খোশখবর ডেস্কঃ এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল ভারতের মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে। সফলভাবে কক্ষপথে পেলোড স্থাপন করল গেল ভারতের প্রথম বেসরকারি রকেট। হায়দরাবাদ-ভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা স্কাইরুট অ্যারোস্পেস সফলভাবে উৎক্ষেপণ করল তাদের ‘বিক্রম-১’ রকেটকে। অর্থাৎ এলন মাস্কের কোম্পানি স্পেস এক্স, অ্যামাজনের ব্লু অরিজিন, বোয়িং, ভার্জিন গ্যালাকটিকের মত ভারতেও শুরু হয়ে গেল বেসরকারি মহাকাশ অভিযানের দিন। বলাই যায় স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক মহাকাশ উৎক্ষেপণ পরিষেবার বাজারে ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্প আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করল।
কীভাবে হল এই ঐতিহাসিক উৎক্ষেপণ
স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের এই মিশনের নাম 'আগমন’ (Aagaman)। এই উৎক্ষেপণ প্রথমে শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় হওয়ার কথা থাকলেও কয়েক মিনিট আগে মিশন কন্ট্রোল নিরাপত্তাজনিত কারণে বিরতি ঘোষণা করে। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির রিপোর্ট অনুযায়ী পরে দুপুর ১২টা ৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে রকেটটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়। দুপুর ১২টা ২১ মিনিটে রকেট নির্ধারিত কক্ষপথে পেলোড স্থাপন করার পর পৌছানোর কথা উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হয়।
অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি বিক্রম-১
বিক্রম-১ হল একটি বহু-ধাপবিশিষ্ট (Multi-stage) অরবিটাল লঞ্চ ভেহিকল। সম্পূর্ণ কার্বন কম্পোজিট কাঠামো দিয়ে তৈরি এই রকেটের উচ্চতা প্রায় সাততলার সমান। এই রকেটে ব্যবহার করা হয়েছে সংস্থার নিজস্ব উন্নত প্রপালশন প্রযুক্তি, ৩ডি-প্রিন্টেড ইঞ্জিন এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কঠিন জ্বালানির বুস্টার। রকেটটি পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে (Low Earth Orbit) সর্বোচ্চ ৩৫০ কেজি ওজনের ক্ষুদ্র উপগ্রহ বহন করতে সক্ষম। প্রথম পরীক্ষামূলক উড়ানে এটি ৪৫০ কিলোমিটার উচ্চতার কক্ষপথে সফলভাবে পৌঁছায়। এই সাফল্যের মাধ্যমে স্কাইরুট অ্যারোস্পেস বিশ্বের সেই অল্প কয়েকটি বেসরকারি সংস্থার তালিকায় নাম লিখিয়ে ফেলল যারা নিজস্ব প্রযুক্তিতে কক্ষপথে পৌঁছাতে সক্ষম রকেট তৈরি ও উৎক্ষেপণ করেছে।
মহাকাশে কী কী নিয়ে গেছে বিক্রম-১
এই মিশনে স্কাইরুট তাদের নিজস্ব স্কোপ উপগ্রহ ছাড়াও জার্মানির DCUBED, ভারতের গ্রহ স্পেস-এর SOLARAS S3 এবং কস্মোসার্ভ-এর এমব্রেস নামের একটি রোবোটিক আর্ম মহাকাশে পাঠিয়েছে। এছাড়াও মহাকাশে পাঠানো হয়েছে প্রতীকী হিসেবে কসমস ডায়মন্ডস-এর শিল্পকর্ম ‘কসমিক ব্লুম’ এবং ১৮ ক্যারেট সোনার তৈরি একটি ক্ষুদ্র রকেট যাতে ভারতের তিন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী—স্যার সি. ভি. রমন, ড. বিক্রম সারাভাই ও ড. এ. পি. জে. আব্দুল কালামের ক্ষুদ্র ভাস্কর্য খোদাই করা রয়েছে।
অভিনন্দন বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
মিশন সফল হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফোন করে স্কাইরুটের প্রধান পবন কুমার চন্দনা এবং তাঁর দলকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, "তোমরা ভারতকে গর্বিত করেছ। মহাকাশে ভারতের স্বপ্নের বীজ রোপণ করেছ এবং দেশের যুবসমাজের স্বপ্নকে নতুন ডানা দিয়েছ।" স্কাইরুটের সিইও জানান, তাঁদের দলের গড় বয়স মাত্র ২৮ বছর। এই সাফল্য ভারতের তরুণ বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়ারদের দক্ষতারই প্রমাণ বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
Spoke to the team of Skyroot Aerospace and congratulated them on the successful launch of Vikram-1.
— Narendra Modi (@narendramodi) July 18, 2026
This is a defining moment in India’s space journey. The growing participation of our private sector is opening new frontiers and accelerating innovation.
This achievement will… pic.twitter.com/epWjOY8yKa
কেন রকেটের নাম ‘বিক্রম’?
মিশন 'আগমন’-এর এই সাফল্য শুধু স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের নয়, বরং ভারতের বেসরকারি মহাকাশ প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের এক নতুন যুগের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির জনক ড. বিক্রম সারাভাই-এর নামানুসারে রকেটটির নামকরণ করা হয়েছে। এর আগে ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে স্কাইরুট সফলভাবে বিক্রম-এস নামে সাব-অরবিটাল রকেট উৎক্ষেপণ করেছিল। এবার কক্ষপথে পৌঁছে ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্পকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল বিক্রম-১।
পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]

0 মন্তব্যসমূহ