খোশখবর ডেস্কঃ মহাকাশ বিজ্ঞানে প্রায় প্রতিদিনই নতুন কিছু ঘটে চলেছে বিশ্বজুড়ে। মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা ( NASA) ২০৩০-এর দশকে মানুষকে মঙ্গলে পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু মার্স বা মঙ্গল গ্রহে যাওয়া, সেখান থেকে ফেরত আসা কম সময়ের ব্যাপার নয়। হিসেব অনুযায়ী পৃথিবী থেকে মঙ্গলে যাওয়া ও পৃথিবীতে ফিরে আসতে মোট ৩ বছর সময় লাগতে পারে। সমস্যা হল এই দীর্ঘ অভিযানে মহাকাশচারীরা খাবেন কী? মহাকাশচারীদের দীর্ঘ সময় ধরে খাবার সরবরাহ করার সম্ভাব্য সমাধান দেখিয়ে পুরস্কার জিতে নিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ বছর বয়সী কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও ডিজাইনার চিনিয়েরে উকেজে। এই তথ্য দিয়েছে এনডিটিভি ডট কম।
মঙ্গল অভিযানে কেন খাবারের সমস্যা ?
মানুষ না খেয়ে বাঁচতে পারবে না। মহাকাশ অভিযানে মানুষের শরীরে পুষ্টি জোগানোর বিকল্প ব্যবস্থা করা হলেও একটি পূর্ণাঙ্গ মঙ্গলযাত্রায় তা সম্ভব হবে না। কারণ একটি পূর্ণাঙ্গ যাত্রায় পৃথিবী থেকে মঙ্গলে যাওয়া, সেখানে থাকা এবং আবার পৃথিবীতে ফিরে আসতে মোট প্রায় ৩৪ থেকে ৩৬ মাস বা বছর তিনেক সময় লাগতে পারে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের মহাকাশচারীরা মূলত পৃথিবী থেকে পাঠানো প্যাকেটজাত খাবারের ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করলে খাবারের ভিটামিন ও স্বাদ কমে যেতে পারে। মঙ্গল অভিযানের ক্ষেত্রে তাই শুধু প্যাকেটজাত খাবারের ওপর নির্ভর না করে বিকল্প খাদ্যব্যবস্থা তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।
গুগলে আরও খোশখবর( KHOSHKHOBOR)
সমস্যার সমাধানে নাসার প্রতিযোগিতা
এই বিকল্প খাদ্যব্যবস্থা তৈরি করা বা সমস্যার সমাধানে একটি পরিকল্পনা আহ্বান করে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা। নাসা চায় এমন একটি খাদ্যব্যবস্থার নকশা যা ১৫ জনের মহাকাশচারী দলকে ৫০০ মার্শিয়ান সোল (Martian Sol) অর্থাৎ প্রায় ৫১৩ পৃথিবীর দিন, খাবার সরবরাহ করতে সক্ষম হবে। প্রতিযোগীদের দৈনিক খাবারের পরিকল্পনা, খাদ্যব্যবস্থার পরিচালন কাঠামো এবং সেটি কীভাবে কাজ করবে তার বিস্তারিত উপস্থাপন করতে বলা হয়েছিল। লক্ষ্য—পৃথিবী থেকে লক্ষ লক্ষ মাইল দূরে থেকেও মহাকাশচারীরা কীভাবে তাজা, পুষ্টিকর খাবার উৎপাদন, রান্না এবং খেতে পারবেন, তার একটি কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি করা।
পুরস্কার পেল উকেজের পরিকল্পনা
মহাকাশচারীদের দীর্ঘ সময় ধরে খাবার সরবরাহ করার সম্ভাব্য সমাধান দেখিয়ে NASA-এর প্রতিযোগিতায় ৩ লক্ষ মার্কিন ডলারের শীর্ষ পুরস্কার জিতে নিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ বছর বয়সী কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও ডিজাইনার চিনিয়েরে উকেজে। প্রতিযোগিতায় ২৮টি মার্কিন স্টেট এবং ৩৩টি দেশ থেকে ১০০টিরও বেশি নকশা জমা পড়েছিল। প্রতিযোগিতায় উকেজের তৈরি এডাপ্টিভ নারিশমেন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার (Adaptive Nourishment Infrastructure) বা ANI-কে প্রধান বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
প্রতিদিন তাজা রান্না করা খাবার?
NASA জানিয়েছে, ‘ANI’ নামটি নেওয়া হয়েছে নাইজেরিয়ার পৃথিবী, ফসল ও উর্বরতার দেবী ‘আনি’-র নাম থেকে। নকশাটিতে এমন একটি খাদ্যব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে, যা প্রতিদিন তাজা খাবার রান্না করতে পারবে এবং বিদ্যুৎ, জল, জিনিসপত্র কিংবা মহাকাশযাত্রীদের কাজের সময়ের ঘাটতির মতো পরিস্থিতির মধ্যেও কার্যকর থাকবে । কাজেই মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনায় শুধু রকেট, স্পেসস্যুট বা বাসস্থানই নয়—প্রতিদিন কীভাবে তাজা ও পুষ্টিকর খাবার রান্না হবে, সেটাও অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ।
তথ্যঃ এনডিটিভি ডট কম
মঙ্গল মিশনে খাদ্য আপনার জন্য ৫টি কুইজ
১. প্রশ্ন: NASA-এর প্রতিযোগিতায় প্রধান পুরস্কার কত ছিল?
উত্তর: ৩ লাখ মার্কিন ডলার।
২. প্রশ্ন: ৩ লাখ ডলারের পুরস্কারজয়ী বিজ্ঞানী ও ডিজাইনারের নাম কী?
উত্তর: চিনিয়েরে উকেজে (Chinyere Ukeje)।
৩. প্রশ্ন: উকেজের পুরস্কারজয়ী খাদ্যব্যবস্থার নাম কী?
উত্তর: Adaptive Nourishment Infrastructure বা ANI।
৪. প্রশ্ন: NASA-এর পরিকল্পনা অনুযায়ী ANI খাদ্যব্যবস্থার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য কী?
উত্তর: মঙ্গলে মহাকাশচারীদের জন্য প্রতিদিন তাজা ও পুষ্টিকর খাবার রান্না করা।
৫. প্রশ্ন: NASA কতজনের একটি মহাকাশচারী দলের জন্য ৫০০ Martian sol বা প্রায় ৫১৩ পৃথিবীর দিনের খাদ্যব্যবস্থা তৈরির চ্যালেঞ্জ দিয়েছিল?
উত্তর: ১৫ জনের মহাকাশচারী দলের জন্য।
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]


0 মন্তব্যসমূহ