খোশখবর ডেস্কঃ কে চায় কষ্টের স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকতে? কোনো ভয়াবহ দুর্ঘটনা, প্রিয়জনের আকস্মিক মৃত্যু কিংবা নির্যাতনের দুঃসহ কোনো অভিজ্ঞতা মানুষের মনে এমন এক গভীর ক্ষত বা 'ট্রমা' তৈরি করে, যা বছরের পর বছর বয়ে বেড়াতে হয়। কেমন হবে যদি আপনার মাথা থেকে এইসব খারাপ স্মৃতি যদি মুছে ফেলা যায়? আর এই নিয়েই অনেকটা কাজ এগিয়ে ফেলেছেন একদল বিজ্ঞানী।
বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুবিজ্ঞানী স্টিভ রামিরেজ স্মৃতির এই রহস্যময় জগত নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে কাজ করছেন। নিজের কাছের বন্ধু ও গবেষণা-সহযোগী জু লিউয়ের আকস্মিক মৃত্যু রামিরেজকে এক গভীর শূন্যতায় ফেলে দিয়েছিল। সেই ব্যক্তিগত শোকই তাঁকে বিজ্ঞানীর চোখে স্মৃতির কাটাছেঁড়া করতে অনুপ্রাণিত করে।
স্মৃতি মুছে ফেলার লক্ষ্য কি কষ্ট কমানো?
মিরেজের গবেষণার মূল লক্ষ্য হল স্মৃতিকে মন থেকে চিরতরে মুছে ফেলা নয়। বরং তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন সেই স্মৃতির সঙ্গে লেপ্টে থাকা খারাপ ও যন্ত্রণাদায়ক অনুভূতিগুলোকে কমিয়ে আনার ওপর। অর্থাৎ লক্ষ্য হলো, স্মৃতিটি থাকবে, কিন্তু তার দংশন ক্ষমতা থাকবে না। এই গবেষণা নিয়ে এক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে বিবিসির অনলাইন ম্যাগাজিন সায়েন্স ফোকাস ডট কম। বাস্তবিকভাবেই, একটি স্মৃতিকে মস্তিষ্ক থেকে সম্পূর্ণ বিলীন করে দেওয়ার চেয়ে তার তীব্রতাকে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা অনেক বেশি কার্যকর এবং বৈজ্ঞানিকভাবে বাস্তবসম্মত।
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন যে, মানুষের স্মৃতি কোনো পাথরে খোদাই করা চিরস্থায়ী লিপি নয়। বরং এটিকে তুলনা করা যেতে পারে কম্পিউটারের এমন একটি 'সেভ করা ফাইলের' সঙ্গে, যা প্রতিবার খোলার সময় এডিট বা পরিবর্তন করা সম্ভব। এই বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়াটিকেই বলা হয় 'রিকনসোলিডেশন' (Reconsolidation)।
রিকনসোলিডেশন কী পরিবর্তনের মাহেন্দ্রক্ষণ
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন যে, মানুষের স্মৃতি কোনো পাথরে খোদাই করা চিরস্থায়ী লিপি নয়। বরং এটিকে তুলনা করা যেতে পারে কম্পিউটারের এমন একটি 'সেভ করা ফাইলের' সঙ্গে, যা প্রতিবার খোলার সময় এডিট বা পরিবর্তন করা সম্ভব। এই বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়াটিকেই বলা হয় 'রিকনসোলিডেশন' (Reconsolidation)।
যখন আমরা কোনো পুরনো স্মৃতি মনে করি, তখন সেটি কিছু সময়ের জন্য অত্যন্ত নমনীয় বা পরিবর্তনের উপযোগী হয়ে ওঠে। এটিই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, যখন বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে স্মৃতির আবেগগত প্রভাবকে দুর্বল করে দেওয়া সম্ভব। ল্যাবরেটরিতে প্রাণীর ওপর গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষকে লক্ষ্য করে ভয়ের স্মৃতি কমানো যায়।
এমনকি গবেষণায় এটিও দেখা গেছে যে, নেতিবাচক স্মৃতির প্রভাব কাটাতে 'ইতিবাচক স্মৃতিকে' ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। মস্তিষ্কের এই স্নায়বিক নমনীয়তা বা 'প্লাস্টিসিটি' বিজ্ঞানীদের মনে বড় আশার আলো জাগিয়েছে।
গুগলে আরও খোশখবর
গবেষণার অগ্রগতি কতদূর?
