খোশখবর ডেস্কঃ ঐতিহাসিক সাফল্য, এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করে ফেলল ভারতের পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচি। গত ৬ এপ্রিল তামিলনাড়ুর কালপাক্কমে ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর বা PFBR সফলভাবে ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ অর্জন করে ফেলেছে। অর্থাৎ রিঅ্যাক্টরের ভিতর নিরাপদ এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ ভাবে আণবিক বিক্রিয়া ঘটানো সম্ভব হয়েছে। নিজেদের ওয়েবসাইটে এই তথ্য দিয়েছে ডিপার্টমেন্ট অফ অ্যাটমিক এনার্জি।
এই সাফল্যের ফলে ভারত দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা এবং স্বনির্ভর পারমাণবিক প্রযুক্তি উন্নয়নের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল। একে ভারতের পারমাণবিক শক্তিতে নতুন দিগন্ত বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। জেনে নেওয়া যাক আসলে ব্যাপারটা ঠিক কী?
গুগলে আরও খোশখবর
পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রকৃতিতে না পাওয়া গেলেও পারমাণবিক রিয়াক্টরে মূলত ইউরেনিয়াম দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এর বিকল্প হিসেবে থোরিয়াম-২৩২কে অনেকদিন ধরেই ভাবছেন বিজ্ঞানীরা। পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইউরেনিয়াম ব্যবহার হওয়ার পর উপজাত দ্রব্য হিসাবে বেরিয়ে আসে প্লুটোনিয়াম। ভারতের প্রয়াত কিংবদন্তি বিজ্ঞানী হোমি জাহাঙ্গির ভাবা ভেবে ছিলেন প্লুটোনিয়ামের সঙ্গে থোরিয়াম মিশিয়ে জ্বালানি তৈরির কথা। সেই পথে হেঁটেই এবার গোটা বিশ্বকে পিছনে ফেলে পারমাণবিক রিয়াক্টরে থোরিয়াম ব্যবহারের প্রযুক্তির পথে সাফল্য পেয়ে গেল ভারত।
এখন ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তিতে বিশ্বে শীর্ষে মাত্র দুইটি দেশ ভারত এবং রাশিয়া। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ব্রিটেন, জাপান ও চিন এই প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করলেও শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে এসেছে। কিন্তু ভারত থেমে থাকেনি।
ভবিষ্যতে এই রিঅ্যাক্টরে থোরিয়াম-২৩২ ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা রূপান্তরের মাধ্যমে ইউরেনিয়াম-২৩৩-এ পরিণত হবে এবং ভারতের পারমাণবিক কর্মসূচির তৃতীয় ধাপকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কারণ ভারতে সীমিত ইউরেনিয়াম থাকলেও থোরিয়ামের অভাব নেই। এই প্রযুক্তির ফলে অনেক বেশি শক্তি উৎপাদন সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোশ্যাল মিডিয়ায় একে ভারতের জন্য এক গর্বের মুহূর্ত বলে জানিয়েছেন। দেশের পারমাণবিক কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ আরও এগিয়ে গেল বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর প্রকল্পের নকশা ও প্রযুক্তি সম্পূর্ণভাবে দেশীয়ভাবে তৈরি করেছে ইন্দিরা গান্ধী সেন্টার ফর অ্যাটমিক রিসার্চ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাফল্য শুধু প্রযুক্তিগত নয়, বরং ভারতের ভবিষ্যৎ শক্তি নিরাপত্তা ও স্বনির্ভরতার দিকেও এক বড় পদক্ষেপ।
পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদের সামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]

0 মন্তব্যসমূহ