একনজরে

10/recent/ticker-posts

DART impact on asteroid orbit গ্রহাণুকে সজোরে আঘাত, ডার্ট মিশনের অবিশ্বাস্য সাফল্য, বদলে গেল কক্ষপথ

খোশখবর ডেস্কঃ একসময় ডাইনোসরেরা মহাকাশ থেকে ছুটে আসা গ্রহাণুর ধাক্কা সামলাতে না পেরে অসহায়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আজকের বুদ্ধিমান মানুষ কী আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমাদের সেই বিপর্যয় থেকে মুক্তি দিতে পারবে? নাসার একটা সফল পরীক্ষা এই ক্ষেত্রে এক চরম আশা জাগিয়েছে। যা এতদিন আমরা কেবল সায়েন্স ফিকশন জাতীয় সিনেমাতেই দেখে এসেছি সেটাই ডার্ট (DART) মিশনের মাধ্যমে করে দেখিয়েছে নাসা।

দেখে নিন এই ভিডিওটি


কী ছিল এই ডার্ট মিশন? এই মিশন হল মানুষের তৈরি প্রথম মহাকাশ অভিযান যার উদ্দেশ্য ছিল পৃথিবীর দিকে ছুটে আসা বিপজ্জনক গ্রহাণুর গতিপথ বদলানো সম্ভব কি না তা পরীক্ষা করা।এর পুরো নাম ডাবল অ্যাসট্রয়েড রিডিরেকশন টেস্ট।

২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর এই ডার্ট অভিযানে দিমরফোস (Dimorphos) নামক গ্রহাণুটিকে সজোরে আঘাত করে নাসার মহাকাশযান। এটি ঘুরছিল ডিডিমোস নামে একটি বড় গ্রহাণুর চারপাশে।ডার্ট মহাকাশযানটি প্রায় ২২,৫০০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে গিয়ে ডিমরফোসকে ধাক্কা দেয়।


২০২২ সালের সেই ঐতিহাসিক 'কাইনেটিক ইমপ্যাক্টর' পরীক্ষার জেরে সম্প্রতি এমন কিছু বিস্ময়কর তথ্য সামনে এসেছে, যা আমাদের গ্রহ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।


মহাজগতের হিসেবে ওই ধাক্কা ক্ষুদ্র হলেও গবেষণায় দেখা গেছে, দিমরফোসের সূর্যের চারদিকের কক্ষপথের ভ্রমণ সময় কমেছে প্রায় ০.১৫ সেকেন্ড। যদিও ৪৮০ মিলিয়ন কিলোমিটার (৩০০ মিলিয়ন মাইল) দীর্ঘ কক্ষপথে ৭২০ মিটারের এই পরিবর্তনটি শুনতে সামান্য মনে হতে পারে, কিন্তু এর গূঢ় রহস্য লুকিয়ে আছে এর সূক্ষ্মতায়। এই ধাক্কার ফলে গ্রহাণুটির গতি প্রতি সেকেন্ডে মাত্র ১০ মাইক্রোমিটার কমে গিয়েছে।

গুগলে আরও খোশখবর


বিজ্ঞানীদের ব্যখ্যা অনুযায়ী এটা অনেকটা ঠিক মাঝ সমুদ্রে থাকা একটি জাহাজের দিক যাত্রার শুরুতেই মাত্র এক ডিগ্রি পরিবর্তন করে দেওয়ার মতো—যা কয়েক দশক পর জাহাজটিকে মূল লক্ষ্য থেকে কয়েক হাজার মাইল দূরে সরিয়ে দেবে। অর্থাৎ, শেষ মুহূর্তে বিশাল কোনো গ্রহাণুকে সরানোর চেয়ে অনেক বছর আগে সামান্য একটি ধাক্কা দেওয়াই হলো বুদ্ধিমানের কাজ। 

পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে


[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]

[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদের সামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।] 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code