খোশখবর ডেস্কঃ এই মুহূর্তে কনটেন্ট রাইটিং-এর ক্ষেত্রে গোটা দুনিয়াতেই মস্ত বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। তবে শুধু সাধারণ লেখালিখি নয়, ক্রিয়েটিভ রাইটিং-এর ক্ষেত্রেও অনেকে সুবিধে নিচ্ছে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের। তৈরি করা হচ্ছে ছোটদের মজার গল্প, ভুত-প্রেতের গল্প, শিক্ষণীয় বা উপদেশমূলক নানা গল্প। আর এআই দিয়ে গল্প লেখার টুলেই চরিত্র নির্মাণে পক্ষপাত লুকোনো থাকার অভিযোগ উঠে এল এক গবেষণায়।
গুগলে আরও খোশখবর
সদ্য Earth.com-এ স্টাফ রাইটার এরিক রলস এই নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ের (GMU) গবেষক ড. থিমা মনরো হোয়াইট –এর অনুসন্ধান তুলে ধরে তিনি লিখেছেন আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহৃত এআই লেখার টুলগুলো নীরবে ঠিক করে দিচ্ছে—কে গল্পের নেতা হবে, কে সহকারী থাকবে, আর কে আদৌ গল্পে জায়গা পাবে না।
এআই লেখার টুলে চরিত্র নির্মাণে লুকোনো পক্ষপাত বিষয়ক এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে Nature Communications জার্নালে। থিমা মনরো হোয়াইট ৫ লক্ষ গল্প বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে প্রান্তিক বা খেটে খাওয়া গরীব গোষ্ঠীর চরিত্ররা বহু ক্ষেত্রেই বাদ পড়ে গেছে, অথবা অধস্তন ভূমিকায় রাখা হয়েছে।
দেখুন এই ভিডিওটি
কিন্তু এআই কীভাবে গল্প তৈরি করে? আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ডেটা থেকে শেখে। এআই প্রচুর বই, গল্প, প্রবন্ধ, কবিতা ইত্যাদি পড়ে (ডেটা হিসেবে ট্রেনিং করা হয়)। এর ফলে ভাষার ধরণ, চরিত্র গঠন, কাহিনির বাঁক, সংলাপ—সবকিছু সম্পর্কে ধারণা তৈরি হয়।গল্পের সাধারণত শুরু, মাঝখান, আর শেষ থাকে। এআই সেই কাঠামো মেনে চরিত্র, পরিবেশ, সমস্যা আর সমাধান সাজায়।
দেখুন আরও ভিডিও
মনরো হোয়াইটের গবেষণা দেখাচ্ছে এআই-এর তৈরি ভালোবাসার গল্পে ৮৪.১ শতাংশ চরিত্রের নাম শ্বেতাঙ্গ পরিচয়ের ইঙ্গিতবাহী। ইন্টারসেকশনাল বিশ্লেষণে দেখা গেছে কর্মক্ষেত্রে নারীকেন্দ্রিক চরিত্ররা ক্ষমতা হারাচ্ছে। শ্বেতাঙ্গ পুরুষ চরিত্ররা প্রভাবশালী অবস্থানে থাকছে। গবেষণা দেখাচ্ছে — গল্প লেখার নির্দেশে একটিও পরিচয়সংক্রান্ত শব্দ না থাকলেও এআই নিজে অনুমান করে নেয়, কে গল্পে ‘ফিট’ করে। আর এখানেই আধুনিক ‘এআই’ টুলেও চিরাচরিত সমস্যা খুঁজে পাচ্ছেন গবেষকরা।
পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদের সামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]

0 মন্তব্যসমূহ