খোশখবর ডেস্কঃ মায়েদের সম্মান জানাতে, মাতৃত্বের বন্ধনকে উদযাপন করতে এবং সমাজে মায়েদের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে গোটা বিশ্ব জুড়ে পালিত হয় মাদার্স ডে বা মাতৃ দিবস। অনেকে একে মা দিবস বলেও ডাকে। বিভিন্ন দেশে এটি আলাদা আলাদা দিনে পালিত হলেও, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মার্চ বা মে মাসে মাদার্স ডে উদযাপন করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বহু দেশে মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার এই দিবস পালিত হয়। ভারতে ২০২৬ সালে মাদার্স ডে বা মাতৃ দিবস পালিত হচ্ছে ১০ মে, রবিবার।
কীভাবে এল মাদার্স ডে?
সেই প্রাচীনকাল থেকেই ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে বিশ্বজুড়ে বহু পরিবারে দায়িত্ব সামলানো ও সংসারকে সচল রাখার কঠিন কাজটি করে এসেছেন মায়েরাই। সন্তান থেকে শুরু করে পরিবারের জন্য অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেন মায়েরা। অথচ তাঁদের এই অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি অনেক সময়ই দেওয়া হয় না।
প্রাচীন গ্রিসে সকল মায়েদের সম্মান জানিয়ে বসন্ত উৎসব পালিত হত। ১৬শ শতাব্দীতে যুক্তরাজ্যে ‘মাদারিং সানডে’-র সূচনা হয়। লেন্টের চতুর্থ রবিবারে মানুষ তাদের ‘মাদার চার্চ’ -এ যেত। প্রথমদিকে এটি একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে থাকলেও পরে এটি ধীরে ধীরে মায়েদের সম্মান জানানোর বিশেষ দিনে পরিণত হয়।
১৮৬৮ সালে ‘মাদার্স ফ্রেন্ডশিপ ডে’ চালু হয়। আমেরিকার গৃহযুদ্ধের পর শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সমাজকর্মী আনা জার্ভিস এমন একটি দিনের আয়োজন করেন, যেখানে প্রাক্তন সেনাদের মায়েরা একত্রিত হতেন। ১৯১৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম আনুষ্ঠানিক মাদার্স ডে ঘোষণা করা হয়। সমাজকর্মী আনা জার্ভিসের উদ্যোগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন প্রতি বছরের মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মাদার্স ডে’ হিসেবে ঘোষণা করেন।
মায়েদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন
মাতৃ দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য হল পরিবার ও সমাজে মায়েদের অপরিসীম ভূমিকা এবং ত্যাগকে স্বীকৃতি দেওয়া। মা, দিদা-ঠাকুমা এবং মাতৃসম ব্যক্তিত্বদের সম্মান ও ভালোবাসা জানানো। প্রতি বছর এই দিন হল সেই বিশেষ সুযোগ, যখন মাকে মনে করিয়ে দেওয়া যায় তিনি কতটা ভালোবাসার, সম্মানের এবং কৃতজ্ঞতার যোগ্য। শুধু নিজের মা-ই নয়—দিদা, পিসি, মাসি, কাকিমা কিংবা যে কোনও নারী যিনি জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছেন, তাঁকেও এই দিনে সম্মান ও শুভেচ্ছা জানানো যেতে পারে। পাশে থাকার পাশাপাশি একটি সাধারণ ফোন কল, মেসেজ, শুভেচ্ছা কার্ড বা চিঠির মাধ্যমেও ভালোবাসা প্রকাশ করা যায় মায়ের প্রতি।
তথ্যঃ গুগল ও অনান্য সাইট
পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদের সামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]

0 মন্তব্যসমূহ