খোশখবর ডেস্কঃ মহাবিশ্ব ঠিক কত বড় বা এর শেষ সীমানাটা কোথায় জানতে গেলে আমাদের আগে জানা দরকার মহাবিশ্বের পেটের ভেতরে আসলে আছে টা কী? জ্যোর্তিপদার্থ বিজ্ঞানীদের ব্যখ্যা অনুযায়ী মহাবিশ্বে রয়েছে আনুমানিক ২০০ বিলিয়ন বা ২০ হাজার কোটি থেকে ২ ট্রিলিয়ন বা ২ লক্ষ কোটি গ্যালাক্সি। প্রতিটি গ্যালাক্সিতে রয়েছে আবার কোটি কোটি নক্ষত্র। রয়েছে গ্রহ থেকে গ্রহাণু, ব্ল্যাক হোল, নীহারিকা, ধূমকেতু, ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি।
আমাদের পৃথিবী রয়েছে মিল্কিওয়ে নামের একটি গ্যালাক্সিতে, আর সেটিও মহাবিশ্বের অসংখ্য গ্যালাক্সির মধ্যে মাত্র একটি। আর আমাদের সৌরজগত এই মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির এক প্রান্তে পড়ে থাকা এক মাঝারি মাপের তারার ঘরসংসার মাত্র। আর সূর্যের সংসারে পৃথিবীই সেই একমাত্র গ্রহ যেখানে মানুষের মত বুদ্ধিমান জীবের বাস। এই গ্রহে বসেই আমরা জানতে চাইছি মহাবিশ্বের সীমানাটা ঠিক কোথায়?
গুগলে আরও খোশখবর
আপনাকে যদি পৃথিবী ও মহাকাশের সীমানা হিসেব করতে হয় তবে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১০০ কিলোমিটার উপরে অবস্থিত কারম্যান লাইন (Kármán Line)-কেই পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ও মহাকাশের সীমানা ধরা হয়। আবার সূর্য থেকে প্রায় ৩০-৫৫ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট দূরে কুইপার বেল্টকে বিজ্ঞানীরা সৌরজগতের শেষ সীমানা হিসেবে ধরে।
কিন্তু এরপর কী ? বিজ্ঞানীদের বক্তব্য আমরা যদি একটা মহাকাশযান নিয়ে ছুটতে শুরু করি তবে একসময় আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিও পেরিয়ে যাব। মহাবিশ্ব এত বড় যে এক্ষেত্রে জ্যোর্তিবিজ্ঞানীরা দূরত্ব মাপার একক হিসেবে ‘আলোকবর্ষ’ একক ব্যবহার করেন। আলো ১ সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। সেই আলো এক বছরে যত দূর যায়, সেটাই ১ আলোকবর্ষ।
আলোর গতিতে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি পেরোতে কত সময় লাগবে? এক্ষত্রে বোঝা দরকার আমাদের পৃথিবী গ্যালাক্সির ঠিক কেন্দ্রে নয়। আমরা মিল্কিওয়ের কেন্দ্র থেকে প্রায় ২৬ হাজার আলোকবর্ষ দূরে আছি। তাই যদি কেউ আলোর গতিতে চলতে পারে, তাহলে পুরো মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি পেরোতেই সময় লাগবে প্রায়—১ লক্ষ বছর।
মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি পেরোনোর পরও পড়ে থাকে কোটি কোটি গ্যালাক্সি। আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব অনুযায়ী, স্পেস বা মহাশূন্য অদ্ভুতভাবে বাঁকানো। ফলাফল, আপনি যদি একটি সরলরেখা বরাবর অনন্তকাল ভ্রমণ করেন, তবে আপনি কোনো শেষ প্রান্তে পৌঁছাবেন না। বরং পৃথিবীর উপরিভাগের মতো ঘুরে আবার আগের জায়গাতেই ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
তা হলে মহাবিশ্বের শেষ ও তার ওপাশে কী আছে তা আমরা জানব কী করে? মহাবিশ্ব অসীম নাকি সসীম —তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, আধুনিক বিজ্ঞান মনে করে মহাবিশ্বের কোনো নির্দিষ্ট বা ভৌত শেষ সীমানা নেই। এটি প্রতিনিয়ত সবদিকে প্রসারিত হচ্ছে, যার ফলে কোনো নির্দিষ্ট ‘দেওয়াল’ বা প্রান্ত খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। কিছু তত্ত্ব অনুযায়ী বহু মহাবিশ্ব বা ‘মাল্টিভার্স’-ও থাকতে পারে।
বরং আমরা পৃথিবী থেকে টেলিস্কোপের মাধ্যমে মহাবিশ্বের যতটুকু অংশ দেখতে পাই, সেটাই পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্বের সীমা হিসেবে মানা হয়। কেন এর বাইরে দেখা যায় না? বিগ ব্যাং মডেল অনুযায়ী, মহাবিশ্বের বয়স প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বা ১৩৮০ কোটি বছর। এর বাইরের আলো এখনো আমাদের কাছে পৌঁছানোর সময় পায়নি, তাই তার ওপাশে কী আছে তা আমাদের অজানা।
পিন্টারেস্টে ‘খোশখবরের’ আশ্চর্য দুনিয়া।ক্লিক করুন এই লিঙ্কে
[ছবি সৌজন্যঃ খোশখবর সাইটে ব্যবহৃত ছবিগুলি নেওয়া হয়েছে পিক্সাবে, আনস্প্ল্যাস, ফ্রিপিক, উইকিমিডিয়া কমন্স, গুগল ফটো সহ বিভিন্ন নিজস্ব সূত্র থেকে]
[ জ্ঞান বা তথ্যের কোনও কপিরাইট হয় বলে আমরা মনে করি না। পৃথিবীর বুকে প্রকাশিত অগুনতি বই, লাইব্রেরিতে ঠাসা সমুদ্র সমান জ্ঞান, অন্তর্জালে ছড়িয়ে থাকা আকাশ সমান তথ্য থেকে দু-একটি তুলে এনে পাঠকদের সামনে রাখাই এই ব্লগসাইটের কাজ। তবে জ্ঞানত কোনও ভুল,বিকৃত বা অন্ধ ভাবনার তথ্য প্রকাশ করবে না ‘খোশখবর’।]

0 মন্তব্যসমূহ