খোশখবর ডেস্কঃ আপনি কি জানেন, আমাদের জীবনের সাড়ে তিন বছর চলে যেতে পারে শুধু চোখের পাতা ফেলতেই! শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও পরিসংখ্যানের হিসেবে কিন্তু এটা সত্যি। আমরা প্রতিদিনের জীবনে এমন কিছু কাজ করি যার সময়ের হিসাব করলে সামনে আসবে এক অবাক করা তথ্য। আমরা গোটা জীবনে জীবনে হাই তোলা, খাবার গেলা, চোখের পাতা ফেলা ইত্যাদি কাজে কতটা সময় খরচ করি তা নিয়ে একটা চমৎকার হিসেব সামনে এনেছে অনলাইন বিজ্ঞান পত্রিকা বিবিসির সায়েন্স ফোকাস ডট কম।
বিজ্ঞান পত্রিকার ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে জীবনের অনেক সাধারণ কাজ আমরা প্রায় খেয়ালই করি না। কিন্তু গোটা জীবন ধরে হিসাব করলে দেখা যায় দৈনন্দিন ঢোক গেলা , চোখের পাতা ফেলা, হাই তোলা, শৌচাগারে যাওয়া ইত্যাদিতে অনেকটা সময় কেটে যায় । চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই সময়ের হিসেব ঠিক কতটা?
গুগলে আরও খোশখবর( KHOSHKHOBOR)
চোখের পাতা ফেলতেই কতটা সময়?
বিজ্ঞান পত্রিকা জানাচ্ছে একজন মানুষ জেগে থাকার সময় গড়ে প্রতি মিনিটে প্রায় ১২ বার চোখের পাতা ফেলেন। প্রতিবার সময় লাগে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সেকেন্ড। অর্থাৎ হিসেব মত দিনে ১৬ ঘণ্টা জেগে থাকলে প্রায় ১১ হাজার ৫২০ বার চোখের পাতা ফেলছেন আপনি! আর ৮০ বছরের জীবন হিসেব করলে শুধু চোখের পাতা ফেলতেই চলে যেতে পারে প্রায় সাড়ে তিন বছর!
মহাবিপর্যয় হলে পৃথিবীর কোন দেশ সবচেয়ে নিরাপদ? কেন নাম আসছে অস্ট্রেলিয়ার
আপনার শৌচাগারে কাটে কত সময়?
শৌচাগার অনেকের কাছেই দ্বিতীয় ঘর। নানা চিন্তা, নানা কল্পনা অনেকে এই জায়গাতেই সেরে নেন। অনেকে খবরের কাগজ নিয়েও ঢুকে পড়েন। সেক্ষেত্রে বিশ্ব সংসার ঘুরে আসতে একটু সময় লেগে যেতেই পারে। মোবাইলে স্ক্রল করতে করতে বসলে সময় আরও বাড়তে পারে।
তবে ব্যতিক্রম বাদ দিন। হিসেব বলছে শৌচাগারে কাটানো সময়ও কিন্তু কম নয়। সারা জীবনে সেখানে এক থেকে তিন বছর পর্যন্ত কেটে যেতে পারে। খাদ্যতালিকায় ফাইবারের পরিমাণ কম হলে তা হবে আরও বেশি।
আপনার শৌচাগারে কাটে কত সময়?
শৌচাগার অনেকের কাছেই দ্বিতীয় ঘর। নানা চিন্তা, নানা কল্পনা অনেকে এই জায়গাতেই সেরে নেন। অনেকে খবরের কাগজ নিয়েও ঢুকে পড়েন। সেক্ষেত্রে বিশ্ব সংসার ঘুরে আসতে একটু সময় লেগে যেতেই পারে। মোবাইলে স্ক্রল করতে করতে বসলে সময় আরও বাড়তে পারে।
তবে ব্যতিক্রম বাদ দিন। হিসেব বলছে শৌচাগারে কাটানো সময়ও কিন্তু কম নয়। সারা জীবনে সেখানে এক থেকে তিন বছর পর্যন্ত কেটে যেতে পারে। খাদ্যতালিকায় ফাইবারের পরিমাণ কম হলে তা হবে আরও বেশি।
সময় কেটে যায় হাই তুলে?
