হাবল ও জেমস ওয়েবের পর এবার রোমান
ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ নতুন হলেও মনে রাখতে হবে এর আগে মহাকাশে পাঠানো হয়েছে হাবল স্পেস টেলিস্কোপ এবং জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপকে। ১৯৯০ সালে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল হাবল স্পেস টেলিস্কোপকে। আর জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ মহাকাশে পাড়ি দেয় ২০২১ সালে। দু’টি টেলিস্কোপই এখনও মহাবিশ্ব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে চলেছে।
ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ নতুন হলেও মনে রাখতে হবে এর আগে মহাকাশে পাঠানো হয়েছে হাবল স্পেস টেলিস্কোপ এবং জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপকে। ১৯৯০ সালে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল হাবল স্পেস টেলিস্কোপকে। আর জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ মহাকাশে পাড়ি দেয় ২০২১ সালে। দু’টি টেলিস্কোপই এখনও মহাবিশ্ব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে চলেছে।
এবার ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ আরও উন্নত, আরও আধুনিক। এটিকে তাদের পরবর্তী প্রজন্মের মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই মহাকাশ টেলিস্কোপের নাম রাখা হয়েছে নাসার প্রথম প্রধান জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং মহাকাশ-ভিত্তিক জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথিকৃৎ ন্যান্সি গ্রেস রোমানের নামে।
গুগলে আরও খোশখবর(KHOSHKHOBOR)
কী করবে রোমান স্পেস টেলিস্কোপ?
মহাকাশে গিয়ে অনন্ত এলাকা সার্চ করে ডার্ক এনার্জি, ডার্ক ম্যাটার, মহাকর্ষ এবং সৌরজগতের বাইরের গ্রহ সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে আনবে এই স্পেস টেলিস্কোপ। রোমান স্পেস টেলিস্কোপের বিশেষত্ব হল এর বিশাল এলাকা একসঙ্গে পর্যবেক্ষণ করার ক্ষমতা এবং দ্রুত মহাকাশ পর্যবেক্ষণ করার দক্ষতা। এর সাহায্যে মহাবিশ্বের গঠন, তার উপাদান এবং সময়ের সঙ্গে বিবর্তন আরও বিস্তৃতভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। রোমানের বিশাল পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা বিজ্ঞানীদের মহাবিশ্বের অদ্ভুত, বিরল এবং অস্বাভাবিক ঘটনাগুলি খুঁজে বের করার সুযোগ করে দেবে।
হবে ডার্ক এনার্জির রহস্য উন্মোচন?
ডার্ক এনার্জি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই হাবুডুবু খাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। বর্তমান ধারণা অনুযায়ী, মহাবিশ্বের মোট উপাদানের মধ্যে সাধারণ পদার্থ—যার মধ্যে নক্ষত্র, গ্রহ, গ্যাস ও ধূলিকণা রয়েছে—মাত্র প্রায় ৫ শতাংশ। এরপর প্রায় ২৭ শতাংশ ডার্ক ম্যাটার এবং প্রায় ৬৮ শতাংশ ডার্ক এনার্জি। কিন্তু ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি আসলে কী—তা এখনও বিজ্ঞানীদের কাছে পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। রোমান টেলিস্কোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হবে ডার্ক এনার্জি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হচ্ছে কি না, নাকি এটি মহাকাশের একটি স্থায়ী বৈশিষ্ট্য তার উত্তর খোঁজা।
হবে আইনস্টাইনের মহাকর্ষ তত্ত্বের পরীক্ষা
ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ ডার্ক এনার্জি নিয়ে গবেষণার পাশাপাশি মহাবিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব মহাজাগতিক দূরত্বে কতটা কার্যকর, সেটিও পরীক্ষা করবে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন প্রায় ১৩৮০ কোটি বছর আগে বিগ ব্যাং –এর পর যে মহাবিশ্বের সূচনা তা ক্রমেই প্রসারিত হচ্ছে। পাশাপাশি মহাবিশ্বের এই প্রসারণ শুধু চলছেই না, বরং তা ক্রমশ দ্রুততর হচ্ছে। একই সঙ্গে মহাবিশ্ব সময়ের সঙ্গে কীভাবে প্রসারিত হয়েছে, সেটিও আরও নিখুঁতভাবে পরিমাপ করা হবে। মহাকর্ষের কারণে আলো কীভাবে বাঁকছে যাকে গ্র্যাভিটেশনাল লেন্সিং বলা হয় তা পর্যবেক্ষণ করবে এই টেলিস্কোপ।
চলবে পৃথিবীর বাইরে প্রাণের সন্ধানও
রোমান স্পেস টেলিস্কোপ দুই বিলিয়নেরও বেশি গ্যালাক্সি পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। এই বিপুল তথ্যের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা বোঝার চেষ্টা করবেন কীভাবে নক্ষত্র, গ্যালাক্সি এবং গ্যালাক্সির বিশাল গুচ্ছ তৈরি হয়েছে ও সময়ের সঙ্গে কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। রোমান টেলিস্কোপের আরেকটি বড় লক্ষ্য হলো এক্সোপ্ল্যানেট।অর্থাৎ সৌরজগতের বাইরে পৃথিবীর মত গ্রহ খুঁজে বের করা।
এখন পর্যন্ত ৬,৩৫০টিরও বেশি এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কৃত হয়েছে যেখানে জীবনের সম্ভাবনা থাকতে পারে। রোমান টেলিস্কোপ এখন পর্যন্ত হওয়া সবচেয়ে বড় এক্সোপ্ল্যানেট অনুসন্ধানগুলির একটি চালাবে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই টেলিস্কোপ হাজার হাজার নতুন এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কার করতে পারে।
রোমান স্পেস টেলিস্কোপ - খরচ কত?
সত্যি বলতে কী অত্যাধুনিক এবং স্পেস টেলিস্কোপের ইতিহাসে নতুন যুগের সূচনা করতে চলা রোমান স্পেস টেলিস্কোপ তৈরিতে নাসা খরচ হচ্ছে প্রায় ৪০০ কোটি ডলার। টাকার অঙ্কে যা হল প্রায় ৩৮,১৭৩ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা। ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে রবিবার একটি স্পেস এক্স ফ্যলকন হেভি রকেটে করে তা উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে নাসার। হিসেব মত নির্ধারিত সময়ের প্রায় নয় মাস আগেই এই উৎক্ষেপণ হতে চলেছে এই অত্যাধুনিক স্পেস টেলিস্কোপ।
কোথায় রাখা হবে রোমান টেলিস্কোপকে?
উৎক্ষেপণের পর রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রোমান টেলিস্কোপ থাকবে ল্যাগরেঞ্জ পয়েন্ট-২ (L2)-এর কাছে। হিসেব মত পৃথিবী থেকে এই জায়গার দূরত্ব প্রায় ১৬ লক্ষ কিলোমিটার। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপও এই একই জায়গায় থেকে কাজ করে চলেছে। যদিও হাবল স্পেস টেলিস্কোপ পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে রয়েছে। আপাতত রোমান টেলিস্কোপ পাঁচ বছরের জন্য কাজ করবে। যদিও পরে তার কার্যকাল আরও বাড়তে পারে।
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]
.jpg)
.jpg)
.jpg)

0 মন্তব্যসমূহ