খোশখবর ডেস্কঃ অনান্য প্রাণীকুলের মত মানুষও তেষ্টা পেলে পান করে। কারণ জল আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে সামান্য জলশূন্যতাও আমাদের মেজাজ, মনোযোগ এবং প্রতিদিনের কর্মক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে প্রশ্ন হল জল খাবেন কী করে? কোন পদ্ধতিতে জল খাওয়া সবচেয়ে ভাল? চলুন জেনে নেওয়া যাক বিশেষজ্ঞদের মতই বা কী? এই নিয়ে এক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে সায়েন্স ফোকাস ডট কম।
জল খাবেন কীভাবে?
অনেকেই তেষ্টা পেলে একসঙ্গে ঢক ঢক করে অনেকটা জল খেয়ে ফেলেন। এই অভ্যাস আদৌ শরীরের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নয় বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে একসঙ্গে প্রচুর জল খাওয়ার চেয়ে অল্প অল্প করে ধীরে ধীরে জল পান করাই বেশি কার্যকর। ফলে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যের মূল কথা হল, তৃষ্ণা মেটাতে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ জল পান করার বদলে দিনের বিভিন্ন সময়ে অল্প অল্প করে জল পান করা হল সবচেয়ে ভালো অভ্যাস।
একসঙ্গে অনেকটা জল পানে কী সমস্যা?
তৃষ্ণা মেটাতে একসঙ্গে অনেকটা জল পান করলে প্রথমে বেশ স্বস্তি লাগতে পারে। কিন্তু শরীর অতিরিক্ত জল জমতে দিতে চায় না। শরীর অতিরিক্ত জল দ্রুত বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। ফলে আপনার কিডনিতে প্রস্রাবের উৎপাদন বেড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, অল্প অল্প করে একই পরিমাণ জল পান করলে শরীর তুলনামূলকভাবে বেশি সময় ধরে জল ধরে রাখতে পারে।
তৃষ্ণা মেটাতে একসঙ্গে অনেকটা জল পান করলে প্রথমে বেশ স্বস্তি লাগতে পারে। কিন্তু শরীর অতিরিক্ত জল জমতে দিতে চায় না। শরীর অতিরিক্ত জল দ্রুত বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। ফলে আপনার কিডনিতে প্রস্রাবের উৎপাদন বেড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, অল্প অল্প করে একই পরিমাণ জল পান করলে শরীর তুলনামূলকভাবে বেশি সময় ধরে জল ধরে রাখতে পারে।
কানাডিয়ান হাসপাতালের গবেষণা
সায়েন্স ওয়েবসাইটে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুসারে একটি কানাডিয়ান হাসপাতালের গবেষণায় দেখা যায়, একসঙ্গে বেশি পরিমাণ জল পান করার পর শরীর অনেক দ্রুত প্রস্রাব তৈরি করতে শুরু করে। গবেষণায় দেখা যায়, একই পরিমাণ জল অল্প অল্প করে পান করলে শরীর সেটি তুলনামূলকভাবে বেশি সময় ধরে ধরে রাখতে পারে। ফলে হাইড্রেশন বজায় রাখার পাশাপাশি বারবার প্রস্রাবের প্রবণতাও কম হতে পারে।
গুগলে আরও খোশখবর
শরীর ও জলের ভারসাম্য
শরীরের জল ও লবণের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য একটি জটিল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন আমাদের শরীর রক্তে দ্রবীভূত বিভিন্ন পদার্থের ঘনত্ব বা অস্মোল্যালিটি (osmolality) নির্দিষ্ট মাত্রায় রাখার চেষ্টা করে। শরীরে জল কমে গেলে রক্তের অস্মোল্যালিটি বেড়ে যায়, আর অতিরিক্ত জল গেলে তা কমে যায়। মস্তিষ্ক এই পরিবর্তন শনাক্ত করতে পারে এবং শরীর অ্যান্টিডায়ুরেটিক হরমোন (ADH) নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে। এই হরমোন কিডনি ও রক্তনালির মাধ্যমে শরীরে জল ও লবণের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
বিপদটা ঠিক কোথায়?
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন রক্তে অস্মোল্যালিটি কমে গেলে অ্যান্টিডায়ুরেটিক হরমোন বা ADH-এর নিঃসরণ কমে যায়। ফলে কিডনি বেশি পরিমাণে পাতলা প্রস্রাব তৈরি করে অতিরিক্ত জল শরীর থেকে বের করে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা হল অতিরিক্ত জলও শরীরের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে অত্যধিক জল পান করলে বিরল ক্ষেত্রে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে। এই অবস্থাকে ‘ওয়াটার ইনটক্সিকেশন’ বলা হয়। এতে শরীরের কোষ ফুলে যেতে পারে এবং গুরুতর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কও আক্রান্ত হতে পারে।
কাজেই ভুলভাবে নয় জল খান মেপে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, তৃষ্ণা মেটাতে জল পান করুন ধীরে ধীরে। অর্থাৎ, ধীরে ধীরে জল পান করলে শুধু বারবার শৌচালয়ে যাওয়ার প্রবণতাই কমতে পারে না, শরীরে জলের ব্যবহারও আরও কার্যকর হতে পারে।
তথ্যঃ সায়েন্স ফোকাস ডট কম
পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]



.png)
0 মন্তব্যসমূহ