খোশখবর ডেস্কঃ আমাদের বসুন্ধরা আর বর্তমান মানবসভ্যতার চাহিদার চাপ বহন করতে পারছে না - ইতিমধ্যেই তা পৃথিবীর সহনশীলতার সীমা অতিক্রম করতে শুরু করেছে—এমনই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক গবেষণায়। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বর্তমান হারে পৃথিবীর সম্পদ এভাবে ব্যবহার চলতে থাকলে ভবিষ্যতে খাদ্য, জলবায়ু এবং মানুষের টিকে থাকার ব্যাপারটা মারাত্মক চাপে পড়বে। এই নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে আর্থ ডট কম।
অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিন্ডার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিদ কোরি ব্র্যাডশ’র নেতৃত্বে এক গবেষক দল পরিবেশগত মডেলের মাধ্যমে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধারা বিশ্লেষণ করেছেন। একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণ, পরিবেশগত চাপ এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে জনসংখ্যার সম্পর্কও খতিয়ে দেখা হয়েছে।
গুগলে আরও খোশখবর
গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৫০-এর আগে জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধির হারও বাড়ত। কিন্তু ১৯৬০-এর দশকের শুরুতে এই ধারা ভেঙে যায়। এরপর জনসংখ্যা বাড়লেও বৃদ্ধির হার কমতে শুরু করে। গবেষকরা একে “নেতিবাচক জনসংখ্যাগত পর্যায়” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পর্যবেক্ষন বলছে এই প্রবণতা বজায় থাকলে, ২০৬০-৭০ সালের মধ্যে বিশ্বের জনসংখ্যা ১১.৭ থেকে ১২.৪ বিলিয়নের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছতে পারে।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, গবেষকরা মনে করছেন—পৃথিবীর “ক্যারিয়িং ক্যাপাসিটি” বা ধারণক্ষমতা বর্তমান জনসংখ্যার তুলনায় অনেক কম। বর্তমানে বিশ্বের জনসংখ্যা প্রায় ৮.৩ বিলিয়ন বা ৮৩০ কোটির কাছাকাছি হলেও, তাদের হিসেব পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে আরামদায়ক জীবনযাপন সম্ভব এমন জনসংখ্যা থাকা উচিত ২.৫ বিলিয়নের কাছাকাছি।
সতর্কতা হল জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কিছুটা কমলেও এমনটা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে খাদ্য ও জলের সংকট, তীব্র জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈষম্য আরও বাড়তে পারে। তবে এখনই শক্তি, ভূমি ও সম্পদ ব্যবহারের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনলে তাহলে ভবিষ্যৎ সংকট অনেকটাই কমানো সম্ভব।
পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদের সামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]


0 মন্তব্যসমূহ