খোশখবর ডেস্কঃ আমাদের প্রতিদিনের জীবনে সবচেয়ে পরিচিত দৃশ্যগুলোর একটি হল বাড়ির ছাদ বা ইলেকট্রিক তারে বসে থাকা কুচকুচে কালো কাকেদের ঘোরাঘুরি। পড়ার বই বা ছোটবেলার বিভিন্ন রঙিন গল্পের বই পড়ে আমরা হয়তো তাদের স্রেফ 'প্রকৃতির ঝাড়ুদার' বা বুদ্ধিমান পাখি হিসেবেই দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু আপনি কি জানেন, কাক প্রয়োজনে প্রায় দেড় যুগ ধরে আপনার প্রতি শত্রুতা বা মিত্রতা পুষে রাখতে পারে?
বিজ্ঞানীদের গবেষণায় জানা যাচ্ছে মানুষের চেহারা চিনে রাখার ক্ষেত্রে কাকেদের দক্ষতা অবিশ্বাস্য। ২০০৬ সালে ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটনের বন্যপ্রাণী বিজ্ঞানী জন মারজলুফ (John Marzluff) এক অভিনব পরীক্ষা চালান। তিনি একটি ভয়ংকর দর্শন 'বিপজ্জনক' মুখোশ পরে সাতটি কাককে সাময়িকভাবে খাঁচাবন্দি করে আবার ছেড়ে দেন। এরপর থেকে গবেষকরা যখনই ওই মুখোশটি পরে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে হাঁটতেন, দেখা যেত কাকেরা তাদের ঘিরে ধরে তীব্র চিৎকারে রাগ প্রকাশ করছে।
গুগলে আরও খোশখবর
মজার বিষয় হল গবেষণায় তৎকালীন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট Dick Cheney-এর মুখের আদলে তৈরি মুখোশ ব্যবহার করা হয়, এই মুখোশ পরে যারা কাকদের খাবার দিতেন, তাদের প্রতি কাকদের কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। কারণ Dick Cheney কাকেদের ভালবাসতেন। এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞান পত্রিকা Proceedings of the Royal Society B-এ। গবেষণার এই তথ্য প্রকাশ করেছে আর্থ ডট কম।
এই গবেষণার সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো কাকদের স্মৃতিশক্তির স্থায়িত্ব। দেখা গেছে, ২০১৩ সালে কাকেদের এই আচরণের তীব্রতা ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ে। এরপর ধীরে ধীরে তা কমতে থাকে এবং দীর্ঘ ১৭ বছর পর, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে যখন গবেষকরা আবারও সেই মুখোশ পরে চত্বরে যান, তখন কাকেরা আর কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। অর্থাৎ, ১৭ বছর পর তারা সেই শত্রুতা হয় ভুলে গেছে বা ক্ষমা করেছে। কাকেরা শুধু নিজেরাই শত্রুতা মনে রাখে না, বরং সেই তথ্য নিজেদের সমাজের অন্যদের এমনকি পরবর্তী প্রজন্মের কাছেও পৌঁছে দেয়। আমরা আমাদের চারপাশেও এমন ঘটনা পাই যেখানে কাকের আক্রমণের কোপে পড়ে অনেকেই ঘরের বাইরে বেরোতে ভয় পেতে শুরু করেন।
কাকের বুদ্ধিমত্তা শুধু শত্রুতা মনে রাখায় সীমাবদ্ধ নয়। তারা যন্ত্র তৈরি করতে পারে, এমনকি গণনাও করতে পারে। পাশাপাশি রাস্তার ওপর বাদাম ফেলে গাড়ির চাকায় তা ভেঙে নেওয়া, ডালপালা দিয়ে হুক তৈরি করে গাছের ছাল থেকে পোকা বের করে আনা কাককে অদ্ভুত ক্ষমতা সম্পন্ন এক প্রাণী হিসেবে চিনিয়ে দেয়।
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন কাকদের সামাজিক জীবনও অত্যন্ত জটিল।গবেষকরা দেখেছেন, বিভিন্ন অঞ্চলের কাকের ডাকের মধ্যে আঞ্চলিক ভিন্নতা বা উপভাষা রয়েছে। যখন কোনো কাক মারা যায়, তখন আশেপাশের সব কাক সেখানে জড়ো হয়ে এক ধরণের 'শোকসভা' বা জমায়েত করে। কাজেই কাক কেবল প্রকৃতির এক সামান্য সদস্য নয়, বরং বিস্ময়কর স্মৃতিশক্তি, সামাজিক শিক্ষা এবং সমস্যা সমাধানের অদ্ভুত ক্ষমতা সম্পন্ন এক উন্নত প্রাণী।
তথ্যঃ আর্থ ডট কম
পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদের সামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]

0 মন্তব্যসমূহ