খোশখবর ডেস্কঃ জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে নানারকম শঙ্কার মধ্যেই আগামী দিনে প্রশান্ত মহাসাগরে বিরল ‘সুপার এল নিনো’ তৈরির আশঙ্কার কথা শোনালেন বিজ্ঞানীরা। এর ফলে এশিয়া থেকে আমেরিকা পর্যন্ত বর্ষা, ঝড়ের গতিপথ এবং বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। পাশাপাশি সুপার এল নিনো দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ হতে পারে। Nature Communications-এ প্রকাশিত গবেষণার তথ্য তুলে ধরে এই নিয়ে বিশেষ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ডাউন টু দ্য আর্থ ডট কম।
এল নিনো আসলে কী?
খুব সোজা কথায় বলতে গেলে ‘এল নিনো’ হল প্রশান্ত মহাসাগরে উষ্ণ বা গরম সমুদ্রস্রোত। এটি একটি স্প্যানিশ শব্দ, যার অর্থ ছোট্ট বালক। বিজ্ঞানের ভাষায় এল নিনো হল El Niño–Southern Oscillation (ENSO)-এর উষ্ণ পর্যায়, যা নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে ঘটে। এই সময় পূর্ব ও মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ট্রেড উইন্ডস বা বাণিজ্যিক বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে উষ্ণ জল পশ্চিম দিকে সরে যেতে পারে না এবং পূর্বাঞ্চলে জমা হতে থাকে। এর ফলে ওই অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা (SST) স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়।
এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং দুর্বল বায়ুপ্রবাহের কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে আলাদা আলাদা প্রভাব দেখা যায়। ভারতীয় উপমহাদেশে সাধারণত ‘এল নিনো’ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বৃষ্টিপাত কমিয়ে দেয় এবং উত্তর-পূর্ব মৌসুমে বৃষ্টি বাড়ায়।
মার্কিন সংস্থা National Oceanic and Atmospheric Administration (NOAA)-এর সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন থেকে আগস্টের মধ্যে এল নিনো তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬২ শতাংশ। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়কালে এই সম্ভাবনা আরও বেড়ে ৭০ শতাংশের বেশি হতে পারে এবং বছরের শেষ পর্যন্ত এটি স্থায়ী হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
‘সুপার এল নিনো’ ব্যাপারটা কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ‘এল নিনো’ আরও শক্তিশালী হয়, তবে তা ‘সুপার এল নিনো’-তে রূপ নিতে পারে—যা গত এক শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী জলবায়ুর ঘটনা হতে পারে। ইতিমধ্যেই নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের জলে তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে, যা এই সম্ভাবনাকে আরও জোরদার করছে।
নতুন পূর্বাভাসে National Oceanic and Atmospheric Administration (NOAA) এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু মডেলগুলি জানাচ্ছে, একটি বিরল ‘সুপার এল নিনো’ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ক্রমশ বাড়ছে, যা ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এর ফলে এশিয়া থেকে আমেরিকা পর্যন্ত বর্ষা, ঝড়ের গতিপথ এবং বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
শেষ তিনটি ‘সুপার এল নিনো’ হয়েছিল ১৯৮২-৮৩, ১৯৯৭-৯৮ এবং ২০১৫-১৬ সালে। এই সব ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রার রেকর্ড তৈরি হয় এবং প্রবাল প্রাচীরে ব্যাপক ক্ষতি হয়।
‘সুপার এল নিনো’ নিয়ে কেন চিন্তা?
‘সুপার এল নিনো’ সাধারণ এল নিনোর তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। এর ফলে চরম আবহাওয়া সংক্রান্ত ঘটনা বেড়ে যায়। কোথাও হয় অতিবৃষ্টি, আবার কোথাও দীর্ঘস্থায়ী খরা দেখা যায়। ঝড়ের গতিপথে বড় পরিবর্তন হয় এবং কৃষি, জলসম্পদ ও জীবিকায় গভীর প্রভাব পড়ে।
বিজ্ঞানীদের হিসেব প্রশান্ত মহাসাগরে তৈরি হওয়া এল নিনো আরও শক্তিশালী হয়ে গত এক শতাব্দীর মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’-তে পরিণত হতে পারে। এটি ভারতের মৌসুমী বায়ুসহ বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ধরন বদলে দিতে পারে। বন্যা, খরা ও ঝড়ের গতিপথে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। এছাড়াও নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, সুপার এল নিনো দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ হতে পারে ।
তথ্যঃ ডাউন টু আর্থ ডট কম ও অনান্য ওয়েবসাইট
পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদের সামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]

0 মন্তব্যসমূহ