খোশখবর ডেস্কঃ আমকে বলা হয় ‘ফলের রাজা’। শুধু স্বাদের জন্যই নয়, এর সাংস্কৃতিক, কৃষি ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের কারণেও আম এই বিশেষ মর্যাদা পেয়েছে। আমের উৎপত্তি ভারতেই। প্রায় ৫,০০০ বছর আগে ভারতে প্রথম আমের চাষ শুরু হয়েছিল। খ্রিস্টীয় ৩০০ থেকে ৪০০ সালের মধ্যে মানুষের হাত ধরে আমের বীজ এশিয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্য, পূর্ব আফ্রিকা এবং পরে দক্ষিণ আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়ে।
উদ্ভিদবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে আম একটি "ড্রুপ" (Drupe) বা পাথরযুক্ত ফল। এর তিনটি প্রধান অংশ রয়েছে—বাইরের খোসা, মাঝের রসালো খাবার অংশ এবং ভেতরের শক্ত আঁটি, যার মধ্যে একটি মাত্র বীজ থাকে। আমের সঙ্গে কাজুবাদাম (Cashew) এবং পেস্তা (Pistachio)-র ঘনিষ্ঠ উদ্ভিদগত সম্পর্ক রয়েছে। এরা একই উদ্ভিদ পরিবারের সদস্য।
আম এল কোথা থেকে?
ইতিহাস বলছে, প্রায় ৪,০০০ বছর আগে( মতান্তরে ৫০০০ বছর) দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম আমের চাষ শুরু হয়। আমের বৈজ্ঞানিক নাম Mangifera indica, অর্থাৎ আমে রয়েছে ভারতের গভীর যোগ। গবেষকদের মতে, ভারত ও বর্তমান মিয়ানমার অঞ্চলে আমের উৎপত্তি। পরে যদিও এই ফল আফ্রিকা, ব্রাজিল, ক্যারিবীয় অঞ্চলসহ বিশ্বের বিভিন্ন উষ্ণ ও উপ-উষ্ণমণ্ডলীয় দেশে ছড়িয়ে যায়। আম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফল এবং আন্তর্জাতিক কৃষি ও খাদ্যশিল্পের একটি বড় অংশ। ১৬০০-এর দশকে স্প্যানিশ অভিযাত্রীরা আমকে দক্ষিণ আমেরিকা ও মেক্সিকোতে নিয়ে যান। পরে ১৮৩৩ সালে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় আম চাষের চেষ্টা করা হয়।
তিন দেশের জাতীয় ফল আম
ভারতে আম ব্যাপকভাবে চাষ ও খাওয়া হয়। এই দেশে এই রসালো ফলের গুরুত্ব অনেক বেশি।ভারতে এক ঝুড়ি আম উপহার দেওয়া বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। ভারতীয় সংস্কৃতিতে আম ভালোবাসা ও শুভর বিষয়ের প্রতীক। আম শুধু ভারতের নয়, ভারত, পাকিস্তান এবং ফিলিপাইনের জাতীয় ফল। এছাড়া বাংলাদেশের জাতীয় বৃক্ষ হলো আমগাছ। বৌদ্ধ ধর্মে আমগাছকে পবিত্র বলে মানা হয়। বৌদ্ধ ঐতিহ্য অনুযায়ী, গৌতম বুদ্ধ বহুবার আমবাগানে ধ্যান ও বিশ্রাম নিয়েছিলেন। এই কারণেই বৌদ্ধ ধর্মে আমগাছকে পবিত্র বৃক্ষ হিসেবে সম্মান করা হয়।
আমের পুষ্টিগুণ, জানলে অবাক হবেন
আম শুধু সুস্বাদুই নয়, এটি অত্যন্ত পুষ্টিকরও। এক কাপ আমে প্রায় ৬০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে, যা একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক চাহিদার চেয়েও বেশি। সুষম খাদ্যতালিকায় আম একটি স্বাস্থ্যকর সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হয়। আমে রয়েছে— ভিটামিন সি, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ভিটামিন এ চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। আমে থাকা আঁশ বা ফাইবার হজমশক্তি উন্নত করে। এই ফলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যালের প্রভাব থেকে রক্ষা করে। পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম, যা হৃদ্স্বাস্থ্য ও পেশির কার্যকারিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সুষম খাদ্যতালিকায় আম একটি স্বাস্থ্যকর সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হয়।শুধু আমের মূল শাঁস নয়, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে লোকজ চিকিৎসায় আমগাছের ছাল, পাতা, খোসা, শাঁস এবং আঁটি বিভিন্ন রোগের ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
২২ জুলাই ‘জাতীয় আম দিবস’
বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ও সুস্বাদু ফল আমকে সম্মান জানাতে প্রতি বছর ২২ জুলাই পালিত হয় ‘জাতীয় আম দিবস’। এটি এমন দিন যেখানে ‘ফলের রাজা’ আমের গুরুত্ব উদযাপন করা হয়। আম শুধু স্বাদের জন্যই নয়, এর সাংস্কৃতিক, কৃষি ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের কারণেও বিশেষ মর্যাদা পেয়েছে।
Forest bathing আপনাকে পাল্টে দেবে ‘ফরেস্ট বাথিং’, একবার করেই দেখুন না!
