একনজরে

10/recent/ticker-posts

World Letter Writing Day কেউ চিঠি লেখে না, তবুও পালিত হয় চিঠি লেখার দিবস, কেন জানেন?

 

খোশখবর ডেস্কঃ ‘কর্নেলকে কেউ চিঠি লেখে না’ – নোবেলজয়ী কলম্বীয় সাহিত্যিক গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস-এর লেখা একটি বিখ্যাত ও ক্লাসিক উপন্যাসের বাংলা নামকরণ ছিল এটাই। উপন্যাসের প্রধান চরিত্র এক দরিদ্র, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল, যিনি অবসরের পর প্রাপ্য পেনশনের চিঠির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু তার জন্য কোনো চিঠিই আসে না। কর্নেলের সে সময়কাল আর নেই। এখন সত্যিই আর কেউ কাউকে চিঠি লেখে না। ডিজিটাল এই যুগে এখন কেবলই ইমেল, হোয়াটস অ্যাপ আর মেসেজের বন্যা। চিঠি লেখার ব্যক্তিগত অনুভূতিটাই বেপাত্তা।



চিঠি মানেই যেন আবেগ, ভালোবাসা

একটা সময় ছিল যখন চিঠির আদান-প্রদান পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্পর্কের বন্ধন আরও দৃঢ় করত। দূরে থাকা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল চিঠি। প্রিয়জনের হাতে লেখা একটি চিঠির মধ্যে যে আবেগ, ভালোবাসা ও স্মৃতি থাকে, তা দীর্ঘদিন ধরে হৃদয়ে থেকে যায়। নাতি-নাতনিদের কাছ থেকে হাতে লেখা চিঠি পেলে দাদা-দিদা বা ঠাকুমা-ঠাকুরদার মুখেও ফুটে উঠত আনন্দের হাসি।

গুগলে আরও খোশখবর(KHOSHKHOBOR) 




চিঠি ধরে রাখে স্মৃতি, নিজস্ব ছোঁয়া

চিঠির সঙ্গে থেকে যায় নিজস্ব ছোঁয়া ও বিশেষ আন্তরিকতা। প্রেমিক প্রেমিকার লেখা প্রতিটি চিঠির মধ্যেই মিশে থাকত যিনি লিখেছেন তাঁর ব্যক্তিগত ছোঁয়া। প্রিয় সুগন্ধির হালকা সুবাস থেকে শুরু করে বাগানের ফুল বা গাছের ছোট্ট পাতা —অনেক কিছুই পাঠানো হত চিঠির সঙ্গে। ক্যালিগ্রাফি বা সুন্দর হাতের লেখার চিঠির আকর্ষণও কম ছিল না। প্রিয়জনের হাতে লেখা একটি চিঠি বছরের পর বছর ধরে যত্ন করে রেখে দেওয়া যায় – তা ধরে রাখে স্মৃতি।



‘বিশ্ব চিঠি লেখার দিবস’ আসলে কী?

হয় মুখোমুখি বসে কথা বলা, অথবা নিজের মনের কথা ও অনুভূতি কাগজে লিখে চিঠির মাধ্যমে দূরে থাকা মানুষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া - কয়েকশো বছর ধরে মানুষের যোগাযোগ মূলত এই দু’টি উপায়েই হতো। আসলে চিঠির একটা বিশেষ আন্তরিকতা থাকে। কারণ, প্রতিটি চিঠির মধ্যেই মিশে থাকে যিনি লিখেছেন তাঁর ব্যক্তিগত ছোঁয়া।এই অনুভবের কথা মাথায় রেখেই প্রতি বছর ১ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব চিঠি লেখার দিবস পালিত হয়। কাজেই সারা বছর না হলেও এই একটা দিন হয়ে উঠছে পুরনো আবেগকে ফের মনে করার দিন।



কীভাবে ১ সেপ্টেম্বর ‘ওয়ার্ল্ড লেটার রাইটিং ডে’?

বিশ্ব চিঠি লেখার দিবসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রিচার্ড সিম্পকিন- এর নাম। ২০১৪ সালে তিনি এই দিবস চালু করেন। এর পিছনে আছে উদ্যোগ। ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে সিম্পকিন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তিদের কাছে চিঠি লেখা শুরু করেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই চিঠির মাধ্যমে তাঁকে উত্তর দেওয়ায় সিম্পকিন অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত হন। এই চিঠিগুলিই পরবর্তীতে তাঁর একটি গুরুত্বপূর্ণ বই প্রকাশের অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে। ২০০৫ সালে সিম্পকিন ‘Australian Legends’ নামে বই প্রকাশ করেন।

চিঠির প্রতি তাঁর বিশেষ ভালোবাসা থেকেই মানুষের মধ্যে চিঠি লেখার অভ্যাস ফিরিয়ে আনার জন্য একটি বিশেষ দিন পালনের ভাবনা আসে রিচার্ড সিম্পকিনের মনে। হাতে লেখা চিঠি নিজের ডাকবাক্সে পৌঁছানোর যে আনন্দ ও উত্তেজনা তিনি অনুভব করতেন, সেই অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই দিবসের সূচনা। ২০১৪ সালে ১ সেপ্টেম্বর শুরু হয় বিশ্ব চিঠি লেখার দিবস। চিঠি লেখার গুরুত্ব ও আনন্দ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে সিম্পকিন স্কুলগুলিতে চিঠি লেখার কর্মশালাও পরিচালনা শুরু করেন।

তথ্যঃ ওয়ার্ল্ডলেটাররাইটিংডে ডট কম ও অনান্য


[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]

[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।] 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code