অনেকেই বলেন হাই তোলা যেন ছোঁয়াচে ব্যাপার। একজন হাই তুললে তাকে দেখে আর একজন হাই তোলেন। হিসেব জানাচ্ছে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ দিনে গড়ে প্রায় ৯ বার হাই তোলেন। কম বয়সে অবশ্য এই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। মজার ব্যাপার হল গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ১২ সপ্তাহ বয়সি ভ্রূণও দিনে প্রায় ২৫ বার হাই তুলতে পারে।সারা জীবনের হিসাব করলে হাই তোলার পেছনে চলে যেতে পারে অন্তত দু- সপ্তাহ।
মোজা পরা থেকে চুলকানি সময়
আজকাল অনেকেই মোজা পড়েন। ভারতেও বাড়ছে মোজা পরার চল। হিসেব মত মোজা পরতে লাগে মাত্র ২০ সেকেন্ড। কিন্তু প্রতিদিন পরলে সারা জীবনে এই ছোট্ট কাজেই চলে যেতে পারে প্রায় এক সপ্তাহ!
আর চুলকানি? রোগ-বালাই না থাকলেও একজন মানুষ দিনে গড়ে প্রায় ৯৭ বার চুলকাতে পারেন। প্রতিবার কয়েক সেকেন্ড ধরে হিসাব করলে জীবনের প্রায় দুই মাস চলে যেতে পারে শুধু চুলকাতেই!
গিলতে লাগে কত সময়?
সবচেয়ে আশ্চর্য হিসাবগুলোর একটি হয়তো লুকিয়ে আছে আমাদের গিলে ফেলার মধ্যে। আমরা দিনে অন্তত ৫০০ বার গিলে থাকি। মনে রাখুন খাবার খাওয়ার সময় নয়। মুখের লালা নিয়মিত গিলে ফেলার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এটি ঘটে। আমরা দিনে অন্তত ৫০০ বার ঢোক গিলে থাকি। কিছু গবেষণায় প্রতি মিনিটে ১.৩২ বার পর্যন্ত গিলে ফেলার হার পাওয়া গেছে। সেই হিসাব ধরলে, সারা জীবনে শুধু গিলে ফেলতেই কেটে যেতে পারে প্রায় এক বছর নয় মাস!
কাজেই জীবনের বড় একটা অংশ আমরা হয়ত নিজেদের অজান্তেই করি যেগুলোর সময় খরচ নিয়ে একবারও ভাবি না। তাই পরের বার যখন শৌচাগারে বসে থাকবেন মনে রাখবেন, এই ছোট্ট মুহূর্তগুলোও কিন্তু আপনার জীবনের ঘড়িতে যোগ হচ্ছে! জীবনের মোট হিসাবে সেগুলো যথেষ্ট বড় হয়ে দাঁড়তে পারে।
তথ্যঃ সায়েন্স ফোকাস ডট কম
আপনার জন্য কুইজ: দৈনন্দিন কাজ, কতটা সময় যায়?
১. প্রশ্ন: একজন মানুষ ৮০ বছরের জীবনে চোখের পাতা ফেলতেই প্রায় কত বছর সময় ব্যয় করতে পারেন?
উত্তর: প্রায় সাড়ে ৩ বছর।
২. প্রশ্ন: একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ দিনে গড়ে কতবার হাই তোলেন?
উত্তর: প্রায় ৯ বার।
৩. প্রশ্ন: প্রতিদিন মোজা পরার কারণে সারা জীবনে প্রায় কত সময় চলে যেতে পারে?
উত্তর: প্রায় এক সপ্তাহ।
৪. প্রশ্ন: একজন মানুষ দিনে গড়ে প্রায় কতবার চুলকাতে পারেন?
উত্তর: প্রায় ৯৭ বার।
৫. প্রশ্ন: দিনে ৫০০ বার বা তার বেশি গিলে ফেলার হিসাব ধরলে, সারা জীবনে গিলে ফেলতেই প্রায় কত সময় ব্যয় হতে পারে?
উত্তর: প্রায় এক বছর নয় মাস।
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]



0 মন্তব্যসমূহ