একনজরে

10/recent/ticker-posts

Lion Conservation বিশ্বে সিংহের সংকট, ভারতেই সুখবর—এশীয় সিংহের সংখ্যা বেড়ে ৮৯১

 


খোশখবর ডেস্কঃ পৃথিবীর বুকে কেমন আছে সিংহরা? সদ্য ১০ আগস্ট বিশ্ব সিংহ দিবস পালিত হওয়ার সময়েই ওঠা এই প্রশ্নে সরাসরি উত্তরটি হল তারা ভাল নেই। সিংহ পৃথিবীর সবচেয়ে পরিচিত বড় বিড়ালজাতীয় প্রাণীদের অন্যতম। কিন্তু এই বিপুল জনপ্রিয়তা তাদের নিরাপদ রাখতে পারেনি। তবে সুখবর দিয়েছে আমাদের দেশ। ভারতে এশীয় সিংহের সংখ্যা রেকর্ড ৮৯১-এ পৌঁছেছে। আর্থ ডট কম-এর তথ্য অনুযায়ী আফ্রিকায় বাসস্থান কমে যাওয়া, শিকারের অভাব, মানুষ-সিংহ সংঘাত এবং অবৈধ বন্যপ্রাণী নিয়ে বাণিজ্য সিংহের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে রয়েছে।



হারিয়ে যাচ্ছে সিংহের বাসস্থান!

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনসারভেশন অফ নেচার -এর তালিকায় সিংহকে ভালনারেবেল বা অরক্ষিত প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০২৩ সালের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, আফ্রিকায় পূর্ণবয়স্ক সিংহের সংখ্যা প্রায় ২৩ হাজার। ২০০২ সালের তুলনায় সিংহের বিচরণক্ষেত্র প্রায় ৩৬ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে সিংহ প্রায় ৫ লক্ষ ৯ হাজার বর্গমাইল (১৫.৭ লক্ষ বর্গকিলোমিটার) এলাকায় বিচরণ করে। এটি তাদের বিস্তৃতির মাত্র ৭.৪ শতাংশ। গবেষকদের মতে, সিংহদের এই ক্রমশ কমে যাওয়া বিচরণক্ষেত্রই তাদের সংখ্যা কমে যাওয়ারও ইঙ্গিত দেয়। তবে এর পরেও বলা যায় অনেক জায়গায় সাম্প্রতিক তথ্যও নেই।

গুগলে আরও খোশখবর 



সুখবর এল ভারত থেকে

ভারতে এশীয় সিংহের সংখ্যা ২০১৫ সালের ৫২৩টি থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে আনুমানিক ৮৯১টি হয়েছে। তথ্য জানাচ্ছে গুজরাটে তাদের বিচরণক্ষেত্রও বেড়েছে। ২০২০ সালে প্রায় ১১,৬০০ বর্গমাইল এলাকা থেকে তা বেড়ে প্রায় ১৩,৫০০ বর্গমাইল হয়েছে। বর্তমানে পৃথিবীর সমস্ত বন্য এশীয় সিংহই ভারতের গুজরাটের সৌরাষ্ট্র অঞ্চলে বাস করে। এখন সিংহ শুধু গিরের মূল আবাসস্থলেই সীমাবদ্ধ নেই; তারা বনাঞ্চল, নদীপথ এবং আশপাশের অন্যান্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। এই মুহূর্তে ভারত হয়ে উঠেছে সিংহ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সাফল্যের উদাহরণ।


বিশ্ব সিংহ দিবস পালন দরকার কেন?

সিংহের সংখ্যা বৃদ্ধি অবশ্যই সুখবর। কিন্তু শুধু সংখ্যা বাড়লেই যে সিংহেরা সুস্থ ও নিরাপদ—তা নয়। এবারের বিশ্ব সিংহ দিবসে মূল আলোচনার বিষয় এই পার্থক্যই। ফি বছর ১০ আগস্ট বিশ্ব সিংহ দিবস পালিত হয়। এই দিনটি সিংহের মত বন্যপ্রানীর প্রতি মানুষের ভালোবাসা উদ্‌যাপনের পাশাপাশি বন্য পরিবেশে তাদের অস্তিত্বের জন্য তৈরি হওয়া নানা বিপদের দিকেও নজর দেওয়ার কথা ভাবা হয়।



বিশ্ব সিংহ দিবসের মূল বার্তা তাই স্পষ্ট: সিংহকে শুধু বাঁচিয়ে রাখাই নয়, তাদের এমন একটি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হবে যেখানে তারা স্বাধীনভাবে বিচরণ, প্রজনন এবং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার ভূমিকা পালন করতে পারে।গবেষকদের মডেল অনুযায়ী, প্রতি দশকে মাত্র এক থেকে পাঁচটি প্রজননক্ষম পুরুষ সিংহ নতুন করে জনসংখ্যায় যুক্ত করা গেলে এই প্রাণীর জিনগত ক্ষয় ঠেকানো সম্ভব হতে পারে।

তথ্যঃ আর্থ ডট কম

পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে


[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]

[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code