একনজরে

10/recent/ticker-posts

Why is the ocean blue? জানেন সমুদ্রের জল কেন নীল? আকাশের প্রতিফলনের জন্য নয় কিন্তু

 

খোশখবর ডেস্কঃ সমুদ্রের জল মানেই নীল – একথা কে না জানে? কিন্তু আপনি কী কখনও ভেবেছেন যে ঘরে টেবিলের ওপর রাখা একটি গ্লাসে জল স্বচ্ছ দেখালেও বিশাল সমুদ্রে জলের রং নীল হয়ে যায় কেন?


এর সবচেয়ে প্রচলিত ব্যাখ্যা হলো—সমুদ্র আকাশের নীল রং প্রতিফলিত করে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন এক্ষেত্রে আকাশের ভূমিকা খুবই সামান্যই। সমুদ্রপৃষ্ঠের দৃশ্যমান নীল রঙের মাত্র প্রায় ২ শতাংশ আকাশের প্রতিফলনের কারণে হয়।


তাহলে বিজ্ঞানের আসল ব্যখ্যাটি ঠিক কী? আসলে সূর্যের সাদা আলো একটিমাত্র রং নয়। এর মধ্যে লাল, কমলা, হলুদ, সবুজ, নীলসহ সাত রং রয়েছে। সমুদ্রের মধ্যে আলো ঢোকার পর লাল, কমলা ও হলুদের মতো রংগুলো ধীরে ধীরে জলের অণু শোষণ করে নিলেও নীল আলো তুলনামূলকভাবে বেশি দূর যেতে পারে এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।এর একটি অংশ ওপরের দিকে ফিরে এলে আমাদের চোখে সেই নীল আলোই বেশি পৌঁছায়। তাই দূর থেকে সমুদ্রকে নীল দেখায়।


তবে পৃথিবীর বিভিন্ন সমুদ্রের বা বিশাল হ্রদের জল শুধু নীল নয়, বাদামি, সবুজ বা লালচেও হতে পারে।এমনটা হয় কেন? এক্ষেত্রে বিজ্ঞানীদের ব্যখ্যা জল যথেষ্ট বিশুদ্ধ না হলে তার রং আরও বদলে যেতে পারে। জলের মধ্যে ভাসমান কণা, পলি, শ্যাওলা এবং জৈব পদার্থ আলো শোষণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার ধরন পরিবর্তন করে।


যেমন কানাডার কুইবেক অঞ্চলের বহু হ্রদ নীলের পরিবর্তে বাদামি বা কালচে দেখায়। বিশাল বনাঞ্চল থেকে আসা প্রচুর জৈব পদার্থ এবং জলের মধ্যে থাকা পলি এমনভাবে আলোর যাতায়াতে প্রভাব ফেলে যে জলের স্বাভাবিক নীল রং অনেকটাই ঢাকা পড়ে যায়।


এজন্য বিজ্ঞানীরা কাজে লাগাচ্ছেন উপগ্রহের তথ্য। কারণ সমুদ্রের ওপরের স্তরে কী ধরনের পদার্থ ও জীবের উপস্থিতি রয়েছে, তার কিছুটা ধারণা পাওয়া যায় সমুদ্রের রং বিশ্লেষণ করে। ২০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে পৃথিবীর সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রায় ৫৬ শতাংশ এলাকায় উল্লেখযোগ্যভাবে রঙের পরিবর্তন ঘটেছে।

গুগলে আরও খোশখবর(KHOSHKHOBOR) 


গবেষকরা মনে করছেন এই রং বদলের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্ক রয়েছে। জলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এর অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে। কাজেই সমুদ্রের নীল রং এবং তার বদল নিয়ে ভাবছেন বিজ্ঞানীরাও। কারণ তা শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বদল নয়, পৃথিবীর জলবায়ুর ভবিষ্যৎ বোঝার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।


[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]

[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।] 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code