খোশখবর ডেস্কঃ হালকা অন্ধকার প্রেক্ষাগৃহ আর আশ্চর্য সব শিল্প সৃষ্টির সাক্ষী হতে উপস্থিত হওয়া দর্শকদের জন্য তখন অলৌকিক এক নিস্তব্ধতা। কারণ একটু পরেই সেই স্তব্ধতা ভেঙেই জেগে উঠবে সেতারের সুর, সারেঙ্গির ধ্বনি, তবলার তাল আর শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের টানটান মুহূর্ত। এর সঙ্গেই ঘুঙুরের সম্মিলিত ঝঙ্কারকে সঙ্গী করে সম্মোহনী শক্তি নিয়ে হাজির হবেন শ্রীরামপুর নৃত্যকাঞ্চনের শিল্পীরা। সেই টানটান মুহূর্তটিই বলে দেবে ধ্রুপদী নৃত্যের সম্মোহনী শক্তি কতটা গভীর।
আগামী ২২ মে হুগলি জেলার উত্তরপাড়া গণভবনে নৃত্যের সেই জাদুকরী মূর্চ্ছনা ও শৈল্পিক আভিজাত্য নিয়ে আয়োজিত হতে চলেছে এক বর্ণাঢ্য ধ্রুপদী নৃত্য ও সঙ্গীত সম্মেলন। নৃত্যকাঞ্চনের শিল্পী ও শিক্ষার্থীদের নিপুণ আঙ্গিকে সেদিন প্রাণ পাবে ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যের অন্যতম প্রাচীন ও বিশ্ববন্দিত ধারা— কথক। এই আয়োজনকে উপলক্ষ করে চলুন ডুব দেওয়া যাক কথকের গভীরে, চিনে নেওয়া যাক এর নানা নান্দনিক বৈচিত্র্য।
ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যের অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় ধারা হল কথক নৃত্য। ‘কথক’ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ‘কথা’ থেকে, যার অর্থ গল্প। অর্থাৎ, যারা নাচ ও অভিনয়ের মাধ্যমে গল্প বলতেন, তাঁদের বলা হতো ‘কথক’। মূলত উত্তর ভারতের মন্দির ও রাজদরবারে এই নৃত্যের বিকাশ ঘটে। কথক নৃত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য দ্রুত ও জটিল পদচারণা, ঘুঙুরের তালময় ব্যবহার, দ্রুত চক্কর বা ঘূর্ণন, মুখাভিনয় ও অভিব্যক্তির মাধ্যমে গল্প বলা। বিশিষ্ট নৃত্য শিল্পী প্রতিভা দাসের পরিচালনায় ধ্রুপদী নৃত্যের এই সব বৈশিষ্ট্যকেই সাবলীল ছন্দে ফুটিয়ে তুলবেন নৃত্যকাঞ্চনের শিল্পীরা।
কথক নৃত্যের উৎপত্তি কথক নৃত্যের সূচনা হয় প্রাচীন ভারতের মন্দির সংস্কৃতির সঙ্গে। সেই সময় ‘কথক’ নামে পরিচিত শিল্পীরা নৃত্য, সঙ্গীত ও অভিনয়ের মাধ্যমে শ্রীকৃষ্ণ ও রাধা-র লীলাকথা মানুষের সামনে তুলে ধরতেন। প্রথম দিকে কথক ছিল ভক্তিমূলক নৃত্য। পরে মধ্যযুগে মুসলিম শাসন ও মুঘল দরবারের প্রভাব পড়লে কথকের মধ্যে সৌন্দর্য, লাস্য, তীক্ষ্ণ পদক্ষেপ এবং দরবারি আভিজাত্যের সংমিশ্রণ ঘটে। নৃত্যের বিভিন্ন আঙ্গিক তুলে ধরে দর্শকদের এই সবকিছুর সঙ্গেই পরিচয় ঘটাবেন শিল্পীরা।
নৃত্যের সঙ্গে তবলা, পাখাওয়াজ, সেতার ও হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ব্যবহার কথকের প্রধান ধারা। কথক শুধুমাত্র শাস্ত্রীয় নৃত্য নয়, বরং ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও গল্প বলার এক অনন্য শিল্পরূপ হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত। নৃত্যকাঞ্চনের নৃত্যশিল্পীদের সঙ্গেও সেতার, তবলা ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে সঙ্গত করবেন বাংলার বিশিষ্ট শিল্পীরা। নিজস্ব শৈলী ও বৈশিষ্ট্য সব মিলিয়ে অন্যমাত্রা পাবে নৃত্যকাঞ্চনের এই ধ্রুপদী নৃত্য ও সঙ্গীত সম্মেলনের সন্ধ্যা।
নৃত্যশিল্পীদের একের পর এক তুলে আনা সেইসব টানটান মুহূর্তই বলে দেবে ধ্রুপদী নৃত্যের সম্মোহনী শক্তি কতটা গভীর। শিল্প পরিবেশনার সেই মঞ্চেই তবলার তালে দরবারি জৌলুসের অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটাবে ‘আনাধা’র শিল্পীরা। অনন্য উচ্চতায় পৌঁছবে উচ্চাঙ্গের কারিগরি কৌশল, শৈল্পিক চাতুর্য ও বিশুদ্ধতা। তাল ও নৃত্যের এমন সমারোহ যেকোনো দর্শকের মনে স্থায়ী ছাপ রেখে যাবে বলে আশা আয়োজকদের।
কথক শুধুমাত্র একটি শাস্ত্রীয় নৃত্য নয়, বরং এটি ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক এমন গৌরবময় রূপ যা আজ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। ফলে আগামী ২২ মে,২০২৬ উত্তরপাড়া গণভবনে নৃত্যকাঞ্চনের এই কনফারেন্স কেবল একটি প্রদর্শন নয়, বরং হয়ে উঠবে শিল্পের শিকড়কে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এক সাহসী প্রচেষ্টা।
