খোশখবর ডেস্কঃ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া উত্তাল হতেই শুরু হয়েছে আরশোলা নিয়ে চর্চা। তেলাপোকা থেকে ককরোচ – যে নামেই ডাকুন না কেন অনেকেই বলছেন চিরচেনা আরশোলা নাকি প্রকৃতির এক বিস্ময়কর রহস্য? সেই ডাইনোসরদের আমলের আগে থেকে টিকে থাকা এই বিরক্তিকর প্রানীটি নাকি পরমাণু বোমার আঘাতেও বেঁচে থাকতে পারে। সতিই কী তাই। চলুন জেনে নিই আরশোলা শুধুই রান্নাঘরের ঘুটঘুটে অন্ধকারে লুকিয়ে থাকা একটা প্রানী নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে বিজ্ঞানের কোনো রোমাঞ্চকর রহস্য?
আরশোলা নিয়ে বিবিসি তাদের এক ওয়েবসাইটে জানিয়েছে এই প্রাণীগুলো অত্যন্ত সহনশীল এবং বিস্ময়কর অভিযোজন ক্ষমতার অধিকারী। পৃথিবীতে প্রায় ৪,৫০০ প্রজাতির আরশোলা রয়েছে।
পিচ্ছিল, তেলতেলে আর বিরক্তিকর উড়ে বেরানোর জন্য প্রায় সবদেশেই আরশোলাকে অপছন্দ করে মানুষ।তবে চিনে ডাবল-ফ্রাই করা আরশোলা খাওয়ার চল আছে। এতে স্বাস্থ্যের উপকার হয় বলেই তাদের বিশ্বাস। মাদাগাস্কারে আবার ককরোচ পোষার চল আছে।
গুগলে আরও খোশখবর
তথ্য বলছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আরশোলা হল রাইনোসেরস ককরোচ - এদের পাওয়া যায় অস্ট্রেলিয়ার নর্থ কুইন্সল্যান্ড অঞ্চলে। যা প্রায় ৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা এবং ওজন হতে পারে ৩৩ গ্রাম পর্যন্ত।
পেস্ট ওয়ার্ল্ড তাদের সাইটে লিখেছে আরশোলা প্রায় আধ ঘণ্টা জলের নিচেও বেঁচে থাকতে পারে এবং ঘণ্টায় প্রায় তিন মাইল বেগে দৌড়াতে পারে – যা খুব সহজেই পুরো বাড়িতে জীবাণু ও ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে দিতে সক্ষম।
অবাক ব্যাপার হল মাথা কেটে দিলেও আরশোলা এক সপ্তাহ বাঁচতে পারে কারণ তারা শরীরের বিভিন্ন অংশের ছোট ছোট ছিদ্র দিয়ে শ্বাস নেয়। তবে মুখ না থাকায় জল না খেতে পেরে শেষ পর্যন্ত তৃষ্ণায় মারা যায়। শীতল রক্তের প্রাণী হওয়ায় আরশোলা দীর্ঘ সময় খাবার ছাড়া টিকে থাকতে পারে। তবে জল ছাড়া সাধারণত এক সপ্তাহের বেশি বাঁচতে পারে না। তাই এদের বাথরুম, বেসমেন্ট বা আর্দ্র জায়গায় বেশি দেখা যায়।
আরশোলার এদের টিকে থাকার ক্ষমতা, অভিযোজন দক্ষতা বিজ্ঞানীদের কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছে। বলা হয় শক্তিশালী ডাইনোসর বিদায় নিলেও ককরোচ প্রজাতি নাকি ৩২০ মিলিয়ন বছর ধরে পৃথিবীতে টিকে আছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন আরশোলা কোনও অমর প্রাণী নয়, তবে শরীরের কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে তারা টিকে রয়েছে কোটি কোটি বছর ধরে। পাশাপাশি জাপানের হিরোসিমায় পরমাণু বোমা পড়ার পর গ্রাউন্ড জিরো থেকে কিছু দূরে ধংসস্তুপের মধ্যে রেডিয়েশন আটকে আরশোলা জীবিত থাকায় তারা পারমাণবিক যুদ্ধের পরেও বেঁচে থাকবে এমন একটা ধারণা তৈরি হয়েছে। তবে এটি সম্পূর্ণ সত্য নয়। ককরোচ মানুষের তুলনায় অনেক বেশি বিকিরণ সহ্য করতে পারলেও বিজ্ঞানীদের দাবি পারমাণবিক বিস্ফোরণে তাদের বেঁচে থাকার কোনও উপায় নেই।
পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদের সামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]



0 মন্তব্যসমূহ