ইরান, ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হানাহানির জেরে এই মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে জোর চর্চা চলছে হরমুজ প্রণালী নিয়ে। স্কুল পাঠ্য বইয়ে পড়া সেই সমুদ্রপ্রণালীই আজ আলোচনার কেন্দ্রে। কিন্তু কী এই হরমুজ প্রণালী? কেন তা নিয়ে চিন্তিত গোটা বিশ্ব?
কিন্তু এই ‘হরমুজ’ কথার মানে কী? আসলে হরমুজ শব্দটি সাধারণত Strait of Hormuz বা হরমুজ প্রণালী বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। “হরমুজ” নামটি এসেছে ঐতিহাসিক Hormuz Island এবং মধ্যযুগীয় Kingdom of Hormuz থেকে, যা একসময় গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল।
গুগলে আরও 'খোশখবর'
হরমুজ প্রণালী হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপ্রণালী, যা Persian Gulf বা পারস্য উপসাগরকে Gulf of Oman বা ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এই পথ দিয়েই পারস্য উপসাগর থেকে জাহাজ খোলা সমুদ্রে প্রবেশ করে।
কোথায় অবস্থিত এই প্রণালী? ভৌগোলিক অবস্থানের নিরিখে এর উত্তরে আছে ইরান এবং দক্ষিণে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১০৪ মাইল বা ১৬৭ কিমি এবং প্রস্থ সর্বোচ্চ প্রায় ৬০ মাইল বা ৯৭ কিমি। তবে এর সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ প্রায় ৩৩ কিলোমিটার।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরেই এই প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্য এশিয়ার সমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোর পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এই প্রণালী ছিল অপরিহার্য। উইকিপিডিয়ার তথ্য বলছে বাবর তাঁর স্মৃতিকথায় এই পথের উল্লেখ করেছিলেন।
ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমা থাকলেও এটি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে বিবেচিত—যেখানে সব দেশের জাহাজ চলাচল করতে পারে। এটি পারস্য উপসাগর থেকে খোলা সমুদ্রে যাওয়ার একমাত্র সমুদ্রপথ এবং বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত ‘চোক পয়েন্ট’ হিসেবে বিবেচিত।
গোটা বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যে ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে এই পথের। সিবিসি নিউজের দেওয়া তথ্য জানাচ্ছে ২০২৩ থেকে ২০২৫ এই সময়কালে বিশ্বের প্রায় ২০% লিকুইড ন্যাচারাল গ্যাস এবং সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় ২৫% এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করেছে। বিশ্বের বড় বড় জাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলোর জাহাজ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করে।
যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে এই হরমুজ প্রণালী এখন আলোচনার কেন্দ্রে। আসলে হরমুজ প্রণালী শুধু একটি সরু জলপথ নয়— গোটা বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার প্রাণরেখা। দীর্ঘ দিন এই প্রণালী বন্ধ থাকলে বড় ধাক্কা লাগবে তেলের বিশ্ববাজারে। তাই নিয়েই চিন্তা বাড়ছে গোটা দুনিয়ার।
পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদের সামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]


0 মন্তব্যসমূহ