আজ থেকে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি বছর আগে একটি বিশাল গ্রহাণুর আঘাতেই পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হতে হয়েছিল ডাইনোসরদের – এমনটাই ব্যাখ্যা বিজ্ঞানীদের। গ্রহাণুর প্রচণ্ড সংঘর্ষে তৈরি হওয়া ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ড, সুনামির পাশাপাশি বায়ুমণ্ডলে ধূলিকণার স্তর সূর্যালোক আটকে দেওয়ায় তৈরি হয় মহা শীতকাল যা ডাইনোসরদের বিলুপ্তির প্রধান কারণ। মহাবিশ্বের খামখেয়ালে গ্রহাণুর আঘাত থেকে এখনও মুক্ত নয় পৃথিবী। তবে আর পৃথিবীকে সেপথে হাঁটতে দিতে চান না বিজ্ঞানীরা।
গ্রহাণু খোঁজার বিশেষ টেলিস্কোপ মিশনের উৎক্ষেপণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন SpaceX-কে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ সালে এই বিশেষ টেলিস্কোপ মহাকাশে পাঠানো হবে, যার লক্ষ্য এখনো পর্যন্ত অদেখা থেকে যাওয়া সম্ভাব্য বিপজ্জনক গ্রহাণুগুলিকে খুঁজে বের করা।
যেসব গ্রহাণু বা ধূমকেতু পৃথিবীর কক্ষপথের প্রায় ৪৮ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে আসে, তাদের বলা হয় নিয়ার আর্থ অবজেক্ট Near-Earth Objects। বহু বছর ধরে বিজ্ঞানীরা তাদের অভিজ্ঞতায় দেখেছেন যে অনেক বড় অথচ অন্ধকার গ্রহাণু সাধারণ টেলিস্কোপে সহজে ধরা পড়ে না। সূর্যের আলো খুব কম প্রতিফলিত হওয়ায় এগুলো পৃথিবীর তুলনামূলক অনেকটা কাছাকাছি চলে আসার পরই শনাক্ত করা যায়। তখন হয়ত বিপদ অনেক সামনে চলে এসেছে।
এই বিশেষভাবে লুকিয়ে থাকা বা না দেখতে পাওয়া গ্রহাণুগুলিকে শনাক্ত করতে অনেকদিন ধরেই একটা কিছু করার মিশনের পক্ষে সওয়াল করে আসছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস-এর জ্যোতির্বিজ্ঞানী অ্যামি মাইনজার। সেই লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে এই মিশন। এর নাম NEO সার্ভেয়ার মিশন। অন্ধকার গ্রহাণু আলো কম প্রতিফলিত করলেও তাপ নির্গত করে। সেই তাপ ইনফ্রারেড তরঙ্গ হিসেবে ধরা যায়। নাসার এই মিশনে প্রায় ২০ ইঞ্চি আকারের একটি টেলিস্কোপ থাকবে, যা দুটি ইনফ্রারেড তরঙ্গদৈর্ঘ্যে কাজ করবে। ফলে উজ্জ্বল ও অন্ধকার—দু ধরনের গ্রহাণুই সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
পাঁচ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ চালাবে NEO Surveyor। এর লক্ষ্য হবে ১৪০ মিটার বা তার বেশি ব্যাসের এখনও অজানা এমন প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নিয়ার আর্থ অবজেক্ট (NEO) বা পৃথিবীর কাছাকাছি থাকা গ্রহাণু খুঁজে বের করা।
নাসার এই মিশন শুধু গ্রহাণু খুঁজে পাওয়া নয়, তার আকার ও গতিপথও বুঝে নেবে। ইনফ্রারেড তথ্য থেকে বিজ্ঞানীরা জানতে পারবেন, গ্রহাণুর প্রকৃত আকার, তার বাইরের দিকের উপাদান, ঘূর্ণন বা ঘোরার ধরন, ভবিষ্যৎ কক্ষপথ ইত্যদি। আর টেলিস্কোপের তথ্য সম্ভাব্য বিপদের হলে তা প্রয়োজন হলে পৃথিবীর প্রতিরক্ষা মূলক ব্যবস্থা নিতে সাহায্য করবে।
বোঝাই যাচ্ছে এই মিশন কতটা গুরুত্বপূর্ণ! বিজ্ঞানীদের মতে, গ্রহাণু থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করার প্রথম শর্ত হলো আগে থেকে তাদের খুঁজে পাওয়া। কারণ আমরা যদি নাই জানি যে কোনও গ্রহাণু আসছে, তাহলে তাকে আটকাতে কিছুই করা সম্ভব নয়।
তবে এই মিশনের খরচ কম নয়। ইতিমধ্যে প্রকল্পের মোট ব্যয় সময়ের সঙ্গে বেড়ে প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। মিশনটি উৎক্ষেপণের জন্য SpaceX-এর সঙ্গে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে NASA। আপনি ভাবতেই পারেন পৃথিবীকে গ্রহাণুর হানা থেকে বাঁচাতে এটুকু তো করতেই হবে।
তথ্যঃ আর্থ ডট কম
পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদের সামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]
0 মন্তব্যসমূহ