খোশখবর ডেস্কঃ অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করা মহাকাশচারীরা পৃথিবীতে ফিরে এলেন সফলভাবে। NASA-র আর্টেমিস ২ মিশনের চার মহাকাশচারী ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে নিরাপদে অবতরণ করেন। নিজস্ব ওয়েবসাইট nasa.gov – এ এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন এই মহাকাশ সংস্থা। এই মিশনকে মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ওরিয়ন স্পেসক্রাফট (Orion spacecraft) -এ চেপে যাত্রা করেন কমান্ডার রিড উইজম্যান (Reid Wiseman), পাইলট ভিক্টর গ্লোভার ( Victor Glover), মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কচ (Christina Koch) এবং জেরেমি হ্যানসেন (Jeremy Hansen)। প্রায় ১০ দিনের এই অভিযানে তারা চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করে পৃথিবীতে ফিরে আসেন। নাসা সূত্রে জানা গেছে, এই মিশনে মহাকাশচারীরা সর্বাধিক ২,৫২,৭৫৬ মাইল দূরত্বে পৌঁছান এবং মোট প্রায় ৬,৯৪,৪৮১ মাইল পথ অতিক্রম করেন। এর ফলে ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো ১৩ মিশন (Apollo 13 mission)-এর রেকর্ডও ভেঙে যায়।
১ এপ্রিল ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার (Kennedy Space Center) থেকে Space Launch System রকেটের মাধ্যমে এই মিশনের সূচনা হয়। উৎক্ষেপণের সময় প্রায় ৮.৮ মিলিয়ন পাউন্ড থ্রাস্ট তৈরি করে রকেটটি মহাকাশে নভোচারীদের পাঠায়।
মিশনের সময় মহাকাশচারীরা মহাকাশযানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি পরীক্ষা করেন। বিশেষ করে লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম, ম্যানুয়াল কন্ট্রোল এবং জরুরি ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা যাচাই করা হয়। পাশাপাশি মহাকাশে মানবদেহের উপর প্রভাব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক গবেষণাও চালানো হয়।
৬ এপ্রিল চাঁদের নিকটতম অবস্থানে পৌঁছে মহাকাশচারীরা ৭ হাজারেরও বেশি ছবি তোলেন। সেই ছবিতে চাঁদের পৃষ্ঠ, গহ্বর, সূর্যগ্রহণ, এমনকি মহাকাশ থেকে পৃথিবীর মনোমুগ্ধকর দৃশ্যও ধরা পড়ে।
নাসার প্রধান জাবেদ আইজ্যাকম্যান( Jared Isaacman) এই সাফল্যকে “ঐতিহাসিক অর্জন” বলে উল্লেখ করে জানান, এটি ভবিষ্যতের চন্দ্র অভিযানের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দিল। তিনি বলেন, এই মিশনই আর্টেমিস ৩ মিশনের( Artemis III mission) -এর পথ প্রশস্ত করবে, যার মাধ্যমে মানুষকে আবার চাঁদের মাটিতে নামানো হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্টেমিস ২ মিশনের সাফল্য মানবজাতির মহাকাশ অভিযানের নতুন যুগের সূচনা করল, যা ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি গড়ে তোলা এবং মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। আসলে আর্টেমিস ২ মিশনের এই সাফল্য শুধু প্রযুক্তিগত নয়, মানবজাতির মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
তথ্যঃ nasa.gov ওয়েবসাইট
পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদের সামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]

0 মন্তব্যসমূহ