একনজরে

10/recent/ticker-posts

Insects Attracted to Lights ‘আলোর আকর্ষণ’! পোকারা কী সত্যিই আলোর দিকে ছুটে যায়? বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা কিন্তু অন্য

 

খোশখবর ডেস্কঃ রাতে আলো জ্বাললেই তার চারপাশে উড়তে দেখা যায় নানা ধরনের পোকা,পতঙ্গ, বিশেষ করে মথকে। অক্টোবর-নভেম্বর মাসে বা হেমন্তকালে আমন ধান পাকার সময় এই সব পোকার সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। সেগুলোকে প্রধানত ‘শ্যামাপোকা’ বলা হয়। এই পোকাগুলো মূলত আশেপাশের ধানক্ষেত, ঘাসজমি, ঝোপঝাড় এবং আর্দ্র জলাভূমি থেকে আসে। কারণ বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা এই সময় ধানক্ষেত এবং মাঠের সবুজ ঘাসজমি এই পোকাদের প্রধান বাসস্থান ও প্রজনন ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। বলা হয় সেখান থেকেই আলোর কাছাকাছি চলে আসে তারা।



সত্যিই কী পোকারা আলোর দিকে ছুটে আসে?

জেনে-বুঝে বা মোহের বশে নিজের ধ্বংস ডেকে আনা বোঝাতে আগুনের শিখার দিকে মথের ছুটে যাওয়া নিয়ে ইংরেজিতে প্রচলিত একটা আছে —‘like a moth to a flame’, অর্থাৎ আগুনের শিখার দিকে মথের ছুটে যাওয়ার মতো। সন্ধ্যের দিকে বারান্দার আলো জ্বাললেই এদের উৎপাতে বিরক্ত হয় নি এমন মানুষ নেই বললেই চলে।প্রচলিত ধারণা এটাই যে মথ ও অন্যান্য রাতে ঘোরাফেরা করা পোকামাকড় সরাসরি আলোর প্রতি আকৃষ্ট হয়। কিন্তু সত্যিই কী তাই? বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিষয়টি হয়তো আসলে ‘আলোর প্রতি আকর্ষণ’-এর ব্যাপার নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে আরও অদ্ভুত একটি উড়ান কৌশল।

গুগলে আরও খোশখবর 

 


চাঁদ, রাতের আকাশ আর পোকাদের উড়ান

একসময় রাতের পৃথিবীতে কোনও আলো ছিল না। ছিল শুধু আকাশের চাঁদ আর তারা। গবেষকদের মতে, উড়ন্ত পোকাদের জন্য আকাশের আলো গুরুত্বপূর্ণ একটি দিকনির্দেশক। পৃথিবীর ইতিহাসের প্রায় ৩৭ কোটি বছর ধরে রাতের আকাশই ছিল সবচেয়ে উজ্জ্বল আলোর উৎস। চাঁদ, তারা ও অন্যান্য জ্যোতিষ্কের আলো ব্যবহার করে পোকামাকড় কোন দিকটি ওপরে আর কোনটি নিচে, তা বুঝে নিজেদের শরীরের অবস্থান ঠিক রাখত। গবেষণায় উঠে আসা সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রাতের বেলায় উড়ে বেড়ানো পতঙ্গরা আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল অংশ চাঁদের অবস্থানকে দিকনির্ণয়ের জন্য ব্যবহার করে। নিজেদের শরীরের পিঠ আকাশের উজ্জ্বল অংশের দিকে কাত করে তারা উড়তে অভ্যস্ত।


উজ্জ্বল কৃত্রিম আলো ও পোকাদের বিভ্রান্তি

এরপর মানুষ আগুন জ্বালাতে শিখল। আর বৈদ্যুতিক বাল্ব এসেছে মাত্র প্রায় দেড়শো বছর আগে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, পোকাদের উড়ান বিষয়টি হয়তো আসলে ‘আলোর প্রতি আকর্ষণ’-এর ব্যাপার নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে সেই উড়ান কৌশল যা নিজেদের শরীরের পিঠ আকাশের উজ্জ্বল অংশের দিকে কাত করে তারা উড়তে অভ্যস্ত। কিন্তু কৃত্রিম আলো এসে তাদের স্বাভাবিক আকাশ-নির্ভর নেভিগেশন ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করে দেয়। সায়েন্সফোকাস ডট কমের তথ্য অনুযায়ী বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা সেই বিভ্রান্তির ফলেই রাতের আলো ঘিরে তাদের অদ্ভুত উড়ান দেখতে পাওয়া যায়।



আধুনিক কৃত্রিম আলো ও বিজ্ঞানীদের পরীক্ষা

আমেরিকার বিখ্যাত স্মিথসোনিয়ান ডট কমের তথ্য অনুযায়ী গবেষকরা কোস্টারিকায় উচ্চ-রেজোলিউশনের ক্যামেরা দিয়ে কৃত্রিম আলোর চারপাশে উড়তে থাকা পোকাদের গতিবিধি পরীক্ষা করেন। পাশাপাশি মথ ও ড্রাগনফ্লাইয়ের শরীরে লাগানো হয় ক্ষুদ্র সেন্সর। ইনফ্রারেড মোশন-ক্যাপচার প্রযুক্তিতেও তাদের উড়ান রেকর্ড করা হয়। বিজ্ঞানীরা দেখেন, পোকাগুলো কৃত্রিম আলোর উৎসের দিকে পিঠ ঘুরিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে কখনও কখনও তারা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে। কেউ কেউ শরীর উল্টে ফেলছে, আলোর সঙ্গে ধাক্কা খাচ্ছে এবং মাটিতে পড়ে যাচ্ছে।



বিজ্ঞানীরা দেখছেন কৃত্রিম আলো তাদের কাছে রাতের আকাশের বদলে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। তারা সেই আলোর সঙ্গে নিজেদের শরীরের অবস্থান সামঞ্জস্য করতে গিয়ে উল্টে যাচ্ছে, ঘুরপাক খাচ্ছে, নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে, মারা যাচ্ছে। কাজেই মানুষের মানুষের কাজে এলেও পোকাদের জন্য মারাত্মক হয়ে উঠেছে আধুনিক সভ্যতার এই কৃত্রিম আলো।



প্রভাব বিভিন্ন প্রাণীর স্বাভাবিক আচরণেও

শুধু মথ বা পোকামাকড়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় কৃত্রিম আলোর এই প্রভাব। দেখা গেছে সমুদ্রের কচ্ছপের বাচ্চারা চাঁদ ও তারার আলো অনুসরণ করে জলের দিকে যাওয়ার বদলে আলো ঝলমল রাস্তা বা পার্কিং এলাকায় চলে যেতে পারে। কৃত্রিম আলোর প্রভাবে পথ হারায় রাতের পরিযায়ী পাখিরাও। প্রভাব পড়তে পারে ব্যাঙ ও জোনাকি বা গ্লো-ওয়ার্মের মতো আলোকসৃষ্টিকারী পতঙ্গের প্রজননেও।

তথ্যঃ স্মিথসোনিয়ান ডট কম, সায়েন্সফোকাস ডট কম


[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]

[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।] 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code