আগামী ২২ মে হুগলি জেলার উত্তরপাড়া গণভবনে নৃত্যের সেই জাদুকরী মূর্চ্ছনা ও শৈল্পিক আভিজাত্য নিয়ে আয়োজিত হতে চলেছে এক বর্ণাঢ্য ধ্রুপদী নৃত্য ও সঙ্গীত সম্মেলন। নৃত্যকাঞ্চনের শিল্পী ও শিক্ষার্থীদের নিপুণ আঙ্গিকে সেদিন প্রাণ পাবে ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যের অন্যতম প্রাচীন ও বিশ্ববন্দিত ধারা— কথক। এই আয়োজনকে উপলক্ষ করে চলুন ডুব দেওয়া যাক কথকের গভীরে, চিনে নেওয়া যাক এর নানা নান্দনিক বৈচিত্র্য।
ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যের অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় ধারা হল কথক নৃত্য। ‘কথক’ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ‘কথা’ থেকে, যার অর্থ গল্প। অর্থাৎ, যারা নাচ ও অভিনয়ের মাধ্যমে গল্প বলতেন, তাঁদের বলা হতো ‘কথক’। মূলত উত্তর ভারতের মন্দির ও রাজদরবারে এই নৃত্যের বিকাশ ঘটে। কথক নৃত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য দ্রুত ও জটিল পদচারণা, ঘুঙুরের তালময় ব্যবহার, দ্রুত চক্কর বা ঘূর্ণন, মুখাভিনয় ও অভিব্যক্তির মাধ্যমে গল্প বলা। বিশিষ্ট নৃত্য শিল্পী প্রতিভা দাসের পরিচালনায় ধ্রুপদী নৃত্যের এই সব বৈশিষ্ট্যকেই সাবলীল ছন্দে ফুটিয়ে তুলবেন নৃত্যকাঞ্চনের শিল্পীরা।
এই নৃত্য মূলত কয়েকটি প্রধান ‘ঘরানা’ বা ধারায় বিভক্ত। যেমন লখনউ ঘরানা, জয়পুর ঘরানা, বেনারস ঘরানা ও রায়গড় ঘরানা। নৃত্যকাঞ্চনের শিল্পীরা জয়পুর ও বেনারস ঘরানার নৃত্যের মাধ্যমেই এদিনের মঞ্চে পৌঁছে দেবেন কথকের নানা আঙ্গিক। যেমন বেনারস ঘরানা বা বারাণসীতে গড়ে ওঠা এই ধারায় নৃত্যের আধ্যাত্মিকতা ও শুদ্ধতার ওপর গুরুত্ব বেশি থাকে। জয়পুর ঘরানা বা রাজস্থানের জয়পুরে বিকশিত এই ধারায় তীক্ষ্ণ পদচারণা, শক্তিশালী তাল ও জটিল লয়কারীর ওপর জোর দেওয়া হয়।
গুগলে আরও খোশখবর
নৃত্যের সঙ্গে তবলা, পাখাওয়াজ, সেতার ও হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ব্যবহার কথকের প্রধান ধারা। কথক শুধুমাত্র শাস্ত্রীয় নৃত্য নয়, বরং ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও গল্প বলার এক অনন্য শিল্পরূপ হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত। নৃত্যকাঞ্চনের নৃত্যশিল্পীদের সঙ্গেও সেতার, তবলা ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে সঙ্গত করবেন বাংলার বিশিষ্ট শিল্পীরা। নিজস্ব শৈলী ও বৈশিষ্ট্য সব মিলিয়ে অন্যমাত্রা পাবে নৃত্যকাঞ্চনের এই ধ্রুপদী নৃত্য ও সঙ্গীত সম্মেলনের সন্ধ্যা।
নৃত্যশিল্পীদের একের পর এক তুলে আনা সেইসব টানটান মুহূর্তই বলে দেবে ধ্রুপদী নৃত্যের সম্মোহনী শক্তি কতটা গভীর। শিল্প পরিবেশনার সেই মঞ্চেই তবলার তালে দরবারি জৌলুসের অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটাবে ‘আনাধা’র শিল্পীরা। অনন্য উচ্চতায় পৌঁছবে উচ্চাঙ্গের কারিগরি কৌশল, শৈল্পিক চাতুর্য ও বিশুদ্ধতা। তাল ও নৃত্যের এমন সমারোহ যেকোনো দর্শকের মনে স্থায়ী ছাপ রেখে যাবে বলে আশা আয়োজকদের।
কথক শুধুমাত্র একটি শাস্ত্রীয় নৃত্য নয়, বরং এটি ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক এমন গৌরবময় রূপ যা আজ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। ফলে আগামী ২২ মে,২০২৬ উত্তরপাড়া গণভবনে নৃত্যকাঞ্চনের এই কনফারেন্স কেবল একটি প্রদর্শন নয়, বরং হয়ে উঠবে শিল্পের শিকড়কে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এক সাহসী প্রচেষ্টা।
পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদের সামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]





0 মন্তব্যসমূহ