খোশখবর ডেস্কঃ টেকনোলজি বা প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বলতেই সাধারণত আমাদের চোখে সিলিকন ভ্যালি বা পশ্চিমী উন্নত দেশগুলোর ছবি ভেসে ওঠে। কিন্তু ভারতের নেতৃত্বে এই ছবি পাল্টে দিচ্ছে গ্লোবাল সাউথ। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, AI বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে বা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে গোটা পৃথিবীর মধ্যে এই মুহূর্তে শীর্ষে ভারত। এই নিয়ে তাদের সাইটে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ভিজুয়াল ক্যাপিটালিস্ট ।
তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপ বা BCG বিশ্বজুড়ে ১০,৬৩৫ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর করা একটি সমীক্ষার পর চমকপ্রদ তথ্য সামনে এনেছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারত বর্তমানে AI ব্যবহারের হারের দিক থেকে বিশ্বে এক নম্বর স্থানে এবং ভারতের ৯২ শতাংশ কর্মী প্রতি সপ্তাহে নিয়মিতভাবে AI টুল ব্যবহার করেন।
গুগলে আরও খোশখবর
ভারতের এই ডিজিটালি এগিয়ে চলা বা ক্ষিপ্রতার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। সেগুলির মধ্যে প্রথম হল ভারতের বিশাল প্রযুক্তি জানা জনবল অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে নতুন প্রযুক্তি আয়ত্ত করতে সক্ষম। নিত্যনতুন শক্তিশালী স্টার্টআপ AIকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি ভারতের পুরানো প্রযুক্তির পিছুটান বা বোঝা না থাকায় সরাসরি আধুনিক ডিজিটাল রূপান্তরকে সঙ্গী করে নিতে পেরেছে।
এআই-এর ব্যবহার গ্লোবাল সাউথ বনাম গ্লোবাল নর্থ-এর লড়াইকে সামনে এনে দিয়েছে। সমীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে 'গ্লোবাল সাউথ'-এর দেশগুলো AI গ্রহণের ক্ষেত্রে অনেক বেশি তৎপর।
AI ব্যবহারের হারে গ্লোবাল সাউথে শীর্ষ সারির দেশগুলোর প্রথমেই আছে ভারত ৯২%। এর পর ব্রাজিল ৭৬%, দক্ষিণ আফ্রিকা ৭২%। অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে গ্লোবাল নর্থ –এর শীর্ষে জার্মানি ৬৭%, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৬৪%, ফ্রান্স ৬৪% এবং জাপান ৫১%। তালিকায় সবচেয়ে আশ্চর্যজনক তথ্য হল জাপানের অবস্থান। প্রযুক্তিতে ধারাবাহিক উন্নত হওয়া সত্ত্বেও জাপানে AI ব্যবহারের হার সবচেয়ে কম—মাত্র ৫১ শতাংশ।
AI-এর এই ব্যাপক ব্যবহারে কী লাভ হবে ভারতের? পরিসংখ্যান বলছে এতে ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ফলে প্রায় ৬০৭ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ঘটার সম্ভাবনা। পাশাপাশি প্রযুক্তির নেতৃত্ব এবং উদ্ভাবনের কেন্দ্র পশ্চিমের বদলে পাকাপাকিভাবে চলে আসতে পারে গ্লোবাল সাউথের চালকের আসনে বলে থাকা ইন্ডিয়ার হাতে।
পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদের সামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]

0 মন্তব্যসমূহ