একনজরে

10/recent/ticker-posts

Strategies to break bad habits খারাপ অভ্যাস ছাড়তেই পারছেন না? মেনে দেখুন বিজ্ঞানসম্মত এই হাফ ডজন উপায়


খোশখবর ডেস্কঃ নিজের শরীর বা পরিবেশের জন্য খারাপ জেনেও আমরা অনেকেই সেই অভ্যাস থেকে বেড়িয়ে আসতে পারি না। আসলে এ হল উল্টোপথে হাঁটার মত অবস্থা। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভ্যাস মস্তিষ্কের বেসাল গ্যাংলিয়া অংশে সংরক্ষিত থাকে, যা প্রায় 'অটোপাইলট' মোডে কাজ করে। অর্থাৎ খারাপ অভ্যাস আসলে এমন একটি আচরণ, যা নির্দিষ্ট কোনো সংকেত পেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটে। আপনি জানেন অভ্যাসটি আপনার জন্য ভালো নয়, তবুও মস্তিষ্ক বারবার সেই একই কাজ করতে চায়।


চিকিৎসাক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা বলছেন শুধু ইচ্ছাশক্তি দিয়ে খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করা কঠিন। তাহলে সেই অভ্যেস ছাড়াতে আপনি কী করতে পারেন? এজন্য চাই সঠিক কৌশল অনুসরণ। মস্তিষ্ককে নতুনভাবে প্রশিক্ষিত করতে আপনার জন্য রইল ৬টি কৌশল।


১. ট্রিগার বা 'সংকেত' খুঁজে বের করুন

প্রতিটি খারাপ অভ্যাস একটি নির্দিষ্ট সংকেত বা 'ট্রিগার'-এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শুরু হয়।আমাদের মস্তিষ্কের এই লুপটি ভাঙার প্রথম ধাপ হলো সচেতনতা। আপনি যখন জানবেন ঠিক কী কারণে আপনার মস্তিষ্ক একটি নির্দিষ্ট কাজ করতে চাইছে, তখন সেই স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ার ওপর আপনার নিয়ন্ত্রণ ফিরে আসে। তাই বুঝে নিন ঠিক কোন সময়ে আপনার এই অভ্যাসটি করার তাড়না জাগছে?



২. বাদ দেওয়া নয়, বিকল্প খুঁজুন

বিজ্ঞানীরা বলছেন আমাদের মস্তিষ্ক থেকে কোনও পুরোনো অভ্যাসকে একেবারে মুছে ফেলা প্রায় অসম্ভব। কারণ, প্রতিটি অভ্যাসের পেছনে প্রয়োজন লুকিয়ে থাকে। তাই বদলে আমাদের উচিত এমন একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প খুঁজে বের করা যা আগের সেই একই চাহিদা পূরণ করবে।অর্থাৎ বদলে একই চাহিদা পূরণ করে এমন স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলুন।


৩. ছোট সাফল্যের শক্তি আপনাকে উদ্দীপ্ত করবে

আমরা যখন একসঙ্গে অনেক বড় পরিবর্তনের চেষ্টা করি, আমাদের মস্তিষ্ক সেই ধকল নিতে পারে না। ফলে আমরা দ্রুত হাল ছেড়ে দিই। এই চক্র ভাঙার উপায় হলো অতি ক্ষুদ্র লক্ষ্য নির্ধারণ করা। যেমন সারাজীবনের জন্য মিষ্টি ছেড়ে দেওয়ার শপথ না করে শুরুতে সপ্তাহে মাত্র একদিন মিষ্টির বদলে ফল বা দই খাওয়ার অভ্যাস করুন। এই ছোট সাফল্য এলে তা আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদে বড় পরিবর্তনে সহায়তা করে।



৪. পুরনো অভ্যাসের সঙ্গে নতুন জুড়ে নিন

নতুন কোনো অভ্যাস মনে রাখা আমাদের মস্তিষ্কের জন্য কষ্টকর হতে পারে। এক্ষেত্রে আপনার পুরনো কোনো অভ্যাসের ঠিক পরেই নতুন অভ্যাসটি জুড়ে নিন। যেমন প্রতিদিন সকালে দাঁত ব্রাশ করা আপনার একটি নিয়মিত অভ্যাস। তার পরেই নতুন অভ্যাসটি পালন করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মনে করিয়ে দেবে।


৬. পরিবেশের বদল ঘটান

আমাদের মস্তিষ্ক সবসময় সহজ পথ খোঁজে। তাই আপনার পরিবেশকে এমনভাবে সাজান যেন খারাপ অভ্যাসটি করা আপনার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। যেমন রাতে মোবাইল ব্যবহারের অভ্যাস থাকলে ফোনটি অন্য ঘরে চার্জে রাখুন। আবার নিয়ে আসার অসুবিধে আপনার মোবাইল দেখা কমাবে। আবার বাড়িতে জাঙ্ক ফুড রাখা বন্ধ করুন। দেখবেন সেটি খাওয়ার সম্ভাবনাও কমে যাবে।


তবে মনে রাখবেন আমাদের খারাপ অভ্যাসগুলো একদিনে তৈরি হয়নি, তাই এগুলো রাতারাতি চলেও যাবে না। তাই ধৈর্য ধরে ছোট ছোট পদক্ষেপ দিয়ে শুরু করে দেখবেন খারাপ অভ্যাস দূর হয়ে গেছে।

তথ্যঃ everydayhealth

পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে


[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]

[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।] 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code