারী ও অগ্রণী অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অস্কার ক্লেইনের নাম অনুসারে এই পদক প্রদান করা হয়। সুইডেনের স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয় এবং রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেসের নোবেল কমিটি ফর ফিজিক্স যৌথভাবে প্রতি বছর এই অস্কার ক্লেইন পদক প্রদান করে।
‘অস্কার ক্লেইন মেমোরিয়াল লেকচার’ কী?
ফি বছর এই আন্তর্জাতিক পদক যিনি পান তাঁকে স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত বার্ষিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে হয়। সেটাই হল ‘অস্কার ক্লেইন মেমোরিয়াল লেকচার’। ১৯৮৮ সাল থেকে এই বক্তৃতা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ফি বছর একজন বিশিষ্ট পদার্থবিদ এই স্মারক বক্তৃতা দেন এবং একই সঙ্গে তাঁকে অস্কার ক্লেইন পদক (Oskar Klein Medal) প্রদান করা হয়। স্বাভাবিক ভাবেই স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয় এবং রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেসের নোবেল কমিটির পৃষ্ঠপোষকতায় এই বিশেষ বক্তৃতার আয়োজন করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য পদার্থবিদ্যায় অসামান্য অবদান রাখা বিজ্ঞানীদের সম্মান জানানো এবং তাঁদের গবেষণার কাজকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা।
২০২৬ সালে পদক পেলেন অশোক সেন
প্রথম ভারতীয় পদার্থবিদ হিসেবে ভারতের বিশিষ্ট তাত্ত্বিক পদার্থবিদ অধ্যাপক অশোক সেন ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ অস্কার ক্লেইন পদক অর্জন করেছেন। এর আগে এই পুরস্কার পেয়েছেন স্টিফেন হকিং, পিটার হিগস, চেন-নিং ইয়াং, স্টিভেন ওয়াইনবার্গ এবং হান্স বেথের মতো বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানীরা।
সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী মহাবিশ্বের মৌলিক প্রকৃতি ব্যাখ্যা করার লক্ষ্যে স্ট্রিং থিওরি বা স্ট্রিং তত্ত্ব, কৃষ্ণগহ্বরের এনট্রপি এবং স্ট্রিং ফিল্ড থিওরি নিয়ে তাঁর যুগান্তকারী গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবেই এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। আধুনিক তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যার বিকাশে তাঁর গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
অধ্যাপক অশোক সেন কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র। ইতিপূর্বে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ভারতের পদ্মশ্রী ও পদ্মভূষণ সম্মানেও ভূষিত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি বেঙ্গালুরুর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরেটিক্যাল সায়েন্সেসে ইনফোসিস-মাধব চেয়ার অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]

0 মন্তব্যসমূহ