তবে মানুষের ক্ষেত্রে এখনও স্থায়ীভাবে কোনো স্মৃতি মুছে ফেলার প্রযুক্তি তৈরি হয়নি। গবেষকরা বর্তমানে কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT), আই মুভমেন্ট ডিসেনসিটাইজেশন অ্যান্ড রিপ্রসেসিং (EMDR) এবং কিছু ওষুধের মাধ্যমে ট্রমাজনিত স্মৃতির কষ্ট কমানোর উপায় নিয়ে কাজ করছেন। চমকপ্রদ বিষয় হলো, সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো দুঃসহ স্মৃতি মনে করার পর প্রায় ২০ মিনিট টেট্রিস ভিডিও গেম খেললে মস্তিষ্কের দৃশ্যগত অংশ ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে ট্রমাজনিত স্মৃতির পুনরাবৃত্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় আইসিইউ-তে কর্মরত নার্সদের ওপর চালানো এক পরীক্ষায় এই পদ্ধতিতে আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে।
গবেষণার বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক
তবে এই গবেষণার বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন প্রতিটি স্মৃতি—তা ভালো হোক বা মন্দ— তা জীবনের অপরিহার্য। এই সব নিয়েই একটা গোটা জীবন। কারণ ‘স্মৃতিই আমাদের পরিচয়’—এই সত্যকে অস্বীকার করলে মানুষের অস্তিত্বই সংকটে পড়তে পারে।
আধুনিক বিজ্ঞানের প্রকৃত লক্ষ্য মানুষকে স্মৃতিহীন করে তোলা নয়, বরং স্মৃতির অসহ্য ভার থেকে তাকে মুক্ত করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা। স্টিভ রামিরেজ ও এমিলি হোমস—দুজনেই মনে করেন, স্মৃতি পুরোপুরি মুছে ফেলার চেয়ে তার যন্ত্রণাকে কমিয়ে দেওয়াই বেশি যুক্তিযুক্ত। গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতের লক্ষ্য হওয়া উচিত খারাপ স্মৃতি মুছে ফেলা নয়, বরং সেই স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ভয়, যন্ত্রণা ও মানসিক কষ্টের তীব্রতা কমিয়ে দেওয়া। এতে মানুষ ঘটনাটি মনে রাখবে, কিন্তু সেই স্মৃতি আর আগের মতো অসহনীয় হবে না।
তবে এই গবেষণার বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন প্রতিটি স্মৃতি—তা ভালো হোক বা মন্দ— তা জীবনের অপরিহার্য। এই সব নিয়েই একটা গোটা জীবন। কারণ ‘স্মৃতিই আমাদের পরিচয়’—এই সত্যকে অস্বীকার করলে মানুষের অস্তিত্বই সংকটে পড়তে পারে।
আধুনিক বিজ্ঞানের প্রকৃত লক্ষ্য মানুষকে স্মৃতিহীন করে তোলা নয়, বরং স্মৃতির অসহ্য ভার থেকে তাকে মুক্ত করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা। স্টিভ রামিরেজ ও এমিলি হোমস—দুজনেই মনে করেন, স্মৃতি পুরোপুরি মুছে ফেলার চেয়ে তার যন্ত্রণাকে কমিয়ে দেওয়াই বেশি যুক্তিযুক্ত। গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতের লক্ষ্য হওয়া উচিত খারাপ স্মৃতি মুছে ফেলা নয়, বরং সেই স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ভয়, যন্ত্রণা ও মানসিক কষ্টের তীব্রতা কমিয়ে দেওয়া। এতে মানুষ ঘটনাটি মনে রাখবে, কিন্তু সেই স্মৃতি আর আগের মতো অসহনীয় হবে না।
তথ্যঃ সায়েন্স ফোকাস ডট কম
পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]


.jpg)
0 মন্তব্যসমূহ