একনজরে

10/recent/ticker-posts

Ecosystem and Snakes পৃথিবীতে সাপ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? না থাকলে কী ক্ষতি হতো বাস্তুতন্ত্রের?

 


খোশখবর ডেস্কঃ এই পৃথিবীতে মশাদের যেমন কেউ পছন্দ করে না সেইরকমই সাপেদেরও সম্ভবত কেউ পছন্দ করে না। হিলহিলে গড়ন ও বিষের বিপদ থাকায় সাপ অনেকের কাছেই ভয়ের কারণ। অথচ সাপ শুধু প্রকৃতির একটি প্রাণী নয়, বরং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাপের প্রতি এই ভয় ও বিদ্বেষের বড় অংশই হয় ভুল ধারণা এবং অজ্ঞতার ফল থেকে।



সাপ কোথায় বাস করে? কী কী খায়?

আন্টার্কটিকা ছাড়া পৃথিবীর প্রায় সব মহাদেশেই সাপের দেখা মেলে। তারা বিভিন্ন ধরনের পরিবেশে বসবাস করে। সমুদ্র, বনভূমি, মরুভূমি, তৃণভূমি,পাহাড়ি অঞ্চল এমনকি মানুষের বাড়ির আশপাশ, বাগান বা গ্যারেজেও সাপের দেখা মেলে। অন্যদিকে সাপ মাংসাশী প্রাণী। তারা বিভিন্ন ধরনের প্রাণী শিকার করে, যেমন— পোকামাকড়, ইঁদুর, ব্যাঙ, টিকটিকি,পাখি, মাছ ইতাদি। সাপ শিকারকে চিবিয়ে নয়, সম্পূর্ণ গিলে খায়। কারণ তাদের নিচের চোয়াল এমনভাবে গঠিত যে তা অনেকটা প্রসারিত হতে পারে। বড় আকারের সাপ ছোট হরিণ, বুনো শূকর, বানরসহ আরও বড় প্রাণীও খেতে পারে।

গুগলে আরও খোশখবর 
 

সাপ একই সঙ্গে শিকারি এবং শিকার

সেভ দ্য স্নেক ডট ওআরজির তথ্য অনুসারে প্রতিটি বাস্তুতন্ত্রে সাপ একই সঙ্গে শিকারি এবং শিকার—দুই ভূমিকাতেই থাকে। তারা ইঁদুর, ব্যাঙ, টিকটিকি কিংবা অন্যান্য ছোট প্রাণী শিকার করে। আবার নিজেরাও শিকার হয় শিকারি পাখি, বন্য স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং অন্য সাপের কাছে।

কিছু সাপ আবার বিশেষভাবে অন্য সাপকেই শিকার করে। যেমন উত্তর আমেরিকার কিংস্নেক বিষধর র‍্যাটলস্নেক, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিং কোবরা, বিশ্বের দীর্ঘতম বিষধর সাপ, অন্য সাপ খেয়ে বেঁচে থাকে।


ক্ষতিকর প্রাণী নিয়ন্ত্রণ করে সাপ

ইঁদুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সাপের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।শিকারি না থাকলে ইঁদুর খুব দ্রুত বংশবিস্তার করে। কৃষিজমি, খাদ্যশস্য ও মানুষের সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি করে। অনেক ক্ষেত্রে মানুষ রাসায়নিক বিষ ব্যবহার করে ইঁদুর দমন করে, যা পরিবেশ দূষণের কারণ হয়। সাপকে প্রকৃতির পরিবেশবান্ধব 'পেস্ট কন্ট্রোল' বা ক্ষতিকর প্রাণী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হিসেবে মানা হয়।কারণ সাপ কোনো ধরনের দূষণ ছাড়াই বিনামূল্যে এই কাজটি করে।



বিভিন্ন সংস্কৃতিতেই আছে সাপের কথা

ভয়ে হোক বা ভক্তিতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বহু মানুষ সাপকে এড়িয়ে চলে। ভারত সহ বিভিন্ন দেশের নানা সংস্কৃতিতে সাপকে সৌভাগ্য, শক্তি কিংবা সৃষ্টির প্রতীক হিসেবে সম্মান করা হয়।বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন সাপ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত প্রয়োজন হলেও দুঃখজনকভাবে বহু প্রজাতির সাপ আজ বিলুপ্তির বিপদে রয়েছে। নগরায়ণ, মানুষের হাতে নির্বিচারে হত্যা, অবৈধ বন্যপ্রাণী নিয়ে ব্যবসার কারণে অনেক সাপের সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে।

ঢুকে পড়ুন বিখ্যাতদের বাণীর এক আশ্চর্য দুনিয়ায়


১৬ জুলাই পালিত হয় ‘বিশ্ব সাপ দিবস’

বিশ্বের নানা প্রান্তে সাপকে ভয়ের চোখে দেখা হয়। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, এই ভয় ও তা থেকে বিদ্বেষের বড় অংশই ভুল ধারণা এবং অজ্ঞতার ফল। সাপ সম্পর্কে মানুষের ভয় ও ভুল ধারণা দূর করতে এবং প্রকৃতিতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে প্রতি বছর ১৬ জুলাই বিশ্বজুড়ে বিশ্ব সাপ দিবস (World Snake Day) পালিত হয়। হাজার হাজার বছর ধরে সাপকে ঘিরে নানা কুসংস্কার, ভয় এবং নেতিবাচক ধারণা প্রচলিত রয়েছে।

পড়ুন 'খোশখবর' -  এর চমকে দেওয়া খবর 


সাপের নানা প্রজাতি, অধিকাংশই বিষহীন

জানা গেছে পৃথিবীতে বর্তমানে ৩,৫০০-এরও বেশি প্রজাতির সাপ রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র প্রায় ৬০০টি প্রজাতি বিষধর। পাশাপাশি মানুষের জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে বিপজ্জনক সাপের সংখ্যা প্রায় ২০০টি। অর্থাৎ পৃথিবীর অধিকাংশ সাপই মানুষের জন্য প্রাণঘাতী নয়। সাপ সম্পর্কে সঠিক ধারণা গড়ে তুলতে বিভিন্ন দেশে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। উদ্যোগগুলোর লক্ষ্য হলো মানুষকে বোঝানো যে সাপ ভয়ের নয়, বরং প্রকৃতির এক অপরিহার্য অংশ।



সাপ নিয়ে শিক্ষা ও সচেতনতার প্রয়োজন

সাপ মানবসভ্যতার অন্যতম প্রাচীন পৌরাণিক প্রতীক। পৃথিবীর বিভিন্ন সংস্কৃতি ও সভ্যতায় কখনও সাপকে শক্তি, জ্ঞান ও পুনর্জন্মের প্রতীক হিসেবে পূজা করা হয়েছে, আবার কোথাও ভয় ও রহস্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছে। বলা হয় সাপকে পোষ্যর মত করে ভালোবাসার দরকার নেই। তবে পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখতে তাদের বেঁচে থাকা যে জরুরী তা বোঝা দরকার। সঠিক তথ্য জানলে অযথা আতঙ্ক কমবে এবং সাপ সংরক্ষণে মানুষের আগ্রহও বাড়বে।

তথ্যঃ সেভ দ্য স্নেক ডট ওআরজি ও অনান্য সাইট

পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে


[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]

[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code