ডিসপোজেবল কাপ ও অদৃশ্য প্লাস্টিকের স্তর
আমরা চা, জল বা অন্য গরম পানীয় খেতে অনেকেই ব্যবহার করি ডিসপোজেবল বা একবার ব্যবহারযোগ্য কাগজের কাপ। এগুলো দেখতে খুব সাধারণ ও ছিমছাম হলেও বিপদের আধার। কারণ জল বা অনান্য পানীয় যাতে চুঁইয়ে না পড়ে সেজন্য এর অধিকাংশেরই ভেতরে থাকে একটি অদৃশ্য প্লাস্টিকের স্তর। এই প্লাস্টিক আবরণ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার দ্য ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের অধীনে একটি পরীক্ষা করেন কুইন্সল্যান্ড অ্যালায়েন্স ফর এনভায়রনমেন্টাল হেলথ সায়েন্সেস (QAEHS)-এর গবেষকরা।
গবেষকরা পলিইথিলিন (PE) এবং পলিল্যাকটিক অ্যাসিড (PLA) আবরণযুক্ত কাপ পরীক্ষা করেন। PE মূলত জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে তৈরি, অন্যদিকে PLA-কে তুলনামূলকভাবে বায়োডিগ্রেডেবল বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বেরিয়ে আসছে লক্ষ লক্ষ প্লাস্টিকের কণা
গবেষণাগারে পরিচালিত পরীক্ষায় দেখা গেছে, গরম জল কাগজের কাপে ঢাললেই ওই ধরনের প্লাস্টিক আবরণ থেকে লক্ষ লক্ষ অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বের হয়ে আসে। কাপটি খালি না হওয়া পর্যন্ত এই প্লাস্টিকের আবরণ সরাসরি পানীয়ের সংস্পর্শে থাকে। গবেষকরা জলের মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং ন্যানোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি দেখতে পান। মাইক্রোপ্লাস্টিক হল অত্যন্ত ছোট প্লাস্টিকের কণা, আর ন্যানোপ্লাস্টিক তার থেকেও অনেক ক্ষুদ্র।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, পলিল্যাকটিক অ্যাসিড বা PLA-আবরণযুক্ত কাপ থেকে মোট ভরের হিসাবে পলিইথিলিন বা PE-আবরণযুক্ত কাপের তুলনায় প্রায় ১২ গুণ বেশি প্লাস্টিক বেরিয়েছে।
কত প্লাস্টিক কণা মেশে গরম পানীয়ে?
ধরুন আপনি নিরুপায় হয়ে বা ইচ্ছে করেই একবার ব্যবহারযোগ্য কাগজের কাপে চা খেলেন। তাতে ঠিক কত প্লাস্টিক কণা মিশবে আপনার গরম পানীয়ে? আসলে গবেষণায় পাওয়া ন্যানোপ্লাস্টিক কণাগুলি মানুষের চুলের চেয়ে প্রায় ১,০০০ গুণ পাতলা ছিল। এত ছোট কণা চা বা কফির মধ্যে খালি চোখে দেখা সম্ভব নয়। তবুও গবেষকদের হিসেব বলছে PLA-আবরণযুক্ত কাপ থেকে প্রতি চা-চামচ গরম জলে প্রায় ২ কোটি ১০ লক্ষ ন্যানোপ্লাস্টিক কণা বেরিয়েছে। অর্থাৎ প্রতি মিলিলিটারে প্রায় ৪৩ লক্ষ কণা। অন্যদিকে, PE-আবরণযুক্ত কাপ থেকে প্রতি চা-চামচে প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ কণা এবং প্রতি মিলিলিটারে প্রায় ২৭ লক্ষ কণা বেরিয়েছে।
শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক, বিপদ তাহলে কতটা?
প্লাস্টিক যে নানা কারণে আমাদের শরীরের জন্য খুব একটা ভাল নয় তা বারবার জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। পরীক্ষাগুলিতে কতটা প্লাস্টিক কণা বেরিয়ে আসে, তা পরিমাপ করা হয়েছে। তবে মানুষের শরীরে এর স্বাস্থ্যগত প্রভাব কী সে পরীক্ষা করা হয়নি। এই কাপ থেকে নির্গত প্লাস্টিকের পরিমাণ মানুষের অসুস্থতার কারণ হতে পারে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরও এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক গিলে ফেলার দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে। গবেষণাটির মূল বার্তা আতঙ্ক তৈরি করা নয়, বরং সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
তথ্যঃ আর্থ ডট কম
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]


.jpg)
0 মন্তব্যসমূহ