একনজরে

10/recent/ticker-posts

Butterflies may lose color উষ্ণায়নের জের! প্রচণ্ড গরমে রং হারাতে পারে নীল প্রজাপতি?

 


খোশখবর ডেস্কঃ মানুষের জন্য পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে চলার বড় খেসারত দিতে হচ্ছে জীবকুলকে। সম্প্রতি এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন মানুষের উন্নয়নের জেরে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত গরম পরিবেশ নীল মরফো প্রজাপতির ডানার রং ফিকে করে দিতে পারে। অর্থাৎ অন্যান্য প্রাণীরা তাদের কীভাবে দেখে, তা বদলে যেতে পারে। আসলে পশু-পাখির রং তাদের সঙ্গী চিনতে, শত্রুর হাত থেকে বাঁচতে বা শিকারীকে বিভ্রান্ত করতে সাহায্য করে। এই রংগুলি নির্ভর করতে পারে সেই পরিবেশের উপর, যেখানে প্রাণীটি বেড়ে ওঠে। এই তথ্য প্রকাশ করেছে আর্থ ডট কম। গবেষণাটি PNAS Nexus জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।



কীভাবে পরীক্ষা করলেন বিজ্ঞানীরা?

স্মিথসোনিয়ান ট্রপিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (STRI) ফেলো জুলিয়েট জে. রুবিন তাপমাত্রা কীভাবে এই রঙকে প্রভাবিত করে, তা নিয়ে গবেষণা করেছেন। দলটি মরফো হেলেনরের দুটি আঞ্চলিক রূপ বা উপপ্রজাতি নিয়ে কাজ করে। একটি পানামার, অন্যটি ইকুয়েডরের আমাজন অঞ্চলের। গবেষক দল প্রজাপতির মূককীট (পিউপা) অবস্থায় তিন রকম তাপমাত্রায় রেখেছিলেন। যেমন স্বাভাবিক (২৮° সেলসিয়াস), ঠান্ডা (দিনে ২৮° আর রাতে ১৪° সেলসিয়াস), গরম (দিনে ৩৫° আর রাতে ২৮° সেলসিয়াস)।



কী ফল মিলল ওই পরীক্ষায়?

স্মিথসোনিয়ান গবেষণায় দেখা গেল গরমে যারা ছিল, তাদের ডানার নীল রং অনেক নিস্তেজ হয়ে গেছে। গরমে তাদের মৃত্যুর হার বেড়ে গেছে (পানামার প্রজাপতিদের মধ্যে ৬৯% মারা গেছে)। গরমে তাদের ডানার অণুবীক্ষণিক আঁশগুলোর মধ্যে ফাঁক কমে যায়, যার কারণে আলো ঠিকমতো প্রতিফলিত হয় না এবং রং কম উজ্জ্বল হয়।

গুগলে আরও খোশখবর



কেন এই রং পরিবর্তন?

কাজেই দেখা গেল গরমে প্রজাপতির ডানার রং বদলে যাচ্ছে অথচ শীতল পরিবেশে বেড়ে ওঠা প্রজাপতিরা নিয়ন্ত্রণ গোষ্ঠীর মতোই আলো প্রতিফলিত করেছিল। আসলে মরফো প্রজাপতির নীল রং রঞ্জক বা পিগমেন্ট থেকে নয়, বরং তাদের ডানার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কাঠামো থেকে আসে—যা ছাদের টাইলের মতো সাজানো থাকে। গরমে এই কাঠামো সঙ্কুচিত হয়ে যায়, তাই রং ফিকে হয়।



নীল প্রজাপতিদের বিপদটা কোথায়?

পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে ‘নীল মরফো’ প্রজাপতির ডানার উজ্জ্বল নীল রং ফিকে হয়ে যেতে পারে। এতে তাদের শত্রু পাখিরা তাদের আরও সহজে দেখতে পাবে এবং নিজেদের মধ্যে সঙ্গী চিনতেও সমস্যা হবে।তবে বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন প্রকৃতিতে এমনটা কতটা ঘটবে এবং তাদের বাঁচার ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা জানতে আরও বেশি মাঠ পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন।

তথ্যঃ আর্থ ডট কম


[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]

[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।] 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code