খোশখবর ডেস্কঃ বিশ্ব উষ্ণায়ন কি পৃথিবীকে ভয়ংকর জলবায়ু বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে? পৃথিবীকে বাঁচানোর সময় কি কার্যত শেষ? নাকি এখনও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে? পরিবেশের যা অবস্থা তাতে আগামী দিনে আমরা পৃথিবীকে জলবায়ু বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচাতে পারব তো? কারণ বিশ্ব উষ্ণায়নকে ১.৫ ( এক দশমিক পাঁচ ) ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে আটকে রাখার সম্ভাবনা কার্যত শেষ - ইউনাইটেড নেশনস এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্র্যাম বা রাষ্ট্রসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি এবং ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর অ্যাপ্লায়েড সিস্টেমস অ্যানালিসিস –এর সদ্য প্রকাশিত রিপোর্ট জানিয়ে দিয়েছে এমনটাই। এই নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আর্থ ডট কম।
রিপোর্টের মূল বক্তব্য স্পষ্ট —প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা অতিক্রম করে যাওয়াটা এখন কার্যত অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। বলা হচ্ছে এই শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৭ থেকে ১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছতে পারে। অর্থাৎ এই তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে আমাদের বসুন্ধরাকে কতটা ভয়ংকর জলবায়ু বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে হতে পারে তার আগাম হিসেব করাই মুশকিল।
তবে এই ভয় ধরানো সত্য তুলে ধরার পাশাপাশি রিপোর্টে সুখবরও শোনানো হয়েছে। বলা হয়েছে চেষ্টা করলে মানুষ এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ পৃথিবীর তাপমাত্রাকে ফের ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নামিয়ে আনতে পারে। গাণিতিকভাবে এখনও তা সম্ভব। বলা হয়েছে মানুষের সদিচ্ছা থাকলে তার সম্ভাবনা থাকবে প্রায় ৫০ শতাংশ।
বলা হচ্ছে এই লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে ২০২৫ সালের তুলনায় বিশ্বজুড়ে গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমাতে হবে—
২০৩০ সালের মধ্যে ১৮ শতাংশ।
২০৩৫ সালের মধ্যে ৪৫ শতাংশ।
২০৪০ সালের মধ্যে ৬৯ শতাংশ।
গত বছরের তুলনায় এ বারের রিপোর্টে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির পূর্বাভাস আরও উদ্বেগজনক। তাতে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান হারে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন অব্যাহত থাকলে প্রতি পাঁচ বছরে ভবিষ্যতের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ প্রায় ০.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে বেড়ে যেতে পারে। প্রশ্ন হল মানুষ কী সচেতন হয়ে পৃথিবীকে রক্ষা করতে পারবে? না হলে শেষের সে দিন কিন্তু ভয়ংকর!
তথ্যঃ আর্থ ডট কম
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]

0 মন্তব্যসমূহ