আসলে আম চাষ বিশ্বের উষ্ণমণ্ডলীয় দেশগুলোর লক্ষ লক্ষ কৃষকের জীবিকার উৎস। তা কৃষিপণ্য রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পে আমের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ধর্মীয় অনুষ্ঠান, উৎসব ও ঐতিহ্যবাহী সাজসজ্জায় আমের পাতা শুভ প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। জাতীয় আম দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো আম চাষের গুরুত্ব তুলে ধরা, এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা
আমের রয়েছে হাজার জাত!
ঠিক কত রকমের আম রয়েছে পৃথিবীতে? আসলে আপেল বা বরইয়ের মতোই আমেরও রয়েছে শত শত, এমনকি হাজারেরও বেশি জাত। প্রতিটি জাতের স্বাদ, রং, গন্ধ ও গঠন আলাদা। কোনও আম খেতে অত্যন্ত মিষ্টি ও ক্রিমের মতো নরম। কোনোটি আবার হালকা টক বা সাইট্রাস স্বাদের। আবার কিছু আমে আনারসের মতো সুবাস পাওয়া যায়।
আমের জনপ্রিয় কয়েকটি জাতের মধ্যে আছে আলফানসো যা অসাধারণ মিষ্টি স্বাদ ও সুগন্ধের জন্য বিখ্যাত। ল্যাংড়া যা অনন্য স্বাদের জন্য পরিচিত। হিমসাগর- যাকে আমের রাজা বলে ডাকা হয়। আবার কেসরকে অনেকেই ‘আমের রানি’ বলে থাকেন। বিশ্বের অন্যতম দামি ও সুস্বাদু আমের জাত হলো জাপানের মিয়াজাকি।
আসলে আম চাষ বিশ্বের উষ্ণমণ্ডলীয় দেশগুলোর লক্ষ লক্ষ কৃষকের জীবিকার উৎস। তা কৃষিপণ্য রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পে আমের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ধর্মীয় অনুষ্ঠান, উৎসব ও ঐতিহ্যবাহী সাজসজ্জায় আমের পাতা শুভ প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। জাতীয় আম দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো আম চাষের গুরুত্ব তুলে ধরা, এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা
আমের রয়েছে হাজার জাত!
ঠিক কত রকমের আম রয়েছে পৃথিবীতে? আসলে আপেল বা বরইয়ের মতোই আমেরও রয়েছে শত শত, এমনকি হাজারেরও বেশি জাত। প্রতিটি জাতের স্বাদ, রং, গন্ধ ও গঠন আলাদা। কোনও আম খেতে অত্যন্ত মিষ্টি ও ক্রিমের মতো নরম। কোনোটি আবার হালকা টক বা সাইট্রাস স্বাদের। আবার কিছু আমে আনারসের মতো সুবাস পাওয়া যায়।
আমের জনপ্রিয় কয়েকটি জাতের মধ্যে আছে আলফানসো যা অসাধারণ মিষ্টি স্বাদ ও সুগন্ধের জন্য বিখ্যাত। ল্যাংড়া যা অনন্য স্বাদের জন্য পরিচিত। হিমসাগর- যাকে আমের রাজা বলে ডাকা হয়। আবার কেসরকে অনেকেই ‘আমের রানি’ বলে থাকেন। বিশ্বের অন্যতম দামি ও সুস্বাদু আমের জাত হলো জাপানের মিয়াজাকি।
পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]

0 মন্তব্যসমূহ