খোশখবর ডেস্কঃ প্রাণঘাতী না হলেও এইমুহুর্তে একটা সর্ব্বনেশে রোগের কবলে গোটা পৃথিবীর মানুষ। সেটি হল ‘ডুমস্ক্রলিং’ – অর্থাৎ অনলাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অর্থহীনভাবে স্ক্রল করার প্রবণতা। যা মানুষের মনোযোগ ও চিন্তাশক্তির ওপর খুব খারাপ প্রভাব ফেলছে বলে বারবার সতর্ক করছেন বিজ্ঞানীরা। অনেকেই এর জন্য দোষ দেয় টিনএজ দের। তবে স্মার্টফোনের রঙিন দুনিয়ার হাতছানি এড়াতে পারছে না আঠারো থেকে আশির কেউই।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একের পর এক কনটেন্ট অনবরত স্ক্রল করার প্রবণতাকেই সাধারণভাবে ডুমস্ক্রলিং বলা হয়। ভুল তথ্য দেওয়া খবর, ছোট ভিডিও ও এই ধরণের কনটেন্টের মধ্যে দীর্ঘ সময় আটকে থাকার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গেছে, তরুণদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত ক্ষতিকর প্রবণতার মধ্যে আসক্তি ও ডুমস্ক্রলিং উল্লেখযোগ্য সমস্যা।
গুগলে আরও খোশখবর( KHOSHKHOBOR)
বই পড়লেই পাবেন ডলার?
এবার চিরাচরিত বইয়ের পাতায় মানুষকে ফেরাতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ছোট্ট দেশ সিঙ্গাপুর। ডুমস্ক্রলিং রুখতে বই পড়লেই ডলার দিচ্ছে সিঙ্গাপুর। এই লক্ষ্যে এই সেপ্টেম্বরেই পাঁচ বছরের একটি নতুন জাতীয় কর্মসূচি শুরু করেছে সিঙ্গাপুর – যা জেনে জোর চর্চা শুরু হয়ে গেছে পৃথিবীজুড়ে।
সিএনএন তাদের ওয়েবসাইটে লিখেছে এই উদ্যোগে সামিল হয়ে সিঙ্গাপুর সরকারের একটি ওয়েবসাইটে নিজের পড়ার সময় নথিভুক্ত করলে নাগরিকেরা অর্থ পাবেন। কমপক্ষে ১৫ মিনিট পড়লে একটি ‘রিডিং সেশন’ হিসেবে গণ্য হবে এবং সেক্ষেত্রে পাওয়া যাবে ২০টি ভার্চুয়াল কয়েন। দিনে সর্বোচ্চ একটি সেশন নথিভুক্ত করা যাবে। মোট ১,০০০টি কয়েন জমলে পাওয়া যাবে ১ সিঙ্গাপুর ডলার। অর্থাৎ, ১ ডলার পেতে প্রায় ৫০ দিন পড়তে হবে।
সামান্য পুরস্কার, তবু কেন এই উদ্যোগ?
বোঝাই যাচ্ছে পড়লেই ডলার, তবে খুব বেশি নয়। এই কর্মসূচিতে বই পড়ে কেউ ধনী হয়ে যাবেন না। দ্য গার্ডিয়ান ডট কম লিখেছে সিঙ্গাপুরের উদ্যোগের মূল বার্তা খুব সহজ—প্রতিদিন মাত্র ১৫ মিনিট পড়ুন। ক্যাফেতে একা বসে অবসর কাটানো, বাসে যাওয়ার সময়, ঘুমোতে যাওয়ার আগে কিংবা দুপুরের খাবারের বিরতিতেও সামান্য সময় বই পড়ুন।
সিঙ্গাপুর প্রশাসনের ধারণা, গেমিফিকেশন বা খেলাধুলার মতো পয়েন্ট সংগ্রহের ব্যবস্থা, অভ্যাস ট্র্যাক করা এবং সামান্য পুরস্কার—এই তিন বিষয় মানুষকে আবার পড়ার দিকে ফেরাতে সাহায্য করতে পারে। এই প্রসঙ্গে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল লাইব্রেরি বোর্ডের প্রধান মেলিসা ট্যাম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে অনলাইন কনটেন্ট দ্রুত তথ্য বা মজা পেতে সাহায্য করলেও, দীর্ঘ সময় ধরে পড়ার অভ্যাস মনোযোগ, চিন্তাভাবনা এবং কল্পনাশক্তিকে শক্তিশালী করে।
মোবাইল-ল্যাপটপে বেশি সময় কাটাচ্ছেন? – জেনে নিন পাঁচটি সাবধানবাণী
অর্থ দিয়ে বই পড়ার ভালোবাসা তৈরি করা সম্ভব?
তবে এই উদ্যোগ নিয়ে বিতর্কও শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে — বিনিময়ে অর্থ দিয়ে কি সত্যিই মানুষের মধ্যে আজীবন বই পড়ার ভালোবাসা তৈরি করা সম্ভব? এতে কী থামানো যাবে ‘ব্রেন রট’ বা ‘মস্তিষ্কের অবক্ষয়’-এর মতো ঘটনা? সমালোচকদের একাংশের বক্তব্য, আনন্দ পেয়েই মানুষের বই পড়া উচিত। পুরস্কার হয়ত মানুষকে প্রথমে বই হাতে তুলে নিতে উৎসাহিত করতে পারে। কিন্তু পরে পুরস্কার ছাড়াই মানুষ বই পড়তে থাকবে কি না, সেটাই হবে আসল পরীক্ষা।
অন্যদিকে অনেকে মনে করছেন, এ এমন এক সময় - যখন মানুষের চারপাশে অসংখ্য ডিজিটাল বিভ্রান্তি, তখন যে কোনও উপায়ে মানুষকে বই পড়ার দিকে ফেরানোটাই একটা ইতিবাচক ভাবনা।
তথ্যঃ সিএনএন ডট কম/ দ্য গার্ডিয়ান ডট কম
অর্থ দিয়ে বই পড়ার ভালোবাসা তৈরি করা সম্ভব?
তবে এই উদ্যোগ নিয়ে বিতর্কও শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে — বিনিময়ে অর্থ দিয়ে কি সত্যিই মানুষের মধ্যে আজীবন বই পড়ার ভালোবাসা তৈরি করা সম্ভব? এতে কী থামানো যাবে ‘ব্রেন রট’ বা ‘মস্তিষ্কের অবক্ষয়’-এর মতো ঘটনা? সমালোচকদের একাংশের বক্তব্য, আনন্দ পেয়েই মানুষের বই পড়া উচিত। পুরস্কার হয়ত মানুষকে প্রথমে বই হাতে তুলে নিতে উৎসাহিত করতে পারে। কিন্তু পরে পুরস্কার ছাড়াই মানুষ বই পড়তে থাকবে কি না, সেটাই হবে আসল পরীক্ষা।
অন্যদিকে অনেকে মনে করছেন, এ এমন এক সময় - যখন মানুষের চারপাশে অসংখ্য ডিজিটাল বিভ্রান্তি, তখন যে কোনও উপায়ে মানুষকে বই পড়ার দিকে ফেরানোটাই একটা ইতিবাচক ভাবনা।
তথ্যঃ সিএনএন ডট কম/ দ্য গার্ডিয়ান ডট কম
ডুমস্ক্রলিং ও সিঙ্গাপুরের বই-পড়া উদ্যোগ
১. প্রশ্ন: ‘ডুমস্ক্রলিং’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: অনলাইনে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অর্থহীনভাবে কনটেন্ট স্ক্রল করার প্রবণতাকে ডুমস্ক্রলিং বলা হয়।
২. প্রশ্ন: ডুমস্ক্রলিং মানুষের কোন বিষয়গুলোর ওপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করা হচ্ছে?
উত্তর: মানুষের মনোযোগ ও চিন্তাশক্তির ওপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।
৩. প্রশ্ন: ডুমস্ক্রলিং কমাতে সিঙ্গাপুর সরকার কী অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে?
উত্তর: মানুষকে বই পড়ায় উৎসাহিত করতে বই পড়ার জন্য ভার্চুয়াল কয়েন ও অর্থ পুরস্কার দেওয়ার জাতীয় কর্মসূচি শুরু করেছে।
৪. প্রশ্ন: সিঙ্গাপুরের কর্মসূচিতে একটি ‘রিডিং সেশন’ হিসেবে গণ্য হতে কমপক্ষে কতক্ষণ বই পড়তে হবে?
উত্তর: কমপক্ষে ১৫ মিনিট বই পড়তে হবে।
৫. প্রশ্ন: সিঙ্গাপুরের কর্মসূচিতে ১,০০০টি ভার্চুয়াল কয়েন জমলে কত পাওয়া যাবে?
উত্তর: ১ সিঙ্গাপুর ডলার পাওয়া যাবে। দিনে সর্বোচ্চ একটি রিডিং সেশন নথিভুক্ত করা যায়।
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]

.jpg)

0 মন্তব্যসমূহ