একনজরে

10/recent/ticker-posts

El Nino and Warmest 2027 আরও শক্তিশালী এল নিনো! ২০২৭ কি ভেঙে দেবে সব উষ্ণতার রেকর্ড?

 


খোশখবর ডেস্কঃ এল নিনো ও উত্তপ্ত মহাসাগর নিয়ে উদ্বেগ ক্রমে বেড়েই চলেছে বিজ্ঞানীদের। সদ্য এই অক্টোবর মাসেই বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (The World Meteorological Organisation বা WMO), একটি তথ্যে জানিয়েছে, এল নিনো আরও শক্তিশালী হয়ে এই বছরের ডিসেম্বরের কাছাকাছি সময়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছতে পারে। বছরের এই শেষের দিকে পৃথিবীর মহাসাগরগুলো থেকে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু সংকেত মিলছে। জলবায়ু গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ এবং উপগ্রহচিত্র ব্যবহার করে সমুদ্রের স্রোত পর্যবেক্ষণের নতুন পদ্ধতি এই তথ্য সামনে এনেছে। এই নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এনডিটিভি ডট কম।



কেন এল নিনো নিয়ে এত উদ্বিগ্ন বিজ্ঞানীরা? আসলে এল নিনো হল প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী হওয়া এল নিনো, রেকর্ড উচ্চতার কাছাকাছি রয়েছে। তা আরও শক্তিশালী হয়ে ডিসেম্বরের কাছাকাছি সময়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছতে পারে। এর প্রভাব ২০২৭ সালে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে পৃথিবীর তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, চরম আবহাওয়া এবং সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের উপর। প্রভাব পড়তে পারে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের অঞ্চলগুলিতেও।

গুগলে আরও খোশখবর( KHOSHKHOBOR)


এর প্রভাবে কিছু অঞ্চলে তাপপ্রবাহ ও খরার বিপদ যেমন বাড়তে পারে তেমন আবার অন্যত্র অতিবৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে জল গরম ও প্রসারিত হয়ে বরফ গলিয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়িয়ে দেবে।


প্রশ্ন হল কেন ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে মহাসাগর? বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন জ্বালানি পোড়ানো, বনভূমি ধ্বংসের ফলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বাড়ছে। এই গ্যাসগুলি পৃথিবী থেকে নির্গত তাপের একটি বড় অংশ আটকে রাখে। অতিরিক্ত জমা হওয়া তাপের অধিকাংশই শোষণ করে মহাসাগরগুলো।

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন এল নিনো প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা আরও বাড়তে পারে। বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং এল নিনোর যুগ্ম প্রভাবে কয়েকটি গুরুতর সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে কিছু অঞ্চলে তাপপ্রবাহ ও খরার বিপদ বাড়তে পারে, আবার অন্য জায়গায় অতিবৃষ্টি হতে পারে। এর পাশাপাশি উষ্ণ জলের প্রসারণ এবং স্থলভাগের বরফ গলার ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাবে। সমুদ্রের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া প্রবালপ্রাচীর, মাছ এবং অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি থাকতে পারে।

ভারতের উপর এর কী প্রভাব পড়তে পারে? বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরের পারস্পরিক সম্পর্ক ভারতের আবহাওয়ার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এই দুই মহাসাগরের পরিস্থিতি দেশের বর্ষা, কৃষিকাজ এবং জলসম্পদের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।


প্রশ্ন হল এল নিনো এত শক্তিশালী হলে ২০২৭ কি হবে পৃথিবীর উষ্ণতম বছর? বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন এর জেরে আগামী বছর বিশ্ব তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি থাকার আশঙ্কা রয়েছে। তবে তা তাপমাত্রার সব রেকর্ড ভেঙে দেবে কী না তা ভবিষ্যৎই বলবে।

তথ্যঃ এনডিটিভি ডট কম


[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]

[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।] 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code