খোশখবর ডেস্কঃ বেশি মিষ্টি খাওয়া নিয়ে এমনিতেই বাঙালির বেশ বদনাম আছে, তার উপর উৎসবের সময় হলে তো কথাই নেই। কারণ উৎসব মানেই মিষ্টিমুখ! হয়ত অনেকেই খেয়ে ফেলছেন লাগামছাড়া চা-কফিও। দুর্গোৎসবের আনন্দে আপনি কী একটু বেশি মিষ্টি কেন্দ্রিক হয়ে পড়ছেন? ভাবছেন কটা দিন একটু বেশি জিলিপি- সন্দেশ খেয়ে ফেললে শরীরের কী খুব কিছু ক্ষতি হবে? তাহলে চলুন মিষ্টি নিয়ে তেতো কথাগুলোই আজ একটু জেনে নেওয়া যাক।
আমাদের চারপাশের নানা লোভনীয় ভাজা ও রসের মিষ্টি সাধারণত ছানার পাশাপাশি নানা উপকরণ দিয়ে তৈরি হয়। এতে কিছু প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম থাকলেও এর পুষ্টিগুণ নির্ভর করে কতটা চিনি ও ফ্যাট ব্যবহার করা হয়েছে তার ওপর। তবে মিষ্টি জাতীয় খাবারের প্রধান উপকরণ চিনিকেই চিনে নিন আগে।
চিনিকে শর্করা বা সুগার যে নামেই আপনি ডাকুন না কেন, গত কয়েক দশক ধরে চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ক্রমাগত সতর্কবার্তার ফলে আজ জনস্বাস্থ্যের 'এক নম্বর শত্রু' হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে চিনিকে। চা-কফিতে চিনি খাওয়া বন্ধ করতে বলছেন তাঁরা।
বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যারা বেশি মিষ্টি খায় তাদের মধ্যে টাইপ-টু ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ, কোনো ব্যক্তি যদি এক দিনে ১৫০ গ্রামের বেশি ফ্রুকটোজ খায় যা আসলে চিনিতে থাকে তাহলে রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে পারে এবং হাই ব্লাডপ্রেসারের মতো জটিল সমস্যার বিপদ হতে পারে।
সন্দেশ জাতীয় মিষ্টি খাচ্ছেন মানেই একসঙ্গে অনেকটা চিনি খেয়ে ফেলছেন আপনি। ছানা, চিনি, অন্য উপকরণ বা ঘি ও সাদা তেল দিয়ে তৈরি ভাজা মিষ্টি আপনার পেট ভার, গ্যাস বা ডায়রিয়ার সমস্যা তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি বাড়াবে অতিরিক্ত ওজনও ।
তবে উৎসবে একদিন বা কয়েকদিন একটু বেশি মিষ্টিপ্রেমী হয়ে পড়লেন মানেই গেল গেল রব তোলা ঠিক হবে না। কিন্তু সাবধানের মার নেই। আপনি যদি এমনিতেই রোগবালাইকে বন্ধু করে ফেলেন তবে উৎসবের সময়েও সাবধান। দু-এক দিনের খাওয়ার আনন্দ যেন আগামীর দিনগুলোতে আপনাকে বিপদে না ফেলে। মিষ্টির জন্য পেট ভরে প্রধান খাবার বাদ দেবেন না। স্বাভাবিক সুষম খাবার খান এবং উৎসবের দিনেও নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখুন।

0 মন্তব্যসমূহ