একনজরে

10/recent/ticker-posts

Childhood food and mental health জীবনের প্রথম ১০০০ দিনে শিশু কী খাচ্ছে তা প্রভাব ফেলে ভবিষ্যতের মানসিক স্বাস্থ্যে, জানাচ্ছে গবেষণা

 


খোশখবর ডেস্কঃ জীবনের প্রথম ১০০০ দিনে শিশুর খাবার তার ভবিষ্যতের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমনই সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। যদিও খাদ্যতালিকার কেন্দ্রে আছে চিনি। জানা যাচ্ছে গর্ভাবস্থা থেকে দ্বিতীয় জন্মদিন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে শিশুর চিনির গ্রহণ কম হলে, কয়েক দশক পরেও উদ্বেগ ও অবসাদের ঝুঁকি কম থাকতে পারে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে জেনারেল সাইকিয়াট্রি (General Psychiatry) নামের বিজ্ঞান পত্রিকায়। আর্থ ডট কম এই নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।



এই গবেষণা এবং তার ফলাফল উঠে আসার পিছনে একটা ইতিহাস আছে। ব্রিটেনে একসময় চিনি কেনার জন্য রেশনব্যবস্থা চালু ছিল। ফলে মানুষের চিনি খাওয়া কম হত। ১৯৫৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ব্রিটিশ সরকার সেই বিধিনিষেধ তুলে নেয়। ফলে এর পরেই সাধারণ মানুষের চিনি খাওয়ার পরিমাণ দ্রুত বেড়ে যায়। আর এর জেরে এই পরিবর্তনের ঠিক আগে ও পরে গর্ভধারণ করা শিশুদের খাদ্যে চিনির প্রাপ্যতার মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়।

গুগলে আরও খোশখবর( KHOSHKHOBOR) 


 
চিনির প্রভাব ও স্বাস্থ্য

আর এই ঘটনার কয়েক দশক পরে সেই সময়ের মানুষের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা একটি চমকপ্রদ ইঙ্গিত পান। দেখা গেছে জীবনের শুরুর দিকে যাঁরা চিনির রেশনব্যবস্থার আওতায় ছিলেন বা চিনি দেওয়া খাবার কম খেয়েছেন, প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তাঁদের উদ্বেগ ও অবসাদের রোগনির্ণয়ের হার তুলনামূলকভাবে কম।



চিনিই একমাত্র কারণ কি না, তা এখনও নিশ্চিত না হলেও এই গবেষণা থেকে নতুন একটি সম্ভাবনা সামনে এসেছে। জীবনের শুরুতে কী ধরনের খাবার খাওয়া হচ্ছে, তার প্রভাব শুধু দাঁত বা ওজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দেখা যাচ্ছে ভবিষ্যতে মানসিক স্বাস্থ্যের উপরেও তার প্রভাব পড়তে পারে।


শিশুদের খাবার নিয়ে সতর্কতা

গবেষকদের মতে, গর্ভবতী মহিলা এবং ছোট শিশুদের জন্য খাদ্যসংক্রান্ত নির্দেশিকায় চিনি কম খাওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা প্রয়োজন। তবে এর অর্থ এই নয় যে, গর্ভাবস্থায় বা শৈশবে চিনি কম খেলেই ভবিষ্যতে উদ্বেগ কিংবা অবসাদ প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে হলে এমন আরও গবেষণা প্রয়োজন।



গবেষণার মূল বার্তা হল, শিশু নিজের খাবার বেছে নেওয়ার বয়সে পৌঁছনোর আগেই তার খাদ্যাভ্যাস ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। ব্রিটেনের পুরনো চিনির রেশনব্যবস্থা বিজ্ঞানীদের সেই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার একটি বিরল সুযোগ করে দিয়েছে।

তথ্যঃ আর্থ ডট কম



[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]

[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।] 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code