খোশখবর ডেস্কঃ পরিবেশবান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থার দিকে এবার এক বড় পদক্ষেপ ভারতের। উত্তর রেলের জিন্দ-সোনিপত রুটে ১০ কোচের হাইড্রোজেন ট্রেন চালুর অনুমোদন দিয়েছে ভারতীয় রেল। অত্যাধুনিক এই ট্রেন সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে। ট্রেনটির শক্তির উৎস হবে ১২০০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রপালশন সিস্টেম। সবচেয়ে বড় কথা কোনও বিদেশী প্রযুক্তি নয়, এটি হতে চলেছে ভারতের প্রথম স্বদেশি হাইড্রোজেন ট্রেন। ভারত সরকারের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর ওয়েবসাইটে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এই উদ্যোগের ফলে ভারত এখন জার্মানি, জাপান, চিন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একই তালিকায় স্থান পেল যে দেশগুলো রেল পরিবহণে হাইড্রোজেন প্রযুক্তির ব্যবহার পরীক্ষা করছে বা বাস্তবে ব্যবহার করছে। ভারত যে খুব শীঘ্রই হাইড্রোজেন চালিত ট্রেনের দুনিয়ায় প্রবেশ করছে তা কিছুদিন আগেই জানানো হয়েছিল খোশখবরের ইউটিউব চ্যানেলে।
গুগলে আরও খোশখবর
কিন্তু কীভাবে কাজ করবে এই হাইড্রোজেন ট্রেন প্রযুক্তি? হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তিতে হাইড্রোজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। এই প্রক্রিয়ায় একমাত্র নির্গত বা বাইরে বেড়িয়ে আসা পদার্থ হলো জলীয় বাষ্প। ফলে এটি ডিজেল বা জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক ব্যবস্থার তুলনায় অনেক বেশি পরিবেশবান্ধব। ফলে বিশ্বজুড়েই এটি আধুনিক রেলব্যবস্থার সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভারতীয় রেল এর পাইলট প্রকল্পের জন্য জিন্দ-সোনিপত রুটকে বেছে নিয়েছে। জিন্দে ট্রেনটির জন্য সম্পূর্ণ স্বদেশি হাইড্রোজেন সংরক্ষণ ও রিফুয়েলিং পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। হাইড্রোজেন ট্রেন ও প্ল্যান্টের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত নির্দেশিকা অনুমোদন করেছে রিসার্চ ডিজাইন এন্ড স্ট্যান্ডার্ডস অর্গানাইজেশন।
হাইড্রোজেনভিত্তিক রেল প্রযুক্তি এখনও বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের কাছে নতুন। তাই এই প্রযুক্তি নির্ভর ট্রেন চালাতে নিরাপত্তায় বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। ভারতীয় রেল এই প্রকল্পে একাধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে— হাইড্রোজেন রিফুয়েলিং ব্যবস্থার ২৪ ঘণ্টা নজরদারি। নিয়মিত পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণ। পাশাপাশি হাইড্রোজেন লিক ডিটেক্টর এবং ফ্লেম ডিটেক্টরসহ আধুনিক নিরাপত্তা সেন্সর স্থাপন ও গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রশিক্ষিত ও প্রত্যয়িত কর্মীদের নিয়োগও করা হচ্ছে। জানা যাচ্ছে প্রাথমিক পর্যায়ে ট্রেনের সঙ্গে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রযুক্তিবিদরা থাকবেন, যাতে পরিষেবা নির্বিঘ্নে পরিচালিত হয়।
ভারতীয় রেল ইতিমধ্যেই তাদের প্রায় ১০০ শতাংশ নেটওয়ার্ক বিদ্যুতের সঙ্গে যুক্ত করেছে, যার ফলে কার্বন নিঃসরণ অনেকটাই কমেছে। এবার হাইড্রোজেন প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রেন নিজেই চলার জন্য তার প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। ভারতীয় রেলের নেট-জিরো কার্বন নির্গমন লক্ষ্যের দিকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইড্রোজেন প্রযুক্তির সফল ব্যবহার ভবিষ্যতে ভারতের পরিবহণ ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা করতে পারে। দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন সেই পরিবর্তনেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
তথ্যঃ প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো
পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদের সামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]


0 মন্তব্যসমূহ