একনজরে

10/recent/ticker-posts

Elephant Conservation বড় বিপদে মানুষ, প্রকৃতি ও পরিবেশের বন্ধু হাতিরা, কেন বাঁচানো দরকার তাদের?

 


খোশখবর ডেস্কঃ মানুষ, প্রকৃতি ও পরিবেশের বন্ধু হাতি। এই পৃথিবীতে বড় প্রয়োজন হাতিদের, অথচ সেই প্রানীই আজ বিপন্ন। চোরাশিকার ও নিজেদের থাকার জায়গা হারিয়ে যাওয়ায় হাতিরা বড় বিপদে। আর্থ ডট কমের তথ্য অনুযায়ী আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা ( IUCN) আফ্রিকান ফরেস্ট এলিফ্যান্টকে অত্যন্ত বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আফ্রিকান সাভানা হাতি এবং এশিয়ান হাতি—দুটিই বিপন্ন তালিকায় রয়েছে।



বিশ্বজুড়ে হাতিরা থাকে কোথায়?

বর্তমানে পৃথিবীতে মাত্র তিনটি হাতির প্রজাতি টিকে আছে। সেগুলি হল আফ্রিকান ফরেস্ট এলিফ্যান্ট, আফ্রিকান সাভানা এলিফ্যান্ট এবং এশিয়ান এলিফ্যান্ট। তথ্য জানাচ্ছে ২০১৫ সালের মধ্যেই আফ্রিকান ফরেস্ট এলিফ্যান্টের সংখ্যা আগের তুলনায় ৮৬ শতাংশেরও বেশি কমে গিয়েছিল। অন্যদিকে, পাঁচ দশকে আফ্রিকান সাভানা হাতির সংখ্যাও অন্তত ৬০ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি এশিয়ায় বন্য হাতির সংখ্যা প্রায় ৪০,০০০ হলেও তাদের অনেক গোষ্ঠী ছোট এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে।

গুগলে আরও খোশখবর 
 

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনসারভেশন অফ নেচার ২০২৫ সালের শেষ দিকে যে হিসেব দিতেছে তাতে বলা হয়েছে যে ২০১৬ থেকে ২০২২ সালের বিভিন্ন সমীক্ষা অনুযায়ী আফ্রিকায় প্রায় ১,৩৫,৬৯০টি ফরেস্ট এলিফ্যান্ট ছিল। আগের তুলনায় বেশি হাতির সন্ধান পাওয়া গেলেও, প্রজাতিটি বিপদমুক্ত হয়েছে তা বলা যায় না।



কেন বিপদে হাতিরা?

হাতিদের বড় শত্রু কী আসলে মানুষ? চোরাশিকার ও নিজেদের থাকার জায়গা হারিয়ে যাওয়ার কারণে হাতির পাল অনেক সময় গ্রাম বা জনবসতিতে ঢুকে পড়ছে এবং মানুষ-হাতি সংঘাত বাড়ছে। অনেক সময়েই হাতিরা কৃষিজমি, রাস্তা এবং রেললাইন হাতিদের খাবার ও জলের মধ্যে চলাচলের প্রাচীন পথ আটকে দিচ্ছে। এর সঙ্গে রয়েছে খরা,বন্যা ইত্যাদির মত প্রাকৃতিক পরিস্থিতি।


আসলে হাতিদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত বিচরণক্ষেত্র, নির্ভরযোগ্য জলের উৎস এবং নিরাপদ পরিবেশ। একই সঙ্গে চোরাশিকার, নির্যাতন এবং মানুষের তৈরি অন্যান্য বিপদ থেকেও তাদের সুরক্ষা প্রয়োজন। হাতির পিঠে চড়া বা জোর করে বিভিন্ন প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ানোর মতো নিষ্ঠুর বিনোদনও থামানো দরকার।



গোটা পরিবেশের বন্ধু হাতি

বিজ্ঞানীরা দেখেছেন হাতি যে পরিবেশে বাস করে, সেই গোটা বাস্তুতন্ত্রকেই প্রভাবিত করে। যেমন আফ্রিকার ফরেস্ট এলিফ্যান্টরা রেইনফরেস্টে কার্বন সঞ্চয়ের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হাতির মলের সঙ্গে বিভিন্ন উদ্ভিদের বীজ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে এবং নতুন জায়গায় গাছ জন্মাতে সাহায্য করে। হাতিদের খাদ্যাভ্যাস ও চলাফেরা বড় ও ঘন গাছের বৃদ্ধিকে বাড়িয়ে দেয়। ঘন ঝোপের মধ্যে হাতির চলাচল নতুন পথ তৈরি করে এবং গাছের ডাল ভাঙার ফলে পরবর্তী সময়ে সেখানে নতুন উদ্ভিদের বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়। তাই বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন হাতি হারিয়ে গেলে শুধু একটি প্রাণী হারিয়ে যাবে না। বদলে যেতে পারে উদ্ভিদজগৎ, বন্যপ্রাণী, পর্যটন এবং স্থানীয় মানুষের ঐতিহ্যও।




১২ আগস্ট ‘বিশ্ব হাতি দিবস’

হাতি অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও সামাজিক প্রাণী। হাতিদের অস্তিত্বের সংকট এবং তাদের রক্ষায় মানুষের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে প্রতি বছর ১২ আগস্ট পালিত হয় বিশ্ব হাতি দিবস। ২০১২ সালে কানাডার চলচ্চিত্র নির্মাতা প্যাট্রিসিয়া সিমস থাইল্যান্ডের Elephant Reintroduction Foundation-এর সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্ব হাতি দিবসের সূচনা করেন।

এমন দিনে সচেতনতা তৈরির জন্য হাতির নানা তথ্য বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। হাতির দাঁতের তৈরি আইভরি পণ্য কেনা বা ব্যবহার না করার জন্য প্রচার করা হয়। ২০২৬ সালে ‘বিশ্ব হাতি দিবস’মূল বার্তা ছিল হাতিদের সাহায্য করতে গোটা বিশ্বকে একত্রিত করা।

তথ্যঃ আর্থ ডট কম

পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে


[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]

[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code