একনজরে

10/recent/ticker-posts

Why dogs and cats scared crackers জানেন বাজির শব্দে কেন ভয় পায় কুকুর-বিড়াল? পোষ্যরা আতঙ্কিত হয় কেন?

 


খোশখবর ডেস্কঃ কালিপুজো আর দীপাবলি মানেই যেন আলো আর আতশবাজির রোশনাই। তার সঙ্গে যুক্ত হয় বাজি ও পটকা সহ নানা রকমের আনন্দ উপকরণ। কিন্তু এত সবকিছুর আয়োজনে মানুষ আনন্দ পেলেও তা আতঙ্কের কারণ হয়ে ওঠে কুকুর, বিড়াল ও আমাদের আশপাশের অন্য পশুপাখিদের কাছে। বাজি ও পটকার বিকট শব্দে ভয় পেয়ে যায় রাস্তার সারমেয় থেকে পোষ্য কুকুর ও বিড়ালেরা। অনেক সময় তারা এত ভয় পায় যে ভয়ে বাড়ির আনাচে কানাচে কোনও কোণে লুকিয়ে পড়ে। এমনকী আতঙ্কে বাড়ি বা থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। কিন্তু কেন বাজি ও পটকায় কুকুর – বিড়ালেরা ভয় পায় জানেন? জেনে নেওয়া যাক তার কারণ।



বাজির শব্দে ভয় পায় কেন কুকুর ও বিড়াল?

শুধুমাত্র আপনার বাড়ির পোষা কুকুর বা বেড়ালটিই বাজি বা পটকার শব্দে ভয় পায় তা নয়। আপনার পাড়া, এলাকা থেকে শুরু করে গোটা পৃথিবীর জন্যই এটি সত্যি। এর গুরুত্বপূর্ণ ও বিজ্ঞানসম্মত কারণ আছে। আসলে কুকুর ও বিড়ালের শ্রবণশক্তি মানুষের তুলনায় অনেক বেশি সংবেদনশীল। ফলে পটকার আকস্মিক বিকট শব্দ তাদের কাছে অত্যন্ত তীব্র ও অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। আমাদের মত মানুষের কাছে বাজি আনন্দের বিষয় হলেও তারা বুঝতে পারে না যে এই শব্দ কোনও উৎসবের আনন্দের অংশ। তারা একে বিপদ বলে মনে করে। তাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।


বাজির শব্দে কুকুর বিড়াল আতঙ্কিত হয় কেন?

আগেই জেনেছি যে মানুষের তুলনায় কুকুরের শ্রবণশক্তি অনেক বেশি প্রখর হওয়ায় যে শব্দ আমাদের কাছে সহনীয়, তা তাদের কাছে অত্যন্ত জোরালো ও ভয়ংকর মনে হতে পারে। তবে শুধু শব্দ নয়, আরও কয়েকটি কারণে বাজি-পটকা ফাটলে কুকুর-বিড়াল আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। পাশাপাশি কখন কোথায় বাজি ফাটবে, তা আগে থেকে বোঝার উপায় না থাকায় সেই অনিশ্চয়তা তাদের ভয় আরও বাড়িয়ে দেয়।

অনেক সময়েই বাজির বিপুল শব্দে মাটি ও দেওয়ালের কম্পন অনুভূত হয় যা কুকুরের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে। বাজি পোড়ার ধোঁয়া ও তীব্র গন্ধও তাদের কাছে অস্বস্তিকর এবং বিপদের সংকেত হিসেবে সামনে আসে। কেন মানুষ হঠাৎ বাজি পোড়াচ্ছে, পটকা ফাটাচ্ছে তা সারমেয়র দল বুঝতে পারে না। ফলে হঠাৎ তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতিতে তারা ভয় পেয়ে যায়।



পোষ্যরা আতঙ্কিত হলে কী করে?

অতিরিক্ত শব্দে অনেক কুকুর-বেড়াল পোষ্য ভয় পেয়ে যায়। তাদের কেউ কাঁপতে থাকে, কেউ অনবরত ডাকাডাকি করে, আবার কেউ ভয়ে বাড়ির কোনও কোণে লুকিয়ে পড়ে। এমনকী আতঙ্কে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। বাজির শব্দে পোষ্যদের মধ্যে কয়েকটি লক্ষণ দেখা যায়। যেমন - 

ঘরের মধ্যে অস্থিরভাবে হাঁটাহাঁটি করা।

বারবার জায়গা পরিবর্তন করা।

হালকা কাঁপুনির পাশাপাশি হাঁপাতে থাকা।

খাটের নীচে বা অন্য কোনও জায়গায় লুকিয়ে পড়া।

অতিরিক্ত ঘেউ ঘেউ বা মিউ মিউ করা।

অতিরিক্ত লালা ঝরা।

ভয় পেয়ে ঘরের মধ্যেই মলমূত্র ত্যাগ করা।

এই ভয় থেকেই অনেক সময় পোষ্যরা পালানোর চেষ্টা করে এবং দুর্ঘটনার শিকার হয়।


তাই কালিপুজো বা দীপাবলি আপনার আমার কাছে আনন্দের হলেও পোষ্য সহ আমাদের আশপাশের কুকুর, বিড়াল ও অন্য পশুপাখিদের কাছে কঠিন সময় বয়ে আনে। আমাদের মনে রাখতে হবে আনন্দ যেন কোনও প্রাণীর কাছে আতঙ্কের কারণ না হয়ে ওঠে। এই সময় তাদের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। একটু আগাম প্রস্তুতি, নিরাপদ আশ্রয়, পরিচিত পরিবেশ এবং যত্ন ও ভালোবাসা কুকুর- বেড়াল সহ প্রাণীদের ভয় অনেকটাই কমাতে পারে। উৎসব হোক মানুষ ও প্রাণী—সবার জন্য আনন্দময়।

তথ্যঃ thepetsunlimited.com ও petindiaonline.com 




[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]

[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদেসামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।